নগরীতে আড়াই শতাধিক স্থানে ঈদের জামাত
এলো আনন্দ ও ভেদাভেদ ভোলার ঈদ
নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল রোববার সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে আজ চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ রোজা পূর্ণ হবে ও ঈদ হবে সোমবার। পবিত্র কোরআন নাজেল ও মাগফিরাতের মাস রমজান শেষে ঈদের চাঁদ দেখামাত্র ছোট-বড়, ধনী-গরীব প্রতিটি মুসলমানের হৃদয়ে বইবে আনন্দের ঝর্ণাধারা।
ধ্বনিত হবে ‘ঈদ মোবারক’ আর কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় ঈদের গান ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’।ঈদের দিন সকালে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় শেষে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মদিনাতে হিজরতের অব্যবহিত পরেই সংযম আর আনন্দের প্রতীক পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উৎসব শুরু হয়। সৃষ্টি হয় সংযম আর সম্প্রীতির বৈষম্যমুক্ত এক নতুন মূল্যবোধের। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) বলেছেন, ‘চাঁদ দেখে রোজা পালন ও চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করবে। চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়, আবার ৩০ দিনেও হয়। যদি আকাশে মেঘ থাকায় চাঁদ দেখা না যায়, তবে ৩০ দিনের গণনা পূর্ণ করবে।’ রাসুল করিমের সে নির্দেশনা অনুযায়ীই চলে আসছে রোজা ও ঈদের সুমহান ঐতিহ্য পালন। ঈদের আনন্দে সামিল হতে সারাদেশ এখন উৎসুক। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন। আলাদা আলাদা বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সরকার তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি।
আড়াই শতাধিক ঈদের জামাত : নগরীতে আড়াই শতাধিক ঈদগাহে এবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে ১৩৯ স্থানে এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির তত্ত্বাবধানে ৯৩টি স্থানে পবিত্র ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে আরো প্রায় ৪০টি স্থানে ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। একইস্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সোয়া ৯ টায়। প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ ও জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ্’র খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ মাওলানা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল-কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ জমিয়তুল ফালাহ্’র সিনিয়র ইমাম হযরতুল আল্লামা আলহাজ মাওলানা নূর মোহাম্মদ সিদ্দিকী। লালদিঘি জামে মসজিদের ঈদ জামাত হবে লালদিঘি ময়দানে সকাল ৯ টায়। ইমামতি করবেন লালদিঘি মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ গোলাম মোস্তাফা মো. নুরুন্নবী আল কাদেরী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকলে মাঠের পরিবর্তে স্ব স্ব মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরগণের তত্ত্বাবধানে একটি করে প্রধান ঈদ জামাত ও অন্যান্য ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির তত্ত্বাবধানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ময়দানে সকাল ৯টায়। তবে বৃষ্টি হলে স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম হলে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে ইমামতী করবেন বায়তুশ শরফ আদর্শ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হয়রত আল্লামা আলহাজ্ব মোহাম্মদ সাইয়িদ আবু নোমান। এছাড়া কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির তত্ত্বাবধানে অবশিষ্ট ৯২টি আঞ্চলিক ঈদগাহ ও মসজিদ ভিত্তিক ঈদুল ফিতরের নামাজও সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় কমিটি সিদ্ধান্তে এই সময় পরিবর্তন করা যাবে।
এদিকে নগরীর হামজারবাগের হযরত হামজা খাঁ (র.) জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮ টায়, বাকলিয়ার দরবার-ই মুমিনীন শরীফে সকাল ৯টায় প্রথম এবং সকাল ১০ টায় দ্বিতীয় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
| < Prev | Next > |
|---|



