ঈদে বাড়ি ফেরার কাফেলা শেষ হয়নি
বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে যাত্রীদের ভিড়, যানজট ও কোলাহলহীন নগরী
রতন কান্তি দেবাশীষ : ঈদের বক্ষাক আর মাত্র এক বা দু’দিন। অর্থাৎ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কাল রবিবার বা পরদিন সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। প্রিয় জনদের সাথে ইদের আনন্দে সামিল হতে লাখ লাখ মানুষ নগর ছাড়ছে। ঈদ ঘনিয়ে আসলেও ঘর মুখো মানুষের কাফেলা শেষ হচ্ছে না। দলে দলে মানুষ বাড়ি ফিরছে। বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে মানুষের প্রচন্ড ভীড়। চাঁদ রাতেও মানুষ বাস রিজার্ভ করে, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারে করে মানুষ বাড়ি ফিরবে। জেলার আশে পাশের উপজেলার লোকজ৮নও শহর ছাড়তে শুরু করেছে। শুধু শহরের মানুষ নয়, বিদেশ থেকেও প্রবাসীরা দেশে আসছেন প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে ঈদ উদযাপন করতে। মার্কেটগুলোতেও শেষ মুহূর্তের কেনা কাটায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। তবে নগরী অনেকাংশে ফাঁকা হেয় গেছে। মার্কেট, বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ছাড়া রাস্তা ঘাট অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে।আর এক বা দু’দিন পরই ঈদ। এবার লম্বা ছুটি পেলেন চাকুরীজীবীরা। কমপক্ষে সাত দিন। তা এগারো দিনও গড়াতে পারে। ব্যাংকগুলো বৃহস্পতি ও শনিবার খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হলেও হাতে গোনা কয়েকটি শাখা ছাড়া বেশিরভাগ শাখাই বন্ধ। যেগুলো খোলা সেগুলোতেও উপস্থিতি নগন্য। চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ বাবা মা, ভাই বোনসহ প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দে সামিল হতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। গত মঙ্গলবার থেকেই মানুষ বাড়ি ফিরে যেতে শুরু করেছে। সেই কাফেলা এখনো শেষ হয়নি। চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে। জানা যায়, সাধারণত মানুষ ট্রেনের দিকেই ঝুঁকে বেশি। যাত্রাকে নিরাপদ করতেই ট্রেনকে বেঁছে নেয় লোকজন। প্রতিবারের মত এবারো এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ট্রেনের টিকেটের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল মানুষ। কিন্তু সকলে টিকেট পায়নি। কালোবাজারে টিকেট কিনেছেন শত শত মানুষ। তারপরও বাড়ি ফেরা চাই। দেখা যায়, কয়েকটি জেলায় যাতায়াতকারি ট্রেনে গাদাগাদি করে যাত্রীরা উঠেছেন। সিটের বাইরেও যাত্রীরা দাঁড়িয়ে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছেন। অনেক নারী যাত্রীকে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। মেইল ট্রেনগুলোতে ছাদের উপর ভ্রমন করছে যাত্রীরা। অসংখ্য যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে করে ভ্রমন করতে দেখা গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছেন। ট্রেন আসলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। পাট ফর্ম থেকে শুরু করে স্টেশনের বাইরে পর্যন্ত মানুষ আর মানুষ। যেন মানুষের ঢল নেমেছে। ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হয়েছে। তারপরও সংকুলান হচ্ছে না। প্রকৃত যাত্রীর চাইতে অনেক বেশি যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। পুরো ছাদ যাত্রীতে ঠাঁসা। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সকল বাস স্ট্যান্ড ও টার্মিনালগুলোতে মানুষের স্রোত নেমেছে। বিশেষ করে দুর পাল্লার টার্মিনালগুলোতে মানুষ আর মানুষ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ ভীঢ় লেগেই আছে। শুভপুর ও কদমতলী বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে হাজার হাজার মানুষ। নারী পুরুষ শিশু একাকার হয়ে গেছেন। এ দু’বাস টার্মিনালে দুর পাল্লার বাসে ছাদে করে মানুষকে বাড়ি যেতে দেখা গেছে। এখান থেকে ১৯টি জেলায় বাস ছাড়ে। মানুষ বাস টার্মিনালে যাচ্ছে আর বাসে উঠছে। প্রতি এক দু’মিনিট পর বাস ছাড়লেও যাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে উঠছে। নারী, শিশুদের অনেক কষ্টে বাসে উঠতে দেখা গেছে। অসংখ্য বাস দাঁড়ানো থাকলেও কোনটি খালি নেই। একটি বাস না ছাড়তে আরো ৫টি বাস যাত্রিতে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। হুড়োহুড়ি করে উঠতে গিয়ে অনেক নারি শিশু পড়ে আহত হচ্ছেন। বাসের ভেতরে শুধু নয়, ছাদেও ভ্রমন করছেন অসংখ্য মানুষ। মানুষের ভীড়ের কারনে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে বেশি। ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এছাড়া অলংকার মোড় বাস স্ট্যান্ডে মানুষের ঢল নেমেছে। পুরো অলংকার জুড়ে মানুষের স্রোত। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সংখ্যাও কম নয়। সাথে আছে শিশুরা। গাড়ি আসছে, মানুষ উঠছে। এক মিনিট অপেক্ষা করার সময় নেই। গাড়ি আসার সাথে সাথে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। কার আগে কে গাড়িতে উঠবেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, অক্সিজেন বাস স্ট্যান্ডেও মানুষের প্রচন্ড ভীড়। দক্ষিণ ও উত্তর চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজারের যাত্রীরা ভীড় করেছেন এসব বাস স্ট্যান্ডে। দুর পালত্মার এসি, নন এসি বাসগুলোতেও যাত্রীদের ভীড়। গরীবুলাহ শাহ মাজার সংলগ্ন টিকেট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে যাত্রীরা ভীড় করছেন। টিকেট আগেই শেষ হয়ে গেছে। শুধু গাড়ির অপেক্ষায় রয়েছেন যাত্রীরা। প্রতিটি কাউন্টারেই মানুষের ভীড়। বিআরটিসি বাস স্ট্রান্ড, কেসিদে রোড বাস কাউন্টারেও ভীড় করেছেন দুর পাল্লার যাত্রীরা। এসব কাউন্টারে টিকেট নেই। তারপরও টিকেট পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন অনেক যাত্রী। কিন্তু পাচ্ছেন না। লোকজন টিকেটের আশায় এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ছুটছেন। জেলার আশে পাশের উপজেলার মানুষও বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। একাররে অক্সিজেন বাস স্ট্যান্ড, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে ঘর মুখো মানুষের ভীড় বেড়েছে। এ দু’টি বাস স্ট্যান্ড লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে। নাজিরহাট, দোহাজারিগামি ট্রেনেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ছাদে ভর্তি যাত্রী। জবিনের ঝুঁকি নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছেন। কথা বলে জানা যায়, চাঁদ রাত্রে মানুষ বাড়ি ফিরবে। এসময় অনেকে বাস, মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে বাড়ি যাবেন লোকজন। নিজস্ব গাড়িতে করেও অনেকে বাড়ি ফিরবেন। হুমায়ুন গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও এমডি হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, আমি ঈদের আগের দিনই বাড়ি যাব। নিজের গাড়িতে করেই বাড়ি ফিরবেন তিনি। ভীড় এড়াতেই শেষ দিন যাচ্ছেন তিনি। এদিকে বিদেশ থেকেও প্রবাসীরা দেশে আসছেন ঈদ করতে। মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারি বাংলাদেশিরা দেশে আসছেন। ফ্লাইটের টিকেট পেতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার আবুধাবী থেকে এসেছেন আবুধাবী বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন তালুকদার। অনেক কষ্টে টিকেট পেয়েছেন বলে জানান নাছির উদ্দিন তালুকদার। তিনি জানান, ঈদের আনন্দে সামিল হওয়া ছাড়াও আমিরাতের প্রবাসীদের কিছু সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সাথে সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে তাদের। এভাবে শত শত প্রবাসী দেশে ফিরে আসছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের মার্কেটিংও চলছে সমানতালে। অভিজাত বিপনী থেকে ফুটপাত পর্যন্ত সকল মার্কেটেই ক্রেতাদের ভীড় লেগে আছে। সকাল থেকেই মানুষ মার্কেটে যাচ্ছেন। নারি, পুরুষ, শিশু সকল বয়সি লোকজনই ভীড় করছেন মার্কেটগুলোতে। কয়েকটি অভিজাত বিপনী ঘুরে দেখা যায়, এসব মার্কেটে মানুষের ঢল। সব দোকানেই রয়েছেন ক্রেতারা। তারা দরদাম করে পছন্দের জিনিসপত্র কিনছেন। দেখা যায়, নগরী প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। মার্কেট এবং বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশন ছাড়া রাস্তা ঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে। রাস্তায় লোকজন তেমন একটা নেই। কিছু অভিজাত মার্কেটের সামনে ছাড়া অন্যত্র যানজটও নেই। যানবাহনের সংখ্যাও কমে গেছে। সিএমপি সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিন স্তরে থাকবে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র্যাব ও পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। ঈদের জামাতের আশে পাশে র্যাব পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে। এতে কোন ধরনের ত্রুটি নেই।
| < Prev | Next > |
|---|



