চট্টগ্রাম, সোমবার,২০ মে ১৩ । ৬ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ০৯ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Monday,20 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

শনিবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১২

টার্গেট আরাকান ও বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা
স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন জঙ্গিদের

কুদ্দুস আফ্রাদ, ঢাকা অফিস :  বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা ও মায়ানমারের আরাকান রাজ্য নিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখছে জঙ্গি গোষ্ঠীরা। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও) নেতা ডা. ইউনুস। বিদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সরাসরি মদদ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের ধনকুবেরদের অর্থিক সহায়তায় উগ্র জঙ্গিরা এই তৎপরতা শুরু করেছে বলে সরকারের কাছে রিপোর্ট করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে, এ সম্পর্কে সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে (১৬ আগস্ট) ঢাকায় ধরা পড়েছিল পকিস্তানের জইশ-ই মোহাম্মদের কক্সবাজার অঞ্চলের নেতা মৌলানা ইউনুস। পরে, তারই সূত্র ধরে গত কয়েকদিনে গোয়েন্দারা কক্সবাজারসহ আশে-পাশের পাহাড়ি জেলা থেকে আরও ৯ জঙ্গিকে আটক করে। ধৃত এই জঙ্গিদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মদদে বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর নামে ‘স্বাধীন নিউরোশিয়া’ নামে নতুন রাষ্ট্র গড়ার আশায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে নিচিহ্ন হয়ে যাওয়া জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নতুন মোড়কে ‘জামাতুল আরাকান’ নামে কক্সবাজার ও বান্দরবানের গহীন জঙ্গলে দলের জন্য প্রশিক্ষণ শিবিরও খুলেছে। অবশ্য, ইতিমধ্যে ওই শিবিরটি ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাপিড একশান ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সমন্বিত বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ইসলাম ধর্মের নাম ভাঙিয়ে হরকাতুল জিহাদ (হুজি), লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই-মোহাম্মদ, হিযবুত তাহরীর, জেএমবি, আরএসও, এআরএনও, ইবতাদা-তুলাহ আল মুসলেমিন বা আইটিএম, ইউনাইটেড স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অব আরাকান মুভমেন্ট বা ইউএসএএম, এএসএফসহ অন্তত দেড় ডজন জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় সংগঠিত হওয়ার পর, তারা এখন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারকে অন্তর্ভুক্ত করে পুরো আরাকান প্রদেশ নিয়ে কথিত ‘স্বাধীন নিউরোশিয়া’ রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন দেখছে। জানা গেছে, মূলত মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সে দেশের নাসাকা বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন প্রতিরোধে সহায়তা দেওয়ার নামে এরা সংগঠিত হয়। সম্প্রতি কক্সবাজারে ‘জামায়াতে আরাকান’ নামের নতুন এক জঙ্গি সংগঠনের ধৃত চার কর্মীর দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা  গেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ঢাকার এক সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, ধৃত জঙ্গিদের জেরা করে সশস্ত্র বিপ্লবের তথ্য পাওয়া গেছে। সংগঠনটির সঙ্গে আল কায়দার আদর্শিক মিল থাকায় এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের কোন ধরনের যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি জঙ্গি গ্রুপগুলো এই এলাকায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে এদের ট্রেনিং হয়। এরা সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। তিনি স্বীকার করেছেন, জঙ্গিরা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য ও বাংলাদেশের কিছু এলাকা নিয়ে স্বতন্ত্র ইসলামিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের জেএমবি, হিযবুত তাহরির, হিযবুত তাওহিদের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিকে জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈয়বা, হরকাতুল জিহাদ এবং জয়েশ-ই মোহাম্মদ এক হয়ে এই কাজ করছে। আদর্শিক মিল থাকলেও এদের সঙ্গে আল কায়দার কানেকশন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের রহস্যজনক আনাগোনা সম্পর্কে সরকারের উচ্চমহলে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। তাতে বলা হয়েছে- পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত, সুদানসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকরা হরহামেশা কক্সবাজারে পর্যটক হিসাবে বেড়াতে এসে টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ত্রাণসামগ্রী বিলিয়ে গেছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। এ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, টেকনাফ সীমান্তের হ্নীলা মাদ্রাসা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের নাগরিকরা দলে দলে যাতায়াত করছে। এ সব পর্যটেকের বেশির ভাগই বাংলাদেশে আসেন ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’- এর আওতায়। আরেক পুলিশ কর্মকর্তা অতি. পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, ‘‘ধৃত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বাংলা ভাষায় আন্তর্জাতিক মানের সাময়িকী ‘আত-তাহরীদ’ পড়লেই বোঝা যায় এই জঙ্গি দলের নেপথ্যে বড় মাপের লোকজন জড়িত।’’ এতে ওসামা বিন লাদেনের এক সহযোগীসহ পাকিস্তানি আল-কায়েদার শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সাক্ষাৎকার রয়েছে। এদিকে ১৬ আগস্ট ঢাকায় ধরা পড়েছিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক ইউনুস। তাঁকে জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এই দলের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশের মৌলানা সাবের আহাম্মদ দীর্ঘ এক যুগ ধরে পাকিস্তানে পাকাপোক্তভাবে আশ্রয় গেঁড়েছেন। পুলিশ জানায়, মূলত পাকিস্তানে বসেই মৌলানা ইউনুসের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জঙ্গি দল গড়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাবের। সরকারের উচ্চ মহলে পাঠানো গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও) নেতা ডা. ইউনুস বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার মাধ্যমে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সংগঠিত করতে সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা, পাকিস্তানের বেলুচ, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক ও লন্ডন থেকে কলকাঠি নাড়ছে জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক সহযোগীরা। রিপোর্টে আরও বলা হয়, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দিয়ে অপারেশন শুরু করতে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় ডজন জঙ্গি সংগঠনকে এককাতারে আনার জোর চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে এ সব সংগঠনের নেতারা দেশের বাইরে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা ও জঙ্গি নেতা ডা. ইউনুস, ডা. ওয়াকার উদ্দিন, শাহ ফরিদী, আবুল ফয়েজ জিলানী, নুরুল ইসলাম, সালামত উল্লাহ, শফিউল্লাহ, নাজমুল আলম চৌধুরী, হাফেজ ছালাহুল, ডা. ফয়সাল ও তৈয়ব অংশ। বৈঠকে বিবদমান রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো ভেঙে 'আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন বা এআরইউ' নামে নতুন সংগঠন গঠনে ঐকমত্য হয়েছে বলেও জানা যায়।উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ৪ জঙ্গিকে আটক করে। এরা হলেন, কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মুরগিভাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২৬), দিনাজপুরের পুরাতন বাজার এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে ওমর ফারুক (৩৩) ওরফে কাজী ফারুক ও ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া কোশমাইল গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে আব্দুল মতিন (৩৭)।

 

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড