সোমবার, ০৬ অগাষ্ট ২০১২
গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তিন প্রকল্প
সেই তেরো হাজার আবেদনকারীর
অনিশ্চয়তার প্রহর কবে শেষ হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তিন আবাসন (প্লট ও ফ্ল্যাট) প্রকল্পের ১৩ হাজার আবেদনকারীর ভাগ্যের কূল-কিনারা হয়নি দেড় বছরেও। খুব শীঘ্রই লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদনকারীদের অপেক্ষার প্রহর ঘুচবে, এমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনই ঘোর অনিশ্চয়তার কারণে আবেদনের টাকা তুলে নেয়ার হিড়িক পড়েছে।জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর মাইজদীতে স্বল্প ও মধ্য,
আয়ের লোকদের জন্য ফ্ল্যাট ও প্লট বরাদ্দের আহবান জানিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয় ২০১০ সালে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের হালিশহরের জি ব্লকে ১০ তলা বিশিষ্ট ছয়টি ভবনের ২১৬টি ফ্ল্যাটের জন্য দরখাস্ত আহবান করা হয় ওই বছরের জুলাই মাসে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা পড়ে ৫৮৭টি। আর আবেদনের অনুকূলে জামানত পাওয়া যায় ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অন্যদিকে কৈবল্যধাম, হালিশহর, শেরশাহ ও ফিরোজশাহ কলোনিতে বিভিন্ন আয়তনের ১৭৭টি প্লটের জন্য একই বছরের অক্টোবর মাসে দরখাস্ত আহবান করা হয়। আবেদন জমা পড়ে ৫ হাজার ৫৩৬টি। এর বিপরীতে জামানত জমা হয় প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা। এছাড়া, মাইজদী প্রকল্পের ২৭১টি প্লটের জন্য ওই একই বছরের ডিসেম্বরে দরখাস্ত আহবান করা হলে জমা পড়ে ৬ হাজার ৭শ’টি আবেদনপত্র। জামানত পাওয়া যায় প্রায় ৫৪ কোটি টাকা।এদিকে, তিন প্রকল্পে প্রায় ১৩ হাজার আবেদনকারীর জামানত বাবদ প্রদত্ত ২০৭ কোটি টাকা আটকে থাকলেও কবে প্রত্যাশিত সেই লটারি অনুষ্ঠিত হবে, সঠিক তথ্য জানা নেই কারো। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে বলা হয়, আগামী মাসের মধ্যেই হয়ে যাবে। সেই আগামী মাস আর আসেনি। আবেদনকারীদের অভিযোগ, গত দেড় বছর ধরে এ ধরণের আশ্বাস পেয়ে এখন রীতিমতো ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছি ।একাধিক আবেদনকারী অভিযোগ করে বলেন, প্রসপেক্টাসে ছয় মাসের মধ্যে লটারি অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করা হলেও আবেদন গ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ইতিমধ্যে ফ্ল্যাট প্রকল্পের সময় দুই বছর আর প্লট প্রকল্পের সময় দেড় বছরেরও অধিক কেটে গেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন প্রকল্পেরই লটারি অনুষ্ঠিত হয়নি। কবে হবে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানতে গেলে কর্মরত কর্মকর্তা- কর্মচারীগণ এ ব্যাপারে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।দেওয়ানহাট এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সৈয়দুর রহমান নামে এক আবেদনকারী করে বলেন, লটারি অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুত সময় পরে গৃহায়ণ অফিসে জানতে চাইলে কর্মকর্তারা প্রতিবারই বলতেন, ‘আগামী মাসে হবে। কিন্তু এখন আর কোন মাস- তারিখ বলতে চান না তারা। এখন বলেন, ধৈর্য রাখতে না পারলে টাকা তুলে ফেলেন।’প্রায় একই ধরণের বক্তব্য, নাসিরাবাদস্থ গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অফিসে আসা কয়েকজন আবেদনকারীর। ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব আবেদনকারী বলেন, লটারি অনুষ্ঠানে সমস্যা কি, একথা জানানোর মতো সৌজন্যতাও কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেন না। খবর নিয়ে জানা যায়, অপেক্ষা করতে করতে ধৈর্যহারা আবেদনকারীদের মধ্যে ১১২ জন ইতিমধ্যেই তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে জামানতের টাকা তুলে নিয়েছেন। আরো আড়াই শতাধিক আবেদনকারীর টাকা ফেরত নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, কৈবল্যধাম ও শেরশাহ এলাকার কিছু প্লট নিয়ে মামলা রয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি প্লটের মাপ নিয়েও কিছু জটিলতা থাকায় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া এসব সমস্যা নিরসন সম্ভব নয় জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে ৭/৮ মাস আগেই। প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবে নাগাদ এই লটারি অনুষ্ঠিত হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।