রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২
মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন শীর্ষক সেমিনারে সিটি মেয়র
হাসপাতাল বর্জ্য পরিবেশ ও
জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি
মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন শীর্ষক এক কর্মশালা গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম. মনজুর আলম দিনব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন ও ইনোভেশন সেবা সংস্থা যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনোভেশন সেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক উইং কমান্ডার (অব:) মো. ফজলুল হক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার সহকারী পরিচালক মো. শামসুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ভুঁইয়া, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. সালাউদ্দিন মাহমুদ, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা দীপক চক্রবর্তী, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, ইনোভেশন সেবা সংস্থার সভাপতি মতিয়ুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. সাইদুর রহমান মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের উপর একটি সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র এম. মনজুর আলম বলেন, হাসপাতাল বা ক্লিনিক্যাল বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকীস্বরূপ। তাই এই ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর বর্জ্য বিশেষভাবে সংরক্ষণ, অপসারণ ও ধ্বংসের ক্ষেত্রে নগরীর সরকারি বেসরকারি সকল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, মেডিকেল বর্জ্য আর সাধারণ গৃহস্থালী বর্জ্য এক নয়, মেডিকেল বর্জ্য নানা রোগ জীবাণু ছড়াতে সহায়ক যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে আছে। মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশন এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিগত বছর থেকে ইনোভেশন সেবা সংস্থার মাধ্যমে নগরীর সকল হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে মেডিকেল বর্জ্য পৃথকভাবে অপসারণ করছে। এই কার্যক্রম আরো সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করতে আগামীতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করে মেয়র হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে মেডিকেল বর্জ্য সংরক্ষণ ও অপসারণে সজাগ ও আন্তরিক হবার আহবান জানান।
বক্তাগণ বলেন, জনবহুল শহরগুলোতে দৈনিক যে বর্জ্য সৃষ্টি হয়, তার মধ্যে ৮০ শতাংশ সাধারণ গৃহস্থালী বর্জ্য আর ২০ শতাংশ হচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য। সাধারণ বর্জ্য মারাত্মক ক্ষতিকারক না হলেও ২০ শতাংশ মেডিকেল বর্জ্য মারাত্মক হুমকীস্বরূপ। এই ২০ শতাংশ মেডিকেল বর্জ্য কোন না কোনভাবে ৮০ শতাংশ সাধারণ বর্জ্যের সাথে মিশে যায়। ফলে পুরো বর্জ্যই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মেডিকেল বর্জ্য ডাস্টবিন, নালা নর্দমায় কিংবা খোলা জায়গায় না ফেলার উপর অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করার উপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। বক্তাগন বলেন- এই সব ক্ষতিকারক বর্জ্য সংরক্ষণ ও অপসারণের ক্ষেত্রে আলাদা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তা বার্ণিং করে ধ্বংস করতে হবে। তারা বলেন- হাসপাতাল বর্জ্য যেমন রোগীর কফ, থুথু , রক্ত, ব্যান্ডেজ, কটন, সুতা, নজল, সুঁই, সিরিঞ্জ,স্যালাইন বা রক্তের ব্যাগ এ ধরণের ১৮ রকমের বর্জ্য বিশেষ রঙের পাত্রে আলাদা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে তা অপসারণ ও ধ্বংসের ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা বলেন- রোগীর ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যাগ ইত্যাদি পুনরায় বাজারজাত হচ্ছে এবং তা মানুষের চিকিৎসায় পুনরায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে একজন সাধারণ মানুষও ভয়াবহ রোগে সংক্রমিত হচ্ছে। তাই বক্তাগন হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ব্যাগ সিরিঞ্জ ইত্যাদি বিনষ্ট করে অপসারণের পরামর্শ দেন।
বিশেষজ্ঞ বক্তারা বলেন, এক্ষেত্রে যে সব হাসপাতাল বা ক্লিনিক বিশেষ নজর দিচ্ছে না তারা স্বাস্থ্য সেবার নামে বরং রোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে। তারা বলেন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি আইন রয়েছে। যা যথাযথভাবে প্রয়োগ হলে এই সব অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রদান, সনদ বাতিল এমনকি জেল জরিমানাও করা যেতে পারে।
কর্মশালায় জানা যায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে বর্তমানে সরকারি বেসরকারি প্রায় ১২৫টি হাসপাতাল বা ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে ৮৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সৃষ্ট প্রায় ১৫টন মেডিকেল বর্জ্য প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইনোভেশন সেবা সংস্থা সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় বিশেষ ধরনের গাড়ির মাধ্যমে অপসারণ করছে। কর্মশালায় নগরীর প্রায় অর্ধশতাধিক হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ অংশ নেয়।-বিজ্ঞপ্তি
| < Prev | Next > |
|---|



