চট্টগ্রাম সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৭ জুলাই, ২০১৯ | ২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ মিনিটের পথ তিনঘণ্টা!

বন্দর সংলগ্ন ও বিমানবন্দর অভিমুখী সড়কে তীব্র যানজট অসহনীয় ভোগান্তি বন্দরকেন্দ্রিক পরিবহন কর্মকা-ে স্থবিরতা

নিরাপত্তাজনিত কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশের ‘পাস’ ইস্যুতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করায় বন্দর সংলগ্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কজুড়ে বন্দরকেন্দ্রিক পণ্যবাহী গাড়ির কারণে গত কয়েকদিন ধরে মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন ও বিমানবন্দর অভিমুখী সড়কে তীব্র যানজটের কারণে রপ্তানি পণ্যবাহী চালান প্রাইভেট আইসিডিগুলোতে যথাসময়ে প্রেরণ করা যাচ্ছে না এবং চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ স্টক লটে পরিণত হয়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে রপ্তানিকারকদের। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নগর পুলিশ কমিশনারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আকুল আবেদন জানিয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর আগ্রাবাদ থেকে শুরু করে বারিক বিল্ডিং, ফকিরহাট, নিমতলা, পোর্ট কানেক্টিং রোড, টোল রোড, বড়পুল, কাস্টম মোড়, সল্টগোলা, ইপিজেডসহ বিমানবন্দর সড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বন্দরকেন্দ্রিক এসব পণ্যবাহী গাড়িগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় টার্মিনাল না থাকায় যানজট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এতে ৩০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে সময় লাগছে তিন ঘণ্টা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি।
যানজটের এ চিত্র কেবল গতকালের নয়। গত প্রায় এক সপ্তাহজুড়ে বন্দরকেন্দ্রিক সড়কগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে মানুষের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে তেমনই নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। যানজটের কারণে ইপিজেডের অধিকাংশ পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হতে পারছে না। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট ধরতে পারছে না যাত্রীরা। তাই তীব্র এ যানজটের প্রভাব পড়েছে গার্মেন্টস খাতেও।
গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী সড়কের যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম।
চিঠিতে বিজিএমইএ’র এ নেতা বলেন, সম্প্রতি অতিবর্ষণে জলবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন ও বিমানবন্দর অভিমুখী সড়কে তীব্র যানজটের কারণে রপ্তানি পণ্যবাহী চালান প্রাইভেট আইসিডিগুলোতে যথাসময়ে প্রেরণ করা যাচ্ছে না এবং চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ স্টক লটে পরিণত হয়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জাতীয় রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ।
এসব সমস্যার কারণে বিদেশি ক্রেতারা চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প মালিকদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সভা বাতিলপূর্বক শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষে ঢাকাতে নির্ধারিত ক্রেতাদের সঙ্গে সভায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এমনিতেই চট্টগ্রামে রপ্তানি আদেশ স্বল্পতাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পোশাক শিল্পের দুর্দিন চলছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চট্টগ্রামের বিদেশি বিনিয়োগসহ ব্যবসা-বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মর্মে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্দর চেয়ারম্যানকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পণ্য খালাসে ট্রাক, কার্ভাডভ্যান ও কনটেইনার মুভার চলাচলে নতুন নিয়ম চালুর ফলে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় সময়ক্ষেপণ বন্দর সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ কমিশনারকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় রপ্তানির বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন এলাকা সহ চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত বিমান বন্দরমুখী রাস্তাসমূহ যানজট মুক্তকরণে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ কমিশনারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব ওমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) পাসের কারণে দেড় ঘণ্টা বন্দরের গাড়ি প্রবেশ নিয়ে একটু ত্রুটি ছিল। এখন সড়কে যে যানজট হচ্ছে তার কারণ হচ্ছে, আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে সবাই একসাথে ডেলিভারি নিতে বন্দরে এসেছে। এতে করে বন্দরের পণ্যবাহী গাড়ির প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পরিমাণ অনেকটা বেড়েছে। তাছাড়া বৃষ্টিতে ভেঙে যাওয়া রাস্তাগুলো সংস্কার করার কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পাসের কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হয়নি’।
ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশীদ হাযারী পূর্বকোণকে বলেন, ‘বন্দরে এক একটি গাড়ি প্রবেশ করতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় নেয়। এতে করে রাস্তায় বন্দরকেন্দ্রিক পণ্যবাহী গাড়ির ব্যাপক চাপ বাড়ে। গত কয়েক দিন ধরে এ কারণেই নগরবাসীকে অসহনীয় যানজটে পড়তে হয়েছে। যদি বন্দরের সবগুলো গেট সচল করে এবং আকারে আরো বড় করে গাড়ি প্রবেশ করার ব্যবস্থা করা হয় তাহলেই এ যানজট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমি এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি’।

The Post Viewed By: 530 People

সম্পর্কিত পোস্ট