চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার,২৩ মে ১৩ । ৯ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ১২ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Thursday,23 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

সোমবার, ০৬ অগাষ্ট ২০১২

‘কোচিংয়ে যাদু মন্ত্র থাকলে তা ক্লাসে কেন প্রয়োগ হয় না’
কোচিং বাণিজ্য অব্যাহত নীতিমালার পরও প্রয়োগ নেই

খোরশেদুল আলম শামীম : নীতিমালা করেও রমরমা কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা যাচ্ছে না। আসন্ন পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নগর ও উপজেলা পর্যায়ে এখনো আগের মতো কোচিং বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। অভিভাবক মহলের প্রশ্ন, কোচিংয়ে যাদু মন্ত্র থাকলে তা ক্লাসে কেন প্রয়োগ হয় না, গত ২০ জুন সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ প্রণয়ন করে সরকার। এর পর সবগুলো বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাস করলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার দুইশ টাকার বেশি নেয়া যাবে না। এ বিষয়টি সংযোজন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশোধন করে। নীতিমালা অনুযায়ী এক হাজার দুইশ টাকা দিয়েই শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ আটটি বিষয়ে পড়তে পারবে। অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য মহানগর এলাকায় প্রতি বিষয়ে ১২টি ক্লাসের জন্য ৩০০ টাকা, জেলা শহরে ২০০ টাকা ও উপজেলা পর্যায়ে ১৫০ টাকার  বেশি নেয়া যাবে না বলে নীতিমালায় বলা হলেও একাধিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কত টাকা নেয়া যাবে সে বিষয়ে কিছুই নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়নি।জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন। কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ছাত্রছাত্রীর তালিকা, রোল, নাম ও শ্রেণী উল্লেখ করে জানাতে হবে। নীতিমালা প্রণয়েনের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, কোচিংয়ের সাথে জড়িত শিক্ষকদের তালিকা করা হয়েছে। একশ’ জন ছাত্র পড়ান এমন শিক্ষকেরও খোঁজও মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে নীতিমালাটি পাঠানো শেষ হলেই তদারকি কমিটি মাঠে নামবে।সরেজমিনে গিয়ে এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করে দেখা পাওয়া গেছে অন্য চিত্র। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আসন্ন পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নগর ও উপজেলা পর্যায়ে এখনো আগের মতো রমরমা কোচিং বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। কোচিং করার ক্ষেত্রে কোন অভিভাবক ইচ্ছে পোষণ না করলে তাদের সন্তানরা নানা পরিস্থিতির শিকার হয়। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নেয়া হচ্ছে খেয়াল খুশি মতো টাকা। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাসিক হিসেবে, আবার কোন প্রতিষ্ঠানে এককালীন হিসেবে টাকা আদায় করছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কোচিং বাবদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নগর পর্যায়ে প্রতিমাসে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করার রেকর্ডও পাওয়া গেছে। আর নগর পর্যায়ে জেএসসি পরীক্ষার কোচিং বাবদ নেয়া হচ্ছে তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোতেও কোচিংয়ের জন্য একই হারে টাকা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে এই হারে টাকা আদায় না করলেও তবে নীতিমালার কোন তোয়াক্কা করছে না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আছেন, যারা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অথবা নিজের বাসা বাড়ি অথবা অন্যত্র ভাড়া করা ভবনে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। বাহারি নামের নানা কোচিং সেন্টারগুলোর পাশাপাশি অনেক কোচিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে নাম ছাড়া। কোচিং বাণিজ্যকে আড়াল রাখার জন্য কোচিং সেন্টারের পরিবর্তে বিভিন্ন কৌশলী শব্দ জুড়ে দেয়া হচ্ছে। কিছু কিছু কোচিং সেন্টার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের শতভাগ নিশ্চয়তার নামে মানুষকে প্রতারিত করছে। বিভিন্ন এলাকায় সাঁটা হচ্ছে রঙবেরঙের পোস্টার ও ব্যানার। অভিভাবকদের অভিমত, দৃশ্যমান মনে হয় কোচিং বাণিজ্যে কাছে নীতিমালা অসহায়। নীতিমালায় উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কোন তদারক দল মাঠে নেই। বাধ্য হয়ে তারা সন্তানদের কোচিংয়ে দিচ্ছে। কোচিং না করার নানা কুফলের ব্যাখ্যা দিয়ে অভিভাবকদের মানসিক ভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। তাছাড়া কোচিং করতে ইচ্ছে পোষণ না করলে শিক্ষার্থীদের নানা পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। তাদের প্রশ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ক্লাস থাকার পর আবার কোচিং কি জন্য। ক্লাসের সময় কোচিং করার নামে অতিরিক্ত ফি নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিমাসে  টিউশন ফি’র ক্ষেত্রে কিন্তু কোন প্রকার ছাড় দেয়া হচ্ছে না। কোন কোন অভিভাবকের প্রশ্ন ক্লাসের মাধ্যমে যদি কোন শিক্ষার্থীর অগ্রগতি না হয়, তাহলে কোচিংয়ে কিভাবে সম্ভব কোচিংয়ের ক্ষেত্রে যদি কোন যাদু মন্ত্র থাকে, তাহলে তা ক্লাসে কেন প্রয়োগ করা হয় না l

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড