চট্টগ্রাম রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ জুলাই, ২০১৯ | ২:০৮ পূর্বাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

সড়ক ভেঙে খান খান

কাদা পানি ও গর্তে আটকে বিকল গাড়ির ইঞ্জিন হ বিমান বন্দর সড়কে ৪ কিলোমিটার যানজট

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে যাওয়া নগরবাসীর কপাল থেকে জলাবদ্ধতা নামক দুর্ভোগটি আপাতত নামলেও নতুন উপদ্রব হিসেবে দেখা দিয়েছে সড়কজুড়ে সৃষ্ট হওয়া ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও এই গর্ত আবার ধারণ করেছে ‘কুয়া’র আকৃতিতে। গতকাল সোমবার নগরীর নারিকেল তলা, সল্টগোলা ক্রসিং, নীমতলা পোর্ট কানেক্টিং রোড, বারিক বিল্ডিং, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, ডিটি রোড, বহদ্দারহাট ও অক্সিজেন মোড়সহ বেশ কয়েকটি সড়কের চিত্র ছিল ক্ষত-বিক্ষত। সড়কজুড়ে সৃষ্ট হওয়া এ বিশাল বিশাল গর্তগুলো এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নগরবাসীর। এই ভাঙা রাস্তায় যাতায়াত করা নগরবাসীরা সড়কের নতুন নাম দিয়েছে ‘রোলার কোস্টার সড়ক’। গর্ত নামক এই রোলার কোস্টারে পড়ে অনেক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে সড়কে। এতে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারায় ফ্লাইট ধরতে পারেন নি অনেক যাত্রী।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সল্টগোলা, নীমতলা পোর্ট কানেক্টিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও অক্সিজেন মোড়ের সড়কজুড়ে সৃষ্ট হয়েছে একাধিক ছোট-বড় গর্ত। যেখানে জমে থাকা কাদা পানি ও গর্তে পড়ে বিকল হওয়ার পাশাপাশি উল্টে পড়ছে যানবাহনগুলো। গর্ত এড়াতে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করায় সড়কজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ১০ মিনিট দূরত্বের পথ অতিক্রম করতে যাত্রীদের সময় লেগে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। নগরবাসীকে এই দুর্ভোগের হাত থেকে বাঁচাতে ইতিমধ্যে নগরীর বেশকিছু সড়কে সংস্কার কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। তবে সংস্কার কাজ শুরু করেও জনগণের নেতিবাচক প্রশ্নের হাত থেকে বাঁচতে পারেনি কর্পোরেশন। প্রশ্ন তুলেছেন সিটি মেয়রের দায়িত্ব ও ঠিকাদারদের কাজের মান নিয়েও।
সল্টগোলা ক্রসিং মোড়ে রাব্বি নামে এক বাইক চালক বলেন, ‘সারা বিশ্বের মধ্যে সব থেকে ব্যয়বহুল সড়ক নির্মাণ হয় আমাদের দেশে। আর এই সড়কই যদি বছরে তিন বার সংস্কার করতে হয় তাহলে কাজের মান নিয়েতো প্রশ্ন জাগবেই। একটু বৃষ্টি পড়লেই সড়ক থেকে সুড়কিগুলো সরে গিয়ে সৃষ্টি হয় গর্তের। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় দূর থেকে এর গভীরতা বোঝা যায় না। এতে গর্তে পড়ে উল্টে যায় গাড়ি। আর ছোট গর্তগুলোও গাড়ির যন্ত্রাংশের মারাত্মক ক্ষতি করে। এছাড়া সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় যানজটের কারণে। গর্তের কারণে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। বাইকে করে নারিকলে তলা থেকে সল্টগোলা ক্রসিং আসতে আমার সময় লেগেছে আধ ঘণ্টারও বেশি। কিন্তু রাস্তা ভালো ও যানজটমুক্ত হলে এখানে সময় লাগতো মাত্র ১০ মিনিট’।
নগরীর ইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় এইচআর বিভাগে কর্মরত মুন্না নামের এক ব্যক্তি বলেন,‘অফিস থেকে বের হয়েছি এক ঘণ্টা হয়েছে। এখনও এক কিলোমিটার পথও অতিক্রম করেনি গাড়ি। পুরো রাস্তা যে হারে ভাঙা, গাড়িতে বসে মনে হচ্ছে যেন রোলার কোস্টারে চড়ছি। যানজটে বসে থাকার থেকেও বেশি ভয় হয় কখন না জানি আবার গাড়ি উল্টে যায়। প্রতিবছর বৃষ্টি এলেই এ রাস্তাটার এমন অবস্থা হয়। আর প্রতিবছর সংস্কারও করতে দেখা যায়। কিন্তু এ দুর্ভোগের সমাধান কখনো পাইনি’।
অক্সিজেন মোড়ে এক মুক্তিযোদ্ধা প্রতিবেদককে বলেন, ‘দশ কোটি টাকার কাজ ৪ কোটি টাকায় করলেতো এমন হবেই। এছাড়া একই সড়ক কিছুক্ষণ ওয়াসা আর কিছুক্ষণ পিডিবি কাটলে রাস্তাতো ভাঙবেই। রাস্তা ভাঙলেই পানির মধ্যেই কাজ করতে শুরু করে। পানির মধ্যে কাজ করে লাভ কি। সব জায়গায় চুরি। দেশকে এই অবস্থায় দেখার জন্য যুদ্ধ করি নাই। যুদ্ধ করেছি একটি সুন্দর দেশ গড়ার আশায়’।
অক্সিজেন মোড়ে জাহেদ নামে এক সিএনজি চালক বলেন, ‘পানির মধ্যে গর্তগুলো দেখা যায় না। বড় গর্তে পড়লে সিএনজিগুলো আর উঠতে পারে না। অনেক সময় যাত্রী নিয়ে উল্টে পড়ে সিএনজিগুলো। নষ্ট হয়ে যায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। এছাড়া গর্তের কারণে আধাঘণ্টার রাস্তা অতিক্রিম করতে আমাদের সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা’।
অক্সিজেন মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শাখাওয়াত হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, রাস্তা জুড়ে ছোট-বড় গর্ত থাকায় গাড়ি ধীরগতিতে চলে। এতে সড়কজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক বিভাগকে’।
বৃষ্টি পড়লেই রাস্তা ভাঙবে বলে জানান সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, মানসম্মত কাজ নয়, বৃষ্টি পড়লেই রাস্তা ভাঙবে। কারণ বিটুমিন রাস্তার শত্রু পানি। তবে নগরবাসীকে এ দুর্ভোগের হাত থেকে বাঁচাতে সড়ক সংস্কারে কাজ শুরু করেছে সিটি কর্পোরেশন। সড়ক সংস্কারে আজ (গতকাল) আগ্রাবাদ, পোর্ট কলোনি, এয়ারপোর্ট রোড, জাকের হোসেন রোড ও কোতোয়ালী সড়কে ১৫০ টনের বিটুমিন মিক্সারের কাজ করেছে কর্পোরেশন।

The Post Viewed By: 157 People

সম্পর্কিত পোস্ট

Optimized with PageSpeed Ninja