মা
রহমান মিজান

কর্মজীবনটা শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে। তারও আগে যখন এসএসসি পাস করলাম তখন থেকেই টিউশনি করতাম। টিউশনি এবং শিক্ষকতা সব মিলিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ছিল অনেক। ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর সময় তাদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক গড়ে না তুললে পড়িয়ে আনন্দ পাওয়া যায় না। ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর সময় আমি চেষ্টা করতাম বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক তৈরী করতে আর এ কারণেই আমার ছাত্র-ছাত্রীর কাছে আমি মোটামুটি প্রিয় ছিলাম।
প্রেরণার উৎস
ফারহানা আকতার

২০০৬ এর শেষের দিকে সবে এসএসসির ফল বেরিয়েছে। সবাই খুব খুশি। বাবার ইচ্ছা শহরে পড়বো। মায়ের জন্য প্রাণ পুড়লেও না করিনি। একদিন দুপুরে আমার চাচাত বোন একটি খাম দিলেন। খুলে দেখলাম আমন্ত্রণ পত্র। পশ্চিম বাশঁখালী উপকূলীয় ডিগ্রী কলেজ থেকে পাঠানো হয়েছে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য। বান্ধবীদের ফোন করে জানলাম ওরাও আমন্ত্রিত। তাই ঠিক করলাম সবাই যখন আমন্ত্রণ পেয়েছি তখন দেখি একটু ঘুরে আসি। তখন আনুমানিক সকাল ১১টা, গাড়ি থেকে নেমে দেখলাম সবাই হাজির কলেজের সামনে। সীমা আসতে দেরি করাতে তার জন্য দাঁড়ালাম কিছুক্ষণ।
ভালোবাসার নিদর্শন মা
শাহাদাত কবির

অহিনের মায়ের এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে অহিনের বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় দিয়ে দিয়েছেন। অহিনের বোনের যেমন মা ও ভাইকে নিয়ে মাথা ব্যথা নেই তেমনি অহিনেরও তার সেই স্বার্থপর বোনকে নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই। বড় লোকের বউ হওয়া সত্ত্বেও মায়ের খবর রাখার সময় তার নেই। অহিনের মা ঘরে একা। একমাত্র ছেলে অহিন বছর কয়েক ধরে শহরে থাকে, পড়ালেখার খরচ চালাতে মা অক্ষম বরং ছেলে টিউশনি করে মাকে দু’হাজার টাকা করে মাসে পাঠায়। প্রতি বছর অহিন তার মায়ের জন্য মা দিবসে সামর্থ্য অনুযায়ী গিফ্ট কিনত। বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের পরিবারে দরিদ্রতা নেমে আসলেও অহিন কোন মা দিবসে মাকে গিফ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকেনি।
মায়ের খোঁজে
সনেট দেব

বৃষ্টির ঝাপটা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জয়িতাকে একদম ভিজিয়ে দিল। আনমনা হয়ে নানা শূন্যতা বুকে নিয়ে জানালার ওপাশে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছোঁয়ার বৃথা চেষ্টা করছিল। এবার বৃষ্টি তাকে নিরাশ করেনি। জয়িতা শুধু বৃষ্টি ছুঁতে চেয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি তাকে একদম ভিজিয়ে দিল। খুব তাড়াতাড়ি রুমে ঢুকে মাথা মুছে নিল। বাইরে রাস্তায় কুকুরটি এখনো ডেকে চলছে। বর্ষা প্রায় শেষের দিকে। সন্ধ্যাও নেমে এল। জয়িতা হালকা নাস্তা করে পড়তে বসে গেল। সামনে তার সম্মান দ্বিতীয় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা। পড়ার ফাঁকে শরীরের শীত ও কম্পন অনুভব করে জ্বরের আগমনী বার্তাটা খুব ভালো করেই টের পেল। কাউকে কিছু না বলে শুয়ে পড়ল কাঁথা মুড়ি দিয়ে। মায়ের কথা আজ খুব মনে পড়ছে ওর। জ্বর তখন একশ দুই। তার পাশের রুমমেট রিমা বুঝতে পারল ওর খুব জ্বর হয়েছে। এ বৃষ্টির মধ্যে রিমা আর আরেক রুমমেট শায়লা হোস্টেলের ম্যাডামকে বলতে গেল। ম্যাডাম ডাক্তার নিয়ে এসে ওষুধের ব্যবস্থা করে দিলেন। রাতে জ্বরের চাপে জয়িতা কি যেন বলছে। রিমা কিছুই বুঝতে পারছে না।



