চট্টগ্রাম বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯

সর্বশেষ:

১১ জুলাই, ২০১৯ | ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

হারলেও মান বাঁচালেন জাদেজা-ধোনি

লজ্জার রেকর্ড গড়েই ভারতের বিদায়

২৩৯ রান, সেমিফাইনালের হার্ডল পেরিয়ে ফাইনালে নাম লেখানোর জন্য বিশ^সেরা ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপের জন্য এট্ইা ছিল কিউইদের দেয়া টার্গেট। এক রোহিত শর্মার ব্যাটইতো দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার কথা বোল্ট-স্যান্টনারদের। কিন্তু কোথায় কি, লজ্জা উপহার দিয়ে রোহিত-কোহলিরা নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে এবারের আসর থেকে। আজকের দ্বিতীয় সেমিতে বিজয়ী দলের সাথে ১৪ জুলাই ফাইনালে নামবে কেন উইলিয়ামসনের দল। ভারতের ব্যাটিং বিভাগ ব্যর্থ হয়েছে সত্য, তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে অধিনায়ক বিরাট কোহলির ব্যর্থতা। তারপরও ভারত যে ২২১ পর্যন্ত গিয়ে সম্মান বাঁচিয়েছে সেটা রবিন্দ্র জাদেজার ৫৯ বলে ৭৭ ও সাবেক অধিনায়ক এম এস ধোনির ৭২ বলে ৫০ রানের সুবাদে। ৯২ রানে ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর জাদেজা-ধোনি জুটির ১১৬ রান ভারতকে অসম্ভব সম্ভবের পানেই নিয়ে যাচ্ছিল। প্রথমে ট্রেন্ট বোল্ট জাদেজাকে এবং পরে দুলন্ত ফিল্ডিংয়ে মার্টিন গাপটিল ধোনিকে রান আ্উট করে দিলে যাত্রা শেষ হয়ে যায় ভারতের। গতকাল ভারতের এই পরাজয় মুলত শুরুর ১০ ওভারেই, জাদেজা ও ধোনি অতিমানবীয় চেষ্টা করেছিলেন সত্য কিন্তু ভাগ্য বিধাতা যে ফাইনালিস্ট হিসাবে কিউইদেরই বেছে রেখেছিলেন।
ভারতের বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লে’র প্রথম ১০ ওভারে পরশু নিউজিল্যান্ড তুলেছিল ১ উইকেটে ২৭ রান। চলতি বিশ্বকাপের ৪৬টি ম্যাচে এটিই ছিল প্রথম পাওয়ার প্লে’র সব থেকে কম দলগত রান। রিজার্ভ ডে’তে গতকাল ২৩৯ রানের জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ডের সেই লজ্জার রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে ভারত। প্রথম দশ ওভারে নিউজিল্যান্ডের থেকেও কম রান সংগ্রহ করে ভারত। ১০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪ রান। এবারের বিশ্বকাপে এটাই সব থেকে পাওয়ার প্লে’র রান। আর এই বিপর্যয় ছিটকে দিয়েছে আসর থেকে।
ভারত পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল ও দীনেশ কার্তিকের উইকেট খুইয়ে বসে। রোহিত ৪ বলে ১ রান করে ম্যাচ হেনরির বলে উইকেটকিপার টম লাথামের হাতে ধরা পড়েন। বিরাট কোহলি ট্রেন্ট বোল্টের বলে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিলেও আম্পায়ার্স ডিসিশনে সাজঘরে ফিরতে হয় ভারত অধিনায়ককে। আউট হওয়ার আগে ৬ বলে ১ রান করেন কোহলি। তবে ক্রিজে ভারত অধিনায়কের আচরণ বিস্মিত করেছে সবাইকে। অনেকেই বলছেন, বিরাট কোহলি ডিআরএস মানতেও রাজি নন!
ঋারতের যে এমন বিপর্যয় ঘটবে নিউজিল্যান্ডের সমর্থকরা ছাড়া আর কেইবা এমনটা ভেবেছিল। কিউইদেও সংগ্রহটা আড়াই শ-র নিচে হলেও ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরিরা আছেন তো! ভারতীয় টপ অর্ডারে মড়ক লাগাতে পারলে কিউইদের ফাইনালে ওঠার আশার পালে আরেকটু হাওয়া লাগবে। বোল্ট-হেনরি পেস জুটি এ মড়ক লাগিয়েছেন মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে। আর তাতে ভারতের স্কোরবোর্ডেও দশা এমন হলো যা ওয়ানডে ইতিহাসে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে রোহিত শর্মাকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন হেনরি। এ বিশ্বকাপে ৫ সেঞ্চুরি করা রোহিত সেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিরেছেন মাত্র ১ রান করে। মাঝে ৬ বল পর বিরাট কোহলিকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলেন বোল্ট। ঋষভ পন্ত ওই ওভার কোনোমতে কাটিয়ে দেওয়ার পর আবারও আঘাত হানেন হেনরি। এ পেসারের সুইং সামলাতে না পেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন লোকেশ রাহুল। তিনিও আউট হন মাত্র ১ রানে। অর্থাৎ ভারতীয় টপ অর্ডারের এ তিন ব্যাটসম্যানেরই স্কোর ১, ১ ও ১। ওয়ানডে ইতিহাসে এর আগে কোনো ম্যাচেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান ১ রান করে আউট হননি। ৪৮ বছরের ওয়ানডে ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম। রোহিত ও লোকেশ রাহুল কিউই বোলারদের সুইংয়ে হার মানলেও বিরাট কোহলি স্টাম্পের বল আড়াআড়ি খেলার মাশুল গুনেছেন। অথচ ধোনি ও জাদেজা যেভাবে হাল ধরেছিলেন তাতে কোহলি তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলে, ফলাফল ভিন্ন হতেও পারতো। ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, সোজা ব্যাটে বলটা খেললে সম্ভবত ফাঁদে পড়তেন না ভারতীয় অধিনায়ক। আসলে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল এলেই কোহলির কী যেন হয়! এ নিয়ে তিনটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলছেন কোহলি। এর মধ্যে কোনো ম্যাচেই ২১ বল খেলার বেশি উইকেটে থাকতে পারেননি। তিনটি সেমিতেই বাঁ হাতি পেসারের হাতে আউট হয়েছেন ভারত অধিনায়ক। ২০১১ তে মোহালির সেমিতে ফিরেছিলেন ওয়াহাব রিয়াজের বলে, ২০১৫ সালে সিডনিতে মিচেল জনসন। এবার তাঁকে ফেরালেন ট্রেন্ট বোল্ট।
২০১১ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ বলে ৯ রান করে আউট হয়েছিলেন কোহলি। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এটাই তাঁর সর্বোচ্চ খেলা বলসংখ্যা। পরের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে ১ রানে আউট হওয়ার পথে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান। চার বছর আগে সে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোহলি আউট হয়েছিলেন ১৩ বলে ১ রান করে। আর গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টিকেছেন মাত্র ৬ বল। সব মিলিয়ে এ তিন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে কোহলির মোট সংগ্রহ ১১। আর ব্যাটিং গড় ৩.৬৭! ভারতীয় টপ অর্ডারে মড়ক লাগতে দেখা কোনো নিয়মিত ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে দলটির ব্যাটিংয়ে ‘মেরুদ-’-ই প্রথম তিন ব্যাটসম্যান। শিখর ধাওয়ান না থাকায় তাঁর জায়গায় ঢুকেছেন লোকেশ রাহুল। এ ছাড়া রোহিত ও কোহলি তো আছেনই, এ দু’জনই মূলত ভারতীয় ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ। এ দু’জনকে এক অঙ্কের রান করে ফিরতে দেখাও গত দুই বছরের মধ্যে বিরল ঘটনা। সবশেষ এমন দেখা গেছে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।

The Post Viewed By: 78 People

সম্পর্কিত পোস্ট