চিঠি যাচ্ছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে স্নায়ু চাপে সরকার
শিবুকান্তি দাশ, ঢাকা অফিস : মহাজোট সরকারের মেয়াদ যত শেষ হয়ে আসছে মার্কিন সরকারের সাথে ততই দুরত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক পদ্ম সেতু প্রকল্পের অনুদান বন্ধ করে দেয়া, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে রশি টানাটানি এবং আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যার পর মার্কিন সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নড়বড়ে হয়ে উঠে। এ অবস্থায় সরকারের নীতি নির্ধারকরা দ্রুত মার্কিন সরকারের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নে মনোযোগী হয়ে উঠেন। সম্প্রতি গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উদ্বেগ প্রকাশের পর সরকার যেন অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে পড়েছে। কারণ মার্কিন সরকারের সাথে বৈরি সম্পর্ক রেখে তৃতীয় বিশ্বে কোন দেশেরই আজকাল সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া কঠিন বিষয়। তার উপর ঈদের পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারির বিষয়ে ও সরকার সর্তক বলে সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি জানিয়েছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি নিয়োগের বিষয়ে আগের অবস্থানেই ফিরে গেছে সরকার। গত সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর আগের আইন বলবৎ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রী জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে একটি চিঠি পাঠানো হবে শিগগিরই। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, দু’একদিনের মধ্যে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তা পরিষ্কার করা হবে। আশা করি, দেশ-বিদেশে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তা-ও নিরসন হবে। এদিকে গত সোমবার বিবিসি’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারেও গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে কথা বলেন ডা. দীপুমনি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের কোন অবনতি ঘটবে না বলে দাবি করেন তিনি। গত ২রা আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের জন্য তিন জনের একটি প্যানেল তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে পারিচালনা বোর্ড মনোনীত সিলেকশন কমিটি গঠন করার বিধান বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। নোবেলজয়ী বিশ্বনন্দিত ওই প্রতিষ্ঠানটি সরকার গ্রাস করতে চাইছে বলেও অভিযোগ উঠে। সরকারের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে বলে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। উদ্বেগ জানান মার্কিন সিনেট সদস্যরাও। সমালোচনার মুখে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয় সরকার। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে আগের অবস্থানেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া সিদ্ধান্ত বদলের খবর দেন। সাংবাদিকদের জানান চেয়ারম্যান নন, আগের আইন মতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদই নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুঁজবে। সরকার কোনভাবেই ব্যাংকের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে না বলেও দাবি করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এদিকে গতকাল বুধবার এক আলোচনায় সভায় আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম হানিফ বলেছেন, বলেছেন, ‘‘ড. ইউনূসকে নিয়ে সবাই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। এক শ্রেণীর পন্ডিত ব্যক্তিরা টেলিভিশনে গিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করছে, পত্র পত্রিকায়ও লেখালেখি হচ্ছে- ড. ইউনূসকে সরকার মানহানি করেছে। সরকার যদি গ্রামীণ ব্যাংকের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে চায় তাহলে দোষের কি আছে।’’ তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে মার্কিন সরকারের উদ্বেগের বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে। কোন ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে তা সরকার নিরসনের উদ্যোগ নেবে।
| < Prev | Next > |
|---|



