চট্টগ্রাম সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

৫ আগস্ট, ২০১৯ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ আবু নাসের

শিশু পরিচালনার নীতিমালা

উপযুক্ত পরিবেশ পেলে শিশু কম বিরক্ত করে এবং সে তার সময় আনন্দে কাটায়। স্কুলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত খেলাধুলাই শিশুর প্রধান কাজ। গৃহে শিশুর জন্য নিরাপদ খেলার স্থান ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা থাকতে হয়। এজন্য দামি খেলনা বা ব্যয়বহুল উপকরণের প্রয়োজন হয় না। স্বল্প ব্যয়ে বা বিনামূল্যে শিশুর খেলার উপকরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেমন গাছের পাতা, প্লাস্টিক সামগ্রী, কাগজের বাক্স ইত্যাদি। এছাড়া শিশুদের গান, ছড়া, গল্প শোনানো, তাদের সাথে খেলা করা, তাদের নতুন কিছু দেখতে, শুনতে, ধরতে, করতে স্বাদ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য বয়স উপযোগী সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

অনেক শিশু বিজ্ঞানী জন্মের মুহূর্তে শিশুকে সাদা কাগজের সাথে তুলনা করেছেন। সাদা কাগজে যেভাবে একটি ছবি আঁকা হয় ছবিটি সেভাবেই রূপ লাভ করে। ঠিক তেমনি নবজাত শিশুর জীবনে কোন অভিজ্ঞতা থাকে না। সে তার চারপাশের পরিবেশ থেকে যে ধরনের অভিজ্ঞতা পায় সেভাবেই আচরণ করতে শেখে। সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে যেমন একটি শিশুকে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা যায় ঠিক তেমনি সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে শিশুর মধ্যে অনেক ধরনের আচরণঘত সমস্যা তৈরি হতে পারে যা তার বর্তমান ও ভবিষ্যত বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। শিশুরা কাদামাটির ন্যায়। সঠিক পরিচালনার মাধ্যমে শিশুটিকে মনমতো ছাঁচে গড়ে তোলা যায়, শিশুর সামর্থ্য বাড়ানো যায়। এজন্য শিশু পরিচালনার নীতি জানা জরুরি।
শিশুর সামনে আদর্শ আচরণ উপস্থাপন : শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। যারা তাদের কাছাকাছি থাকে তাদের আচরণ অনুকরণ করে। শিশুদের যা যা করতে বলা হয় বা যা যা করতে নিষেধ করা হয় তার চেয়ে পরিবারের সদস্যরা যা যা করেন, সেগুলোই তারা অনুকরণ করে। এ কারণে শিশুর সামনে ভালো আচরণ উপস্থাপন করা দরকার। কোন আচরণ শেখাতে হলে বড়দের সেই আচরণে অভ্যস্ত হতে হয়। আবার কোন আচরণ করতে নিষেধ করা হলে বড়দের ও সেই আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
শিশুকে প্রশংসা করা : প্রশংসা শিশুদের ক্ষমতাকে বাড়ায়। সাফল্যের অভিজ্ঞতা দেয়। কিভাবে অন্যদের প্রশংসা করতে হয় তা শেখায়। শিশুর কাজের ভালো দিকগুলো যদি তুলে ধরা হয় তবে তার আত্মবিশ^াস বাড়ে। নিজ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা হয়। সে বুঝতে পারে যে, সে অনেক কিছু করার ক্ষমতা রাখে।
শিশুকে শাস্তি না দেওয়া : শিশুর কাজের জন্য শাস্তি দিলে তা শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শাস্তি দুই ধরনের হয় – শারীরিক ও মানসিক। শারীরিকভাবে আঘাত করা, মারা, খেতে না দেওয়া ইত্যাদি শারীরিক শাস্তি। মানসিক শাস্তি হল শিশুকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করা, বকাবকি করা, দোষারোপ করা, মনোযোগ না দেওয়া, লজ্জা দেওয়া, ঘরে বন্দী করে রাখা ইত্যাদি। শিশুকে যে কোন ধরনের শাস্তি দেওয়া হোক না কেন তা শিশুর আত্মবিশ^াস কমায়, শিশু ভীত এবং লাজুক হয়ে গড়ে ওঠে।
শিশুর জন্য হাঁ বলা : শিশুকে হ্যাঁ বলা অর্থ তাকে ইতিবাচকভাবে পরিচালনা করা। শিশুদের প্রতি যে কোন আদেশ বা নির্দেশ সবসময় ইতিবাচকভাবে বলা। নেতিবাচকভাবে নির্দেশ না দেওয়া, বড়দের ইতিবাচক উক্তি, মন্তব্য শিশুকে নিজের প্রতি আস্থাশীল করে তোলে, সে সফল হওয়ার চেষ্টা চালায়। তাকে কাজ করতে উৎসাহিত করে।
শিশুর সাথে ভাব বিনিময় : শিশুর সাথে কথা বলার সময় গলার স্বর আস্তে ও নরম এবং ভাষা সহজ হতে হয়। জোরে ও কর্কশ স্বরে কথা বললে শিশু ভয় পায়, তাকে এড়িয়ে চলে। শিশুর সাথে কথা বলার সময় শিশুর মনের ভাব বুঝতে চোখে চোখ রেখে বন্ধুর ন্যায় কথা বলতে হয়। তাহলে শিশুকে বোঝা সহজ হয়। শিশুর সাথে কথা বলতে একজন ভালো শ্রোতা হতে হয়। যেমন মনোযোগ দিয়ে তার ক থা শোনা, কথার মাঝে বাধা না দেওয়া, ভালোভাবে বোঝার জন্য প্রশ্ন করা ইত্যাদি।
শিশুর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি : উপযুক্ত পরিবেশ পেলে শিশু কম বিরক্ত করে এবং সে তার সময় আনন্দে কাটায়। স্কুলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত খেলাধুলাই শিশুর প্রধান কাজ। গৃহে শিশুর জন্য নিরাপদ খেলার স্থান ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা থাকতে হয়। এজন্য দামি খেলনা বা ব্যয়বহুল উপকরণের প্রয়োজন হয় না। স্বল্প ব্যয়ে বা বিনামূল্যে শিশুর খেলার উপকরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেমন গাছের পাতা, প্লাস্টিক সামগ্রী, কাগজের বাক্স ইত্যাদি। এছাড়া শিশুদের গান, ছড়া, গল্প শোনানো, তাদের সাথে খেলা করা, তাদের নতুন কিছু দেখতে, শুনতে, ধরতে, করতে স্বাদ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য বয়স উপযোগী সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ : শিশু পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শিশুর মনস্তাত্ত্কি চাহিদা পূরণ করা ও শিশুকে সুখী করা। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা থাকে যেগুলোকে ইংরেজি ঞযৎবব অ’ং ভড়ৎ যধঢ়ঢ়রহবংং দিয়ে এবং বাংলায় সুখের ৩টি ‘স’ দিয়ে বোঝানো হয় :
স- স্বীকৃতি অ – অপপবঢ়ঃধহপব
স – ¯েœহ অ – অভভবপঃরড়হ
স – সাফল্য অ – অপযরবাবসবহঃ
স্বীকৃতি : সকল শিশুর চেহারা, বৈশিষ্ট্য, গুণাবলি একরকম হয় না। কেউ যদি দেখতে সুন্দর হয় তবে সকলে তাকে সাদরে গ্রহণ করে। এখানে স্বীকৃতি অর্থ শিশু যেভাবে আছে সেভাবেই তাকে গ্রহণ করা বোঝায়। শিশুটি দেখতে ভালো বা খারাপ, পঙ্গু বা স্বাভাবিক, বুদ্ধি কম বা বেশি, ছেলে বা মেয়ে যে অবস্থায় থাকুক তাকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে। শিশুটি যেমন ঠিক তেমণভাবে তাকে গ্রহণ করা, তার গুণাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়া ও সেভাবে উৎসাহ দিলে শিশু সুখী থাকে।
¯েœহ : প্রত্যেক শিশুর মধ্যে ¯েœহ, মমতা, ভালোবাসার চাহিদা থাকে। শিশুর যত্ন, পরিচর্যা, তাকে সময় দেওয়া, কিছু শেখানো ইত্যাদি সবকিছুই যদি আদরের সাথে হয়, তাহলে শিশুর মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি আসে। তখন সে তার পরিবেশকে ভয় পায় না।
সাফল্য : প্রত্যেক শিশু সফলতা চায়। সে কোন কাজ পারলে খুশি হয়। এজন্য শিশুর ভালো কাজ বা কাজের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা হলে সে নিজের শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে বা বুঝতে পারে যে, সে কি পারে। এই উৎসাহ তাকে সফলতার অভিজ্ঞতা দেয় এবং শিশুটি পরিতৃপ্ত ও সুখী থাকে।

The Post Viewed By: 270 People

সম্পর্কিত পোস্ট