চট্টগ্রাম সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

৭ আগস্ট, ২০১৯ | ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

নৈতিক অবক্ষয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

আ মা দের নৈতি ক অব স্থার চরম দু:সময় চলছে। পরকীয়া, বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সংষ্কৃতি, পর্নআসক্তি, প্রেমের নামে বেলাল্লাপনা, সিনিয়র সিটিজেনদের প্রতি অশ্রদ্ধা, পারষ্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা, আত্মহত্যাসহ যেসব ঘটনা এখন ঘটছে তা কেবল এই নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই। তাছাড়া চলমান খুন, ধর্ষণ, পিঠিয়ে মানুষ মারার দৃশ্যগুলো হতবাক করছে সব সচেতন মানুষকে। কেন এই অবস্থা? প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, খুনসহ নানা অপরাধ প্রতিদিনকার খবরের শিরোনাম হচ্ছে। ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে পারছে না শিশুটিও। অপরাধ করেও অপরাধীর কোন অনুশোচনা নেই। হয়ে উঠছে আরো বেপরোয়া, উচ্ছৃংখল। প্রভাবশালী হলে তো কথাই নেই। থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা যাচ্ছে না ওদের। সারাদেশে অনুসন্ধান করলে আরো ভয়ংকর ও অনৈতিক অপরাধের কথা বের হয়ে আসবে বলে মনে করি। কিছু তরুণ, যুবকের পাশাপাশি কিছু নারীও ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক নিজেদের অপরাধের সাথে যুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর সবগুলোর মূলে রয়েছে পরিবার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের পরিবেশ গড়ে না উঠা। ধর্মীয় শিক্ষা তো কোন এক সময় বিলুপ্তই হয়ে যাবে! অথচ পরিবারে যদি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সন্নিবেশ ঘটে, কোনদিন সে পরিবারের সন্তান খারাপ চরিত্রের অধিকারী হবে না। পরিবার এবং সমাজের পরিবেশ অনৈতিকতায় ভরে থাকবেই বা না কেন যেখানে হাতের কাছেই পাওয়া যাচ্ছে অপরাধের সব উপকরণ। যে সমাজে অশ্লীলতা ও অনৈতিকতার উপাদান, মদ, জুয়া, নেশাজাতীয় দ্রব্যের সহজলভ্যতা থাকবে সেখানে তো অপরাধ সংঘঠিত হওয়ারই কথা! বিলুপ্ত হওয়ার কথা শ্রদ্ধাবোধ, সম্মান ইত্যাদির। সেখানে জেঁকে বসবে অপরাধ।
অনৈতিকতা আর অশ্লীলতা যেন দিন দিন স্বাভাবিকতা পাচ্ছে। সেগুলো যেন কোন অপরাধই নয়।সহজভাবে বলছেও ওরা। অনৈতিক এসব কর্মকা-ের সাথে জড়িতদের বাঁচানোর চেষ্টাও হয়। এসব দেখে সচেতন মানুষ ক্ষুব্ধ, হতাশ। প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না তাদের।
সন্তানকে অযৌক্তিক প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলতে হবে কেন? তাকে কি নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার কোনই দরকার নেই? এসব নিয়ে প্রত্যেক পিতা-মাতা, অভিভাবককে ভাবতে হবে। যে সন্তান নেশা আর অশ্লীলতার দিকে ঝুঁকবে সে সন্তান পরবর্তী সময়ে সমাজ ও দেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। বড় হলে কোনভাবেই আর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। অর্থ-বিত্ত, সন্তান-সন্ততি মানুষকে অহংকারী করে তোলে আবার ভাল পথে চলার সুযোগও থাকে। দুটি পথের মাঝে ভালো পথটিই বেছে নিতে হবে নিজের জন্য,পরিবার ও সমাজের জন্য।
নৈতিক অবক্ষয়ের চরম এই দু:সময়ে সমাজকে রক্ষা করার উপায় বের করতে হবে। রক্ষা করতে হবে পরিবারকে। বাড়াতে হবে সচেতনতা। রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে। এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে কঠোর আইন করার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে চরিত্রধ্বংসকারী সব উপাদান, উপকরণ যেন মানুষের কাছে না পৌঁছে। ইন্টারনেটের সব অশ্লীল সাইট ও পেজ ডিলিট করে দিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে প্রতিটি শ্রেণিতে নৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়কে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সরকারের পাশাপাশি মা-বাবা, অভিভাবক, সচেতন সব মানুষকে এসব অনৈতিকতা ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান নিতে হবে। নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। সবাই মিলে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি নৈতিক মূল্যবোধের, কল্যাণের সমাজ বিনির্মাণ করতে পারি।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

The Post Viewed By: 79 People

সম্পর্কিত পোস্ট