চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

৯ আগস্ট, ২০১৯ | ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নির্বিঘœ হোক ঈদযাত্রা

ঘনিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এবারের ঈদুল আজহার সময়টি বাংলাদেশের জন্য বড়ই দুঃসময় বলা যায়। কেননা এখন ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জরের ভয়াবহ প্রকোপ, অপরদিকে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বিশটিরও অধিক জেলা বন্যায় প্লাবিত। ঘরে ডেঙ্গু আর বাইরে বৃষ্টি বা বন্যার দুর্যোগের মধ্যেই এবারের ঈদ উদযাপন করতে যাচ্ছে দেশের মানুষ। তাই ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে লাখ-লাখ মানুষের বাড়ি ফেরা এবং ঈদ শেষে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান নিয়ে শঙ্কাও একটু বেশি।
প্রতিবছর ঈদ আসলেই মানুষের মনে বেড়ে যায় নানাবিধ ভোগান্তির শঙ্কা। আগাম টিকেট কেনার লড়াই দিয়ে শুরু হয় ভোগান্তি। তারপর যাত্রাপথে ট্রেন, বাস বা লঞ্চ সময়মতো ছাড়বে কিনা সেই শঙ্কা শুরু। শুধু তাই নয় পথের যানজট, দুর্ঘটনা ইত্যাদি পেরিয়ে সুস্থ শরীরে সময়মতো নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পারার টেনশান তো রয়েই যায়। বছরের পর বছর চলতে থাকা এই হযবরল অবস্থাকে দেশের মানুষ অনেকটা নিয়তি হিসেবে যেন মেনে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সামগ্রিক ভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থা এখনো অনেক দূরে। গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার মানসিকতা, ট্রাফিক নৈরাজ্য, ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল, অদক্ষ ড্রাইভার দিয়ে গাড়ি চালানো, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও সংস্কারকাজ সড়কে বেহাল দশা সৃষ্টি করে। ঈদযাত্রার জন্য সড়ক, নৌ ও রেলপথের আগাম টিকেট বিক্রি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ঈদুল ফিতরের সময় মোবাইল অ্যাপস বা অনলাইনে টিকেট কিনতে ভোগান্তি হওয়ায় এবার অনেকেই আর সেই ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয়। তাই প্রথম দিন থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল টিকেট কিনতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভীড়।
বন্যার কারণে এবার নৌপথে যাত্রা বিঘœ ঘটার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন নদীর পানি এখনও বিপদ সীমার উপরে চলাচল করছে। অত্যধিক স্রােতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যহত পারে। বিভিন্ন মালবাহী জাহাজ, বালুবাহী বাল্কহেড, ট্যাংকার, লঞ্চ, কোস্টার বার্জ ইত্যাদি চলাচল ঈদের আগে থেকে শুরু করে ঈদের ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সাথে সাথে নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন প্রতিরোধে পুলিশ, কোস্টগার্ড সহ প্রাশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এবারের বন্যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক সড়ক-মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এমনিতে ঈদের সময়ে এত যানবাহন চলাচলের চাপ নেয়ার মতো সক্ষমতা নেই আমাদের সড়ক-মহাসড়ক গুলোর। পাশাপাশি নগরীর প্রবেশমুখ, সড়কের সংযোগ ও ইন্টারসেকশন গুলোতে উপযুক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থার অভাব এবং ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী ভাবে গড়ে উঠা পশুর হাট গাড়ির স্বাভাবিক গতি রোধ করে যানজটের সৃষ্টি করে। তাই ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে এসব ব্যাপরে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহ জাতীয় মহাসড়কে চিহ্নিত ৩৬৫টি ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সকল ধরনের সতকর্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

শাহাদাৎ হোসেন খান
সৌদি আরব

The Post Viewed By: 117 People

সম্পর্কিত পোস্ট