চট্টগ্রাম রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ জুলাই, ২০১৯ | ২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার

রাতে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, এরা কারা?

কক্সবাজার ফাঁকা গুলিবর্ষণে আতংক নির্ঘুম পাহারা এলাকাবাসীর

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরেই প্রতিরাতে চলছে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও গুলি বর্ষণের ঘটনা। গত একমাস ধরে শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় এমন ঘটনা প্রকাশ্যে দেখেই যাচ্ছেন এলাকাবাসী। রাতে অলিগলিতে দলবেধে বন্দুকের মহড়া এবং মাঝে মাঝে ফাঁকা গুলি বর্ষণে আতংকিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষজন। পৌর এলাকার কলাতলী উত্তর আদর্শ গ্রাম, বহুল আলোচিত ৫১ একরের পিছনে জয়নাল সওদাগরের ঘোনা, সাত্তার ঘোনা, পাহাড়তলী, সমিতি বাজার, ফাতের ঘোনা, বাদশা ঘোনা ও ঘোনার পাড়া এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়া চোখে পড়ে স্থানীয়দের। কয়েক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এই এলাকা থেকে ওই এলাকায় গভীররাতে এসব অপরাধীদের বিচরণ।
তবে স্থানীয়রা বলছে, গত দু’মাস আগেও এমন কিছু দেখা যায়নি। স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত এসব অস্ত্র মহড়াকারীরা।
কলাতলী উত্তর আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, গত ১২ জুলাই রাত ১০ টার দিকে ২০/২৫ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে এলাকায় ঢুকে পড়ে। বাইপাস সড়কের বিকাশ বিল্ডিংয়ের সামনে দিয়ে এলাকায় ঢুকে তারা ৮ থেকে দশটি বসতবাড়ি কোপাতে থাকে। এমন সময় এলাকাবাসীরা ডাকাত বলে চিৎকার করলে তারা এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ১০ জন আহত হন। খবর শুনে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আদর্শগ্রামের পিছনে জয়নাল সওদাগরের ঘোনায় রাত ১১ টার দিকে অবস্থান করে এসব অপরাধীরা। পুলিশও তাদের অবস্থান সর্ম্পকে অবগত হয়েছিল। এসময় তারা ফাঁকা গুলিও বর্ষণ করে।
সর্বশেষ সোমবার (১৫ জুলাই) ভোররাতে ফের আদর্শ গ্রাম এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দেয়। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। এলাকাবাসী ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এলাকার মুরব্বি উত্তর আদর্শ গ্রাম সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নেছারুল হক মেম্বার বলেন, আগে কখনো এলাকায় এমন অস্ত্রের মহড়া বা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া কেউ দেখেওনি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে এমন ঘটনা দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কেউ জানে না এসব অস্ত্রধারীরা কারা। কারা গভীররাতে গুলি বর্ষণ করে যাচ্ছে? কি তাদের পরিকল্পনা? এখন সবাই রাত জেগে পাহাড়া দিয়ে যাচ্ছে।
এলাকার কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহম্মদ বাবু বলেন, অপরিচিতদের নিয়মিত অস্ত্রের মহড়া ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ। অবৈধ অস্ত্রধারীরা গ্রামের একদিকে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে সাত্তার ঘোনা ও সমিতি বাজার এলাকার পাহাড়ে অবস্থান নিচ্ছে বলে শুনা যাচ্ছে। হঠাৎ করে তারা কারা; কেন অস্ত্র নিয়ে এলাকায় রাতে ঘুরছে, কি করতে চায় তারা, এমন প্রশ্নে এলাকায় চলছে আলোচনা।
উত্তর আদর্শ গ্রাম এলাকায় ১২ জুলাই রাতে গুলি বর্ষণের খবর পেয়ে ওসি’র নির্দেশে ঘটনাস্থলে যান কক্সবাজার সদর থানার এসআই দুর্লভ চন্দ্র দাস। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা যখন আদর্শ গ্রাম এলাকায় যাই; তখন অপরাধীরা জয়নাল সওদাগরের ঘোনা নামে একটি পাহাড়ে অবস্থান করছিল। রাতের অন্ধকার ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বৃষ্টিতে ভিতরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অপরাধীরা দূরের পাহাড় থেকে কিছুক্ষণ পরপরেই নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার জন্য লাইটিং ও ফাঁকা গুলিও বর্ষণ করে।
শহরের মধ্যম ঘোনার পাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি নুরুল আমিন জানিয়েছেন, গত ১৩ জুলাই রাত ১২ টার দিকে ফাতের ঘোনা ও বাদশঘোনা হয়ে একদল অবৈধ অস্ত্রধারী ঘোনার পাড়ায় ঢুকে পড়ে। তারা দীর্ঘক্ষণ অলিগলিতে বিচরণ করে। তাদের বিচরণে এলাকার সাধারণ মানুষও হাঁটাচলা বন্ধ করে দিয়েছিল ভয়ে। এই দলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন ছিল। সবার হাতে লম্বা লম্বা বন্দুক। গভীররাত পর্যন্ত তারা ঘোনার পাড়া, বাদশা ঘোনা ও পাহাড়তলী এলাকায় বিচরণ করে। তারা সবাই অপরিচিত ও নতুন মুখ। তাদের টার্গেট কি তাও সবার অজানা। একপর্যায়ে সমাজের লোকজন ও এলাকাবাসীরা জড়ো হলে তারা কৌশলে বাদশা ঘোনা হয়ে পাহাড়তলীতে ঢুকে পড়ে।
পাহাড়তলীর বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই এলাকায় প্রতিরাতে চলছে বন্দুকের বিচরণ। রাত যত গভীর হয় ততোই গুলির শব্দ শোনা যায়। দলবেধে বিচরণ করে বন্দুকধারীরা। গত একমাস ধরে এমন পরিস্থিতি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। ভয়ে কেউ কিছু বলছেও না। সবাই আতংকে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, আমরা কোন কিছু খবর পাওয়ার সাথে সাথে অভিযান চালাচ্ছি। কিছুদিন আগেও উত্তর আদর্শ গ্রামে গুলি বর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ এসব অপরাধীদের ধরতে নিয়মিত কাজ করছে। তবে পাহাড়তলী, সাত্তারঘোনা, ইসলামপুর, জয়নাল সওদাগরের পাহাড় ও ইসুলুর ঘোনা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। খুব কৌশলে এসব জায়গায় যেতে হয়। পুলিশ এসব জায়গায় নজরদারি আরো বাড়িয়ে দিয়ে কাজ করবে।

The Post Viewed By: 211 People

সম্পর্কিত পোস্ট

Optimized with PageSpeed Ninja