খাতুনগঞ্জ থেকে ভুয়া ডাক্তার গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন খাতুনগঞ্জ এলাকা থেকে আব্দুর রহিম প্রকাশ মানিক নামে এক ভুয়া ও প্রতারক ডাক্তার নামধারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ভুয়া ডাক্তারি সনদসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের নাম, সীল, স্বাক্ষরযুক্ত দলিলাদি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, ডাক্তার পরিচয়দানকারী আসামি আব্দুর রহিম প্রকাশ মানিক গত ১১ জুলাই নিজেকে একুশে হাসপাতালের ডা. আব্দুর রহিম পরিচয় দিয়ে খাতুনগঞ্জ রামজয় মহাজন লেইনের আসমা চেম্বারে অবস্থিত লংকা বাংলা ফাইন্যান্স লিঃ-এ ক্রেডিট কার্ড পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ আবেদন করেন। লংকা-বাংলা কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনপত্র ও সংযুক্ত কাগজপত্রাদি প্যারাগন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তদমত্ম করিয়ে থাকেন। সে হিসেবে আবেদনকারীর দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি প্যারাগন টিমের বরাবরে প্রেরণ করা হয়। প্যারাগন টিমের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা আবেদনকারীর কাগজপত্রাদি দায়সারাভাবে তদমত্ম করে লংকা-বাংলায় দাখিল করলে নিয়ম মোতাবেক আবেদনটি ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। সেখানে পাঠানোর পর ঢাকা অফিসের কর্মকর্তারা আবেদনকারীর দাখিলকৃত আবেদনে অসংখ্য শব্দের বানান ভুল দেখতে পান। এতে তাদের সন্দেহ হলে আবেদনটি চট্টগ্রামে ফেরত পাঠান এবং লংকা বাংলা‘র খাতুনগঞ্জ শাখার কর্মকর্তাদের বিষয়টি সরেজমিন তদমত্ম করার নির্দেশন দেন। এরপ্রেক্ষতে লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স-এর চট্টগ্রাম শাখার কর্মকর্তাগণ আসামির দাখিলকৃত কাগজপত্র অর্থাৎ একুশে হাসপাতালের প্যাডে দাখিলকৃত চাকzুর ও বেতনের প্রত্যয়ন পত্র, আয়কর সনদপত্র, ইসলামী ব্যাংক, সিডিএ এ্যাভিনিউ শাখার দাখিলকৃত ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, এমবিবিএস ডাক্তারি সনদ, ভিজিটিং কার্ডসমূহ তদমত্ম করে সম্পূর্ণ জাল ও ভুয়া দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মকর্তারা আবেদনকারী মো. আব্দুর রহিমকে মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জ ব্রাঞ্চে টেলিফোনে ডেকে আনেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, তার দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি সম্পূর্ণ জাল। কর্মকর্তারা বিষয়টি কোতোয়ালী থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় পুলিশ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তার হাতব্যাগ তলস্নাশি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভুয়া সার্টিফিকেটসহ একই নামে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র, একাধিক হাসপাতালের ডা. আব্দুর রহিম নামে ভিজিটিং কার্ড, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একাধিক বস্ন্যাঙ্ক ট্রেড লাইসেন্স, একাধিক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডসহ বিপুল পরিমাণ কাগজপত্রাদি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার কতিপয় সহযোগী জালিয়াতি চক্র/প্রতিষ্ঠানের যোগসাজসে উদ্ধারকৃত জাল দলিলাদি তৈরির কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ।এ ব্যাপারে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ এনে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আসামি আব্দুর রহিম কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার বড়কূপ কলেজ রোডের সিরাজুল ইসলামের পুত্র। তিনি নগরীর বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় রোডের মা টাওয়ারে ভাড়ায় থাকতেন বলে জানায় পুলিশ।
| < Prev | Next > |
|---|



