চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৮ জুলাই, ২০১৯ | ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম হ টেকনাফ

পৃথক ঘটনায় একজনের লাশ উদ্ধার টেকনাফে

বন্দুকযুদ্ধে নারীসহ নিহত ৩

টেকনাফে পুলিশ ও বিজিবির সাথে পৃথক বন্দুক যুদ্ধে মহিলাসহ ৩ মাদক পাচারকারী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে নিহত হয়েছেন। এতে বিজিবির ৩ জন সদস্য আহত হন। এদিকে পাহাড়ে গরু চরাতে গিয়ে নিখোঁজ থাকা এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, ১৭ জুলাই ভোর পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ জাদিমোরায় বাজারের পূর্ব পার্শ্বে মাঠে ইয়াবার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গোলাগুলির খবর পেয়ে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল যায়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ২টি এলজি, ৮ রাউন্ড তার্জা কার্তুজ, ১২ রাউন্ড খালি খোসা ও ৫ হাজার ইয়াবাসহ পশ্চিম জাদিমোরার ছমি উদ্দিনের স্ত্রী হামিদা বেগমকে (৩২) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নারী মাদক মামলার আসামি ছিল। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ‘১৭ জুলাই ভোর রাত ৪টায় টেকনাফ মডেল থানাধীন হ্নীলা ইউপিস্থ জাদিমুড়া বাজারের পূর্ব দিকে নাফ নদী সংলগ্ন খালি জায়গায় ইয়াবা বন্টনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলাগুলি হয়। উক্ত সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে দ্রুত থানা হতে অতিরিক্ত অফিসার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তাদের নিবৃত করার লক্ষে ১৫ রাউন্ড পাল্টা গুলি করে। এক পযার্য়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একজন মহিলাকে গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। উপস্থিত স্থানীয় লোকজন, দফাদার ও গ্রাম পুলিশের শনাক্ত মতে পশ্চিম জাদিমোরার ছমি উদ্দিনের স্ত্রী হামিদা বেগম (৩২) বলে জানা যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশিকালে আসামিদের ফেলে যাওয়া ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ২টি এলজি, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১২ রাউন্ড খোসা, ৫০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে জরুরী ভিত্তিতে গুলিবিদ্ধ হামিদাকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। থানার রেকর্ডপত্র সিডিএমএস পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং- ৩২, তারিখ- ১৩/০৭/২০১৯ খ্রিঃ, ধারা- ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ৩৬ (১) এর ১০ (গ)/৪১/৩৮ এর এজাহারে অভিযুক্ত।
এদিকে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান পিএসসি জানান, ‘১৭ জুলাই রাতের প্রথম প্রহরে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দমদমিয়া বিওপির বিজিবি জওয়ানেরা মাদকের চালান খালাসের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাদিমোরা প্যাগোডার পূর্ব পার্শে শিকল ঘাটায় অবস্থান নেয়। এসময় মাদক কারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ করলে বিজিবির নায়েক মো. রেজাউল (৪০) সিপাহী মো. মতিউর রহমান (২৪), ইমরান হোসেন (২৩) আহত হয়। বিজিবিও আত্নরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল হতে শরীরে বাধা অবস্থায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি দেশীয় লম্বা বন্দুক, ৩ রাউন্ড কার্তুজ এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ২জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের পকেটে থাকা আইডি কার্ডের বর্ণণা মতে নিহতরা যশোরের কোতোয়ালী থানার বসুন্দিয়া গ্রামের মো. জব্বার আলীর পুত্র জাবেদ মিয়া (৩৪) ও চাঁদপুরের মতলব থানার চরমুকুন্দী গ্রামের মো. রেজোয়ান সওদাগরের পুত্র মো. আসমাউল সওদাগর (৩৫) বলে জানা যায়। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদান করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত বিজিবি জওয়ানদের টেকনাফ হাসপাতালে চিকিৎসার দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ১৭ জুলাই সকাল ৮টায় হ্নীলা রঙ্গিখালী পাহাড় হতে গরু চরাতে গিয়ে নিখোঁজ থাকা স্থানীয় মৃত আব্দুস সাত্তারের পুত্র আবুল হাশেম (৫০) এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন হার্টস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। আবুল হাশেম ৭ জন ছেলে- মেয়ের জনক।

The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট