চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

২৮ জুলাই, ২০১৯ | ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ আবদুস শাকুর হ শারজাহ, ইউএই

প্রবাসীরা দেশের সম্পদ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী উনার সফরকালে বলেছেন, প্রবাসীরা দেশের সম্পদ। তিনি ঠিকই বলেছেন। সরকারের প্রধান হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান কতটুকু নিশ্চয় উনার অজানা নয়।আর আরেকটি ব্যাপার হল তিনি এই কথাটা বলেছেন মধ্য প্রাচ্যে, যেখানে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রবাসির অবস্থান। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে ২৮ লাখ বাংলাদেশি মধ্যে প্রাচ্যে অবস্থান করে।সৌদি আরবে১২ লাখ, আমিরাতে ৭-৮ লাখ, কুয়েতে ৫ লাখ ৫ হাজার ৪৭ জন ২০১৬ পর্যন্ত। কাতারে ২ লাখ ৮০ হাজার, ওমানে ২০১৬ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত এনসিএসআই’র তথ্যমতে ৬ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৮১জন এবং বাহরাইনেও রয়েছে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে। সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বিতীয় র‌্যামিটেন্স প্রেরণকারী দেশ বলে জানিয়েছে সাম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী তার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে। যাক মূল কথায় আসি। প্রবাসিরা কেন সম্পদ তার কিঞ্চিৎ একটি বিবরণ দেয়া হল।
প্রবাসিরা দেশের প্রতিটি কর্মকা-ে অবদান রাখে বিভিন্ন ভাবে। শিক্ষা-সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবাসিরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলছে। অনেক প্রবাসি দেশে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে থাকেন, এটি একদিকে যেমন সেবা অন্যদিকে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্ঠি। সাহিত্যেও বিচরণ করে প্রবাসিরা সমান তালে। প্রবাসি সাংবাদিক ওবাইদুল হক মানিকের কাব্য গ্রন্থ ‘মহৎরাজা’, আরেক সাংবাদিক রফিক উল্লার একটি কাব্য গ্রন্থ এসেছে বইমেলায় যেটির নাম ‘অনেক দিন পর’। আরো কয়েক জনের বই এসেছে বই মেলায়। আরব আমিরাতে প্রবাসিদের মধ্যে সাহিত্য চর্চা করেন নিয়মিত মাওলানা আবছার তৈয়বী, ইঞ্জিনিয়ার আবু নাছের,আবদুল্লাহ শাহিন, কামরুল হাসান জনীসহ আরো অনেকেই। পেশাগত দায়ীত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় উনারা বই, নিবন্ধ লিখেছেন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। এখানেও অনেকের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এভাবে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রবাসিদের দ্বারা সাহিত্য চর্চা হচ্ছে যা সাহিত্য জগত কে সমৃদ্ধ করছে। উন্নয়ন কর্মকা-ে অবদান গুলুর মধ্যে যেমন ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে তোলা, মিল কারখানা প্রতিষ্ঠা করা, আমদানি রপ্তানি করে আন্তর্দেশীয় বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি করে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, দেশে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে ইত্যাদি। এখানেও অনেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি ব্যাবসায়ী রয়েছে। এদেশের সরকার কর্তৃক পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে এমনও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি যেই সেক্টরে অবদান রাখে তা হল রেমিটেন্সে। গতবছরে বিডি নিউজ এর তথ্যমতে ২০১৮ -২০১৯ অর্থবছরের রেমিটেন্স ছিল প্রথম সাত মাসে (জুলাই -জানুয়ারি) প্রায় ৯.০৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭-২০১৮ সালে ছিল রেমিটেন্স এসেছে ৮.৩১ বিলিয়ন ডলার। জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ১২%।
জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত বিশ্ব অভিবাসী রিপোর্ট ২০১৫ অনুযায়ী বাংলাদেশ ৯ম তম রেমিটেন্স গ্রহণকারী দেশ। প্রথম আলোর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২১.৮৫ শতাংশ যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের পাশাপাশি বিদেশেও অবদান রাখছে। ব্রিটিশ সংসদে ৩ বাংলাদেশী এমপিসহ অসংখ্য প্রবাসী বিভিন্ন সেক্টরে সফল। সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে বাংলাদেশের একজন ছাত্রী আনিশা ফারুক সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
বলা যায়, নিজ দেশ ও অবস্থানরত দুই দেশের অর্থনীতিতেই প্রবাসিরা অবদান রেখে চলছে। দেশের সম্পদ হিসাবে বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে প্রবাসিদের সম্মান দিয়েছেন, ঠিক একইভাবে সকলেরই উচিত প্রবাসীদের সম্মান দেয়া

The Post Viewed By: 440 People

সম্পর্কিত পোস্ট