বোমাং রাজা অংশৈ প্রু চৌধুরী আর নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান : বান্দরবানের ১৫ তম বোমাং রাজা (সার্কেল চিফ) অংশৈ প্রু চৌধুরী আর নেই। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ৯ টায় তিনি নিজ বাস ভবনে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। বোমাং রাজার মৃত্যুতে বান্দরবানের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। সকালে শত শত মানুষ বোমাং রাজ বাড়িতে ভিড় করে। এছাড়া পার্বত্য চট্রগ্রাম মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী দিপংকর তালুকদার এমপি, পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস্ উল হুদা, জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম. পুলিশ সুপার কামরুল আহসানসহ বিভিন্ন স্থরের লোকজন বোমাং রাজার মেরদেহ দেখতে রাজবাড়িতে ছুটে যান।
সকালে বোমাং রাজার মৃত্যুর পর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা রাজবাড়িতে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন ও প্রয়াত রাজার জন্য প্রার্থনা করেন। বান্দরবান জেলা পরিষদে বোমাং রাজার সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া পুলিশ লাইনে ইফতার মাহ্ফিলে রাজার সম্মানে নিরবতা পালন করা হয়। মৃত্যূর পর বোমাং রাজাকে তার রাজকিয় পোশাক পরিয়ে তার বিছানায় শুয়ে দেয়া হয়। সেখানে দর্শনার্থরা প্রার্থনা করেন রাজার জন্য। এদিকে বোমাং রাজার মৃত্যুতে পুরো পার্বত্য চট্রগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বোমাং রাজা মৃত্যুকালে স্ত্রী ৬ পুত্র ২ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। রাজপরিবারের সূত্র জানায় আগামী ২৪ আগস্ট শুক্রবার বোমাং রাজার মরদেহ সৎকার করা হবে। শহরের রাজার মাঠে শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রাজবাড়ির পক্ষ হতে। গতকাল দুপুরে রাজপরিবারের সদস্যরা বৈঠক করে এ সিন্ধান্ত নেন। এদিকে প্রতিমন্ত্রী দিপংকর তালুকদার ও বীর বাহাদুর এমপি রাজার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
বোমাং রাজার জীবন বৃত্তান্ত : বোমাং রাজার জন্ম ১৯১৮ সালের ১ আগস্ট। বোমাং রাজা অংশৈপ্রু চেীধুরী ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর বোমাং সার্কেলের ১৫ তম রাজা নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও ১৯৭৯ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম আসনে স্বতন্ত্র পার্থী হিসেবে নির্বাচীত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে সরকারের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বান্দরবানের শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি অনগ্রসর ম্রো আদিবাসি ছেলে মেয়েদের জন্য ম্রো আবাসিক বিদ্যালয় গড়ে তুলেন। তার সময়ে বোমং সার্কেলের ঐতিহ্যবাহি ১৪ টি রাজ কর আদায়ের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান রাজ পুণ্যাহ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো রাজকীয় এ অনুষ্ঠান দেখতে দেশ বিদেশের অসংখ্য লোক বান্দরবানে ভিড় জমায়। ব্রিটিশ শাসন আমলে পার্বত্য চট্রগ্রামের তিন জেলায় ভূমি রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য যে তিনটি সার্কেল গঠন করা হয় তার মধ্যে বোমাং সার্কেল সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যমন্ডিত। বোমাং রাজা অংশৈপ্র চেীধুরী ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর বোমাং সার্কেলের ১৫ তম রাজা নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও ১৯৭৯ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম আসনে স্বতন্ত্র পার্থী হিসেবে নির্বাচীত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে সরকারের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বান্দরবানের শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি অনগ্রসর ম্রো আদিবাসি ছেলে মেয়েদের জন্য ম্রো আবাসিক বিদ্যালয় গড়ে তুলেন। তার সময়ে বোমং সার্কেলের ঐতিহ্যবাহি ১৪ টি রাজ কর আদায়ের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান রাজ পুণ্যাহ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো রাজকীয় এ অনুষ্ঠান দেখতে দেশ বিদেশের অসংখ্য লোক বান্দরবানে ভিড় জমায়। ব্রিটিশ শাসন আমলে পার্বত্য চট্রগ্রামের তিন জেলায় ভূমি রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য যে তিনটি সার্কেল গঠন করা হয় তার মধ্যে বোমাং সার্কেল সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যমন্ডিত।
পরবর্তী বোমাং রাজা যিনি হবেন : বোমাং সার্কেলে রাজপরিবারের মধ্যে সব চেয়ে বয়ঃজেষ্ঠ্য ব্যক্তিরা রাজা হয়ে থাকেন। ১৪ তম বোমাং রাজা মংশৈপ্রু চৌধুরীর মৃত্যুর পর অংশৈপ্রু চৌধুরী বয়স্ক হিসেবে ১৫ তম বোমাং রাজা নির্বাচিত হন। বর্তমানে রাজপরিবারে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ তম রাজা ক্যজসাইন এর পুত্র কে এস প্রু চৌধুরী রয়েছেন। সম্প্রতি মারা যান অপর বয়স্ক রাজপুত্র এম এস প্রু। রাজপ্রথা অনুযায়ী পরবর্তী রাজা হবেন কে এস প্রু। তবে এ বিষয়ে এখনো কোন সিন্ধান্ত হয়নি। সরকারের সিন্ধান্ত ক্রমে চট্রগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার বোমাং রাজার শপথ বাক্য পাঠ করান।
| < Prev | Next > |
|---|



