চট্টগ্রাম রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

সর্বশেষ:

১৬ জুলাই, ২০১৯ | ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

খানা খন্দকে বেহাল ঢাকা ট্রাঙ্ক রোড

২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড

সড়কজুড়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। অনেকস্থানে উঠে গেছে পিচ ঢালাই, ইট সুড়কি। খানা খন্দকে পূর্ণ হয়ে গেছে সড়কগুলো। এসব গর্ত মাড়িয়েই সড়কে গাড়ি চলছে হেলেদুলে। চাইলেও জো নেই স্বাভাবিক চলার। এ সড়কে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীদের নাভিশ^াস উঠে যায়। এ চিত্র নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের। গত এক সপ্তাহ টানা বৃষ্টিতে এ সড়কের বিটুমিন ও কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এ সব গর্ত। যার কারণে দুর্ভোগের মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্বাভাবিকের চেয়ে ধীর গতিতে চললেও ব্যস্ততম এ সড়কে এখন চলাচল যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যদিও কয়েকটি বড় গর্তে কিছু ইট দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। তবুও চলাচলে বরাবরই ঝুঁকিতে রয়েছে যানবাহনগুলো।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেওয়ানহাট ওভার ব্রিজের মুখ থেকে শুরু করে ঈদগাঁ কাঁচা রাস্তার মাথা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্নস্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। অনেক জায়গায় গর্তগুলো রূপ নিয়েছে ছোটখাটো ডোবাতে। এসব গর্ত মাড়িয়েই গাড়ি চলছে হেলেদুলে। চাইলেও জোরে চলার জো নেই। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধীরে চলেন চালকরা। তাতেই বাঁধে যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু গাড়ি এগোয় না। অথচ দেওয়ানহাট মোড় থেকে ঈদগাঁ কাঁচা রাস্তা মোড় পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। সামান্য এই রাস্তা পার হতে বড়জোরে আট মিনিট লাগার কথা থাকলেও এখন প্রায় আধঘণ্টা লেগে যায়।
এদিকে, এসব গর্তের কারণে ওই সড়কে চলাচল করা যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে চলছে অন্য রাস্তা ধরে। যার কারণে যাত্রীদেরও গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। তবুও দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেনা সাধারণ যাত্রীরা। এক সাথে সব গাড়ি এই সড়কটিতে চলার কারণে মাঝেমধ্যে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেই অফিস করতে হয় কর্ণেলহাটের বাসিন্দা মাসুম বিন মুহাম্মদকে। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, বর্তমানে এই সড়কে যেভাবে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, তাতে চলাচল খুবই কষ্টকর। গর্তগুলোর কারণে প্রায় সময় গাড়ি আটকে সৃষ্টি হয় যানজট। মাঝেমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় যাত্রীরাও আহত হয়। আবার গর্তের মধ্যেই আটকা পড়ে যায় গাড়ি। যার কারণে এখন চালকরা অন্য সড়ক দিয়ে চলাচল করে আর দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয় তাদের। এদিকে রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ সকল মোটরযান স্বাভাবিক গতিতে চলতে গিয়ে হঠাৎ গর্তের মুখে পড়ে পড়তে হয় বড় ধরণের ঝামেলায়। গর্ত এড়াতে গিয়ে সজোরে ব্রেক কিংবা পাশ কাটাতে গিয়ে অন্য যানবাহনের সাথে ধাক্কা লাগাও যেন স্বাভাবিক। যার কারণে গাড়িগুলোরও যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান চালকরা।
এই সড়কে চলা কয়েকজন চালক পূর্বকোণকে বলেন, ভাঙা থাকার কারণে প্রতিদিন প্রায়ই সময় গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে। যে টাকা রোজগার হয়, তার সিংহভাগই গাড়ির মেরামতে ব্যয় করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ে যদি সড়কটি মেরামত না করা হয়, তাহলে আমাদের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে। স্থানীয়রা জানান, সড়কের আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চললেও সড়কটি সংস্কারে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

The Post Viewed By: 80 People

সম্পর্কিত পোস্ট

Optimized with PageSpeed Ninja