নাজাতের রমজান

রায়হান আজাদ : মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সার্বজনীন উৎসব হল ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এদিন ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, কর্মকর্তা-কর্মচারি, নেতা-কর্মী সবাই খোলা মাঠে মিলিত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহান রাববুল আলামীনের শাহী দরবারে প্রার্থনা করে। ইসলামে ঈদের ব্যাপক ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। ঈদের নামায শেষে পারস্পরিক কোলাকুলি ও সালাম বিনিময় আমাদের অন্তর থেকে ঘৃণা-বিদ্বেষ তাড়িয়ে দেয়।
ঘরে ঘরে সেমাই ফিন্নির আপ্যায়ন গ্রহন এবং মুরুবিবদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছোটদের প্রতি স্নেহ বিতরনের ফলে ঈদ হয়ে উঠে সাম্য-ভ্রাতৃত্ব ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার সেতুবন্ধন। ঈদ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে একতার শিক্ষা দেয়, আত্মবলিয়ান হয়ে সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় রাসুলুলাহর আদর্শে উজ্জীবিত করে। ইসলামে ঈদের দিবাভাগ যেমনি গুরুত্বপূর্ণ তেমনি এর পূর্ববর্তী রাতও (চাঁদরাত) সীমাহীন ফজিলত সমৃদ্ধ। হাদীস শরীফে এসেছে ,‘‘রমজানে ইফতারের সময় প্রত্যেক দিন আলাহ ছুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালা এক হাজার জাহান্নামীকে নরকমুক্ত করেছেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য নরকে যাওয়া অবধারিত ছিল। আর রমজান মাসের শেষ দিন যখন আসে আলাহ তা‘য়ালা সেদিন রমজানের প্রথম থেকে ঐ দিন পর্যন্ত যতজনকে ক্ষমা করা হয়েছে তৎসম পরিমাণ পাপী -তাপীকে ক্ষমা করে দেবেন’’। - বায়হাকী । তাই সচেতন মুসলমানরা ঐ রাতে ইবাদত-বন্দেগী করতে ভুলে যায় না। অন্য একটি হাদীসে রেওয়ায়েত হয়েছে, ‘‘যে ব্যক্তি সাওয়াবের নিয়্যতে দু’ ঈদের রাতে জেগে ইবাদত করবে, যেদিন সকলের অন্তর মরে যাবে, সেদিন তার অন্তর মরবে না। ’’ঈদের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠা উত্তম। গোসল করা, ভাল জামা-কাপড় পরিধান করা, খুশবো লাগানো, ঈদগাহে যাবার পূর্বে মিষ্টি খাওয়া, হেঁটে হেঁটে তাকবীর সহকারে ঈদগাহে একপথে যাওয়া এবং অন্যপথে ফেরা প্রভৃতি ঈদের মুস্তাহাব আমল। মনে রাখতে হবে, ঈদের খুশী যেন আমাদেরকে অনৈসলামিক কর্মকান্ডের দিকে ধাবিত না করে। বিভিন্ন মিডিয়ায় যে সব অশীল ও কুরুচিপুর্ণ নাটক-সিনেমা প্রচারিত হয় তা আমাদের বর্জন করতে হবে। ঈদ আমাদেরকে সামগ্রিক জীবনে তাওহীদ,রিসালত ও আখিরাতের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করুক। সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনে অটুট রাখুক । হাজার বছরের বাঙ্গালী ঐতিহ্যে গ্রামীণ আবহ ও সংস্কৃতিতে ঈদ উদযাপিত হোক- সেটাই প্রত্যাশা। ইসলাম যে সীমারেখা দিয়েছে এবং পবিত্র রমজান মাস সিয়াম ও কিয়াম সাধনার ফলে যে আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়েছে তা ঈদের দিনসহ বাকী এগার মাসে কাজে লাগাতে পারলেই সার্থকতা।
| < Prev | Next > |
|---|



