সোমবার, ০৬ অগাষ্ট ২০১২
পার্বত্য জেলাগুলোতে বিদেশি সাংবাদিক
যেতে বাধার অভিযোগ সুলতানা কামালের
সরকার পার্বত্য জেলাগুলোতে বিদেশি সাংবাদিক প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের কো-চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘‘চলতি বছর পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে তিনজন বিদেশি নাগরিককে বহিস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে সুইডেনের এক সাংবাদিককে বান্দরবান শহরে ঢোকার সময় আটক করে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়।
’’-বিডিনিউজ‘‘এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের উপদেষ্টাম লীর সদস্য টমাস ক্রিশ্চিয়ান এস্কিল্ডসেনকে’’, যোগ করেন তিনি।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল অভিযোগ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল, কটেজ এবং রিসোর্ট ব্যবস্থাপকদের কাছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র ছাড়া বিদেশিদের নামে কোনো কক্ষ সংরক্ষণ করা যাবে না। ‘‘এ বিষয়গুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে মুক্তভাবে চলাফেরার ওপর প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ।’’সুলতানা কামাল বলেন, আগামী ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালনে সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা না করার জন্যও সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমাও গত ২ অগাস্ট একই অভিযোগ করেন। সুলতানা কামাল বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে ‘আদিবাসী’ শব্দটা থাকলেও এখন তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘‘সরকারের এই পদক্ষেপ আমাদেরকে হতাশ করেছে। পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন বোধ করছি’’, মন্তব্য করেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী থেকে চাপ এসেছে যে, যেসব দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সে দেশে আদিবাসী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। আর তাই আদিবাসীদের সংজ্ঞা বদলে ফেলা হয়েছে।’’১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) মধ্যে শান্তিচুক্তির মধ্যে দিয়ে ওই এলাকায় পাহাড়ি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটে। তবে শান্তি চুক্তির অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ পাহাড়িদের।এদিকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে ‘উপজাতি’র বদলে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বদলে ‘আদিবাসী’ পরিচয় দাবি করছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো।