চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৫ জুলাই, ২০১৯ | ১:১২ পূর্বাহ্ণ

ডা. প্রীতীশ বড়ুয়া

আঙুলের ফাঁকে ছত্রাক সংক্রমণ

হাত এবং পায়ের আঙুলের মধ্যবর্তী স্থানে ছত্রাক জনিত চর্মরোগটি আমাদের দেশে খুব বেশি দেখা যায়। স্থানীয় ভাষায় এটিকে ‘পাউক্কা’ নামেও ডাকা হয়। ছত্রাক জীবাণুর ডারমাটোফাইট প্রজাতি এই রোগের জন্য দায়ী। কিছু কিছু অনুকূল পরিবেশের কারণে এই জীবাণুটি মহানন্দে আমাদের হাতে পায়ে আক্রমণ করে বসে। গরম, আর্দ্র আবহাওয়ায়, পানি কাদামাটির অতি স্পর্শে কিংবা পরিচ্ছন্নতার অভাবে আঙুলের ফাঁকে সর্বদাই স্যাঁতস্যাঁতে ভাব- অনুকূল পরিবেশগুলির মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে, ডায়াবেটিস, শরীরের রোগ-প্রতিরোধে ঘাটতি আনে এমন সব রোগ, স্টেরয়েড সহ ইমিউনো-সাপ্রেসিভ কিছু ঔষধ, হাত পা ঘামা রোগ, বাধাগ্রস্থ পেরিফেরাল রক্ত চলাচল, লিম্ফোডেমা, ইত্যাদি। আমাদের দেশে সাধারনত পুরুষরা পায়ে এবং মহিলারা হাতে বেশি আক্রান্ত হন। ডাক্তারি ভাষায় হাত ও পায়ের এই চর্মরোগটিকে যথাক্রমে টিনিয়া ম্যানাম ও টিনিয়া পেডিস নামে অভিহিত করা হলেও এগুলি মূলত একই, তবে রোগের চিত্র ও বিস্তারে একটু ভিন্নতা থাকতে পারে। এই চর্মরোগটিকে ছোঁয়াচে বলা যায়। নিজের শরীরের অনান্য অঞ্চলসহ সরাসরি স্পর্শে অন্যকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। খাদ্যের সাথে এটির কোন সম্পর্ক নাই।
হাত ও পায়ের এই ছত্রাক রোগটি সাধারণত এক সাইডেই হয়ে থাকে। উভয় সাইডে হলেও সদৃশ্যপূর্ণ থাকেনা। প্রাথমিক ভাবে আক্রান্ত স্থান সাদাটে খসখসে বা খোসাযুক্ত হয় সেইসাথে একটু ভেজা বা আঠালো রস থাকতে পারে। চুলকানির জন্য খোসা ছিলে গিয়ে লালাচে ঘায়ে পরিণত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। আবার অনেকসময় ফুসকুড়ি বা ফোস্কা উঠে ক্ষত হয়ে যায়। আর মড়ার উপর খাড়ার ঘা এর মতন ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ ঘটলে তীব্র ব্যথা নিয়ে প্রদাহ দেখা দেয়। আঙুলের মধ্যস্থান ছাড়াও এই চর্মরোগের বিস্তার কিন্তু উপরীতলসহ হাত ও পায়ের তালুর যেকোন স্থানে দেখা দিতে পারে।
প্রতিরোধ এবং প্রতিকারে প্রথম নির্দেশনাই হচ্ছে, আঙুলের মধ্যস্থান সহ হাত পা যাতে স্যাঁতস্যাঁতে ভেজা না থাকে। ভিজলেও বার বার মুছে শুকিয়ে নিতে হবে। পানি, কাদামাটি, ছাই ডিটারজেন্ট ইত্যাদির স্পর্শ যাতে দীর্ঘস্থায়ী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতি টাইট বা ভেজা জুতা মোজা পরা ও খালি পায়ে হাঁটা কোনটাই কাম্য নয়। ডায়াবেটিস ও উপরে উল্লে¬খিত অনান্য রোগসমূহ যথাযথ নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। প্রতিকারক চিকিৎসায় ৪-৬ সপ্তাহ ব্যাপী এন্টিফাংগাল মলম ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজনে মুখে খাবার এন্টিফাংগাল ঔষধও দেওয়া যেতে পারে। আর ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটলে এন্টিবায়টিক প্রয়োজন।

The Post Viewed By: 134 People