সোমবার, ০৬ অগাষ্ট ২০১২
টিকিট ভুলিয়ে দিল সব কষ্ট

রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটায় টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন ৬৭ বছরের বৃদ্ধ রুহুল আমীন। দীর্ঘ ছয়ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় হাতে পেয়েছেন ঢাকা যাওয়ার ১৪ আগস্টের টিকিট।- বাংলানিউজ আর তা হাতে পেয়েই যেন সব ক্লান্তি কেটে গেল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে এ বৃদ্ধের। টিকিট হাতে পাওয়ার পর অনুভূতি,
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কষ্টে হলেও বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা হলো। নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে পারবো।’কেবল রুহল আমিন নয়, এবার ঈদে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে বাড়ি যাওয়া নিশ্চিত করতে শনিবার মধ্যরাত থেকেই চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে টিকিটের জন্য আসতে শুরু করেন শত শত যাত্রী। ভোর রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে সকাল নয়টায় শেষ হলো অপেক্ষার পালা। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুরু হলো টিকিট দেয়া। টিকিট নিতে আসা একাধিক যাত্রী জানালেন সময় একটু বেশি হলেও টিকিট পাচ্ছেন তারা। টিকিট বিক্রির শুরুর দিনে যাত্রীদের হৈচৈ ছাড়া তেমন কোনো ঝামেলা লক্ষ্য করা যায়নি। যাত্রীরা টিকিটও পেয়েছেন চাহিদা মতো। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত টিকিট সংগ্রহ করেছেন যাত্রীরা। সোয়া ১২টার দিকে মহানগর গোধূরী’র সব টিকিট শেষ হলেও অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছিল। স্টেশনে উপস্থিত রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) রোকনুজ্জামান বলেন, টিকিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করা হবে। তবে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেলে লাইনে যাত্রী থাকলেও দেয়া সম্ভব হবে না। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের ছাত্র আলমগীর টিকিট পেয়ে বলেন, কলেজ বন্ধ। তাই বন্ধুরা মিলে প্রথম দিনেই বাড়ি যাওয়ার জন্য টিকিট নিতে এসেছি। সকাল পাঁচটায় লাইনে দাঁড়িয়ে ৪টি টিকিট পেয়েছেন বলে জানান তিনি।রেল স্টেশনে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাক (জিএম) তাফাজ্জল হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, কঠোর নিরাপত্তায় শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে প্রথম দিনের (১৪ অগাস্ট) টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়। তিনি বলেন, এবার টিকিট কালোবাজারী রোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাব দায়িত্ব পালন করছে। যাত্রীর তুলনায় কাউন্টার কম কেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে জিএম বলেন, যাত্রীদের তুলনায় কাউন্টার কম বিষয়টি আমরা জানি। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে কাউন্টার বাড়ানো যাচ্ছে না। এসময় জীবনের মায়া ত্যাগ করে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ না করার জন্য তিনি যাত্রীদের আহবান জানিয়েছেন। ১৬ আগস্ট থেকে দু’টি স্পেশাল ট্রেন : প্রতিবারের মতো এবারো ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম থেকে দুটি স্পেশাল ট্রেন চালু করা হবে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর ও নোয়াখালী রুটে স্পেশাল ট্রেন দু’টি চলবে। চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ম্যানেজার শামসুল আলম বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো ১৬ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম থেকে দু’টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। প্রতিদিন দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর ও সকাল সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী রুটে এ ট্রেন দু’টি চলবে। তিনি জানান, প্রতিবার ঈদে যাত্রীদের সুবিধার্থে রেলওয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এরই অংশ হিসেবে ঈদ উপলক্ষে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন ও স্পেশাল ট্রেন চালু করা হবে। রোকনুজ্জামান জানান, এসবের পাশাপাশি প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার আগে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হবে। টিকিট গ্রহণের আগে যাত্রী তথ্য ফরম পূরণ করায় কালোবাজারি অনেকটা বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।