চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার,২১ মে ১৩ । ৭ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ১০ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Tuesday,21 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

সোমবার, ০৬ অগাষ্ট ২০১২

এক মাস পরও এডিপি বরাদ্দের কোন খবর নেই
কোন উন্নয়ন প্রকল্পে হাত দিতে পারছে না ৬১ জেলা পরিষদ

কামরুল ইসলাম : বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)’র আওতায় বরাদ্দ না পাওয়ায় দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ কোন প্রকল্পে হাত দিতে পারছে না। নতুন অর্থবছরের এক মাস চলে যাওয়ার পরও এডিপি বরাদ্দের কোন খবর নেই। এখন প্রশাসকরা মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। বর্তমানে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োজিত রয়েছেন সরকারি দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা। তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি বাদে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয় গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর। প্রশাসকরা রাজনৈতিক নেতা হওয়ায় স্থানীয় উন্নয়নের জন্য এলাকার লোকজন প্রতিদিন তাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প তাদেরকে বাসত্মবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছেন । কিন্তু তারা কিছুই করতে পারছেন না। উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পাওয়া বরাদ্দ এবং নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের টাকায় পরিষদ প্রকল্প বাসত্মবায়ন করে। এখন পর্যমত্ম পরিষদে এডিপি’র আওতায় বরাদ্দের পরিমাণ কত সেটা আসেনি। তাই প্রশাসকরা কত টাকার মধ্যে কতগুলো প্রকল্প বাসত্মবায়ন করা সম্ভব হবে সে পরিকল্পনা নিতে পারছেন না। এডিপি বরাদ্দ দ্রুত না পাওয়ায় অনেক জেলা পরিষদ প্রশাসক অসন্তুষ্ট। তারা প্রকল্প হাতে নিয়ে বসে আসেন, বাসত্মবায়নে হাত দিতে পারছেন না। সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে  মনে করছেন যে বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে করতে মুখে যতটা আন্তরিক, বাস্তবে ততটা আন্তরিক নয়। প্রশাসকদের কোনো রকম প্রশাসনিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি। তাদের পদমর্যাদাও চূড়ান্ত হয়নি।  উন্নয়ন কর্মকারে জন্য তাদেরকে তাকিয়ে থাকতে হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে। বর্তমান সরকারের অন্যতম একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল স্থানীয় সরকারকে  শক্তিশালী করা। সাড়ে তিন বছরে এই প্রতিশ্রুতি বাসত্মবায়নে তেমন কোন অগ্রগতি নেই। জানা যায়, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করার ক্ষমতা দেয়ার জন্য একটি নথি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ৫০ হাজার টাকার অধিক ব্যয়সাপেক্ষ কোন প্রকল্প নিতে গেলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করলে অনুমোদন দেবে।  অর্থাৎ জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকারে সব ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের হাতেই রেখে দেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ একটি সক্রিয় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপামত্মরিত হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ সালাম-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রসঙ্গে জানান, আমরা প্রকল্প হাতে নিয়ে বসে আছি। এডিপি বরাদ্দ পেলে বাসত্মবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম একটি বৃহৎ জেলা। কেবল ফটিকছড়ি উপজেলার আয়তনই অনেক জেলার চেয়ে বড়। গত বছর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল চলতি অর্থবছরে তার অমত্মতঃ দ্বিগুণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে বলে আশা করছি। বিভাগীয় জেলা হিসেবে এডিপি-র অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে আয়তনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। চলতি অর্থ বছরে চট্টগ্রাম জেলায় উন্নয়ন খাতে পরিষদের আওতায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ সালাম উল্লেখ করেন।উল্লেখ্য, প্রশাসকদের নিয়োগ দেয়ার সময় সরকার ছয় মাসের মধ্যে জেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার কথা বলেছিল। প্রশাসকরাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠককালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের দাবি করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো লক্ষণই নেই। বর্তমান সরকারের বাকি সময়ের মধ্যে এই নির্বাচনের সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যাভিজ্ঞমহলের মতে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে  অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো জেলা পরিষদকেও শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই।

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড