বুধবার, ০১ অগাষ্ট ২০১২
গাড়ি পোড়ানোর মামলায় অভিযুক্ত : ৭ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ
ফখরুলদের বিচার শুরু
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৬ নেতার বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন দ্রুত বিচার আদালত-৫ এর বিচারক হারম্নন-আর-রশিদ। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় শুনানি শেষে ওই মামলায় তাদেরকে অভিযুক্ত করেন আদালত।
-বাংলানিউজচার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে ফখরুলদের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।আগামী ৭ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরম্নর দিন ধার্য করেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ গঠনকালে মামলার আসামি সাদেক হোসেন খোকা, আমান উল্লাহ আমান ও নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।তবে সাদেক হোসেন খোকা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য, আমান উলস্নাহ আমান ও নাজিম উদ্দিন আলম ওমরাহ হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে থাকায় তাদের পক্ষে আলাদা আদালাভাবে সময়ের আবেদন করা হয়। আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিচারক আবেদনগুলো নাকচ করে দিয়ে তাদের জামিন বাতিল করে দেন। একই সঙ্গে ওই তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।এর আগে গত ২০ জুন, ৩ ও ২৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।চার্জ শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তুমুল হৈ চৈ ও বাক বিতয় জড়িয়ে পড়েন। চার্জ গঠনের আদেশ প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে আসামিপক্ষের বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতে হৈ-হট্টগোল শুরু করেন। তারা বিচারকের প্রতি কটুক্তি করেন। এজলাসের মধ্যেই শ্লোগান দেন। চার্জ শুনানির শুরম্ন থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তপ্ত ছিল আদালতের পরিবেশ।এর আগে গাড়ি পোড়ানোর মামলাটি দ্রুত বিচার আদালত-৫ এর বিচারক হারুন-অর-রশিদের আদালতে স্থানন্তর করেন সিএমএম আদালত। বেলা পৌনে একটা নাগাদ স্থানান্তরিত আদালতে চার্জ শুনানি শুরু হয়। তবে এ মামলাটি ছিল দ্রুত বিচার আদালত-৭ এর বিচারক মোহাম্মদ এরফান উল্লাহর আদালতে। সকালে বিচারকের প্রতি আসামিপক্ষ অনাস্থা প্রকাশ করায় মামলার নথি সিএমএম আদালতে প্রেরণ করেন তিনি। সিএমএম আদালত পরে মামলার চার্জ শুনানি বিচারের জন্য দ্রুত বিচার আদালত-৫ এর বিচারক হারুন-অর-রশিদের আদালতে মামলাটি হস্তান্তর করেন।বিচারক এরফান উল্লাহর আদালতে সকাল সাড়ে দশটায় আসামিপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা করা হয়েছে মর্মে আদালতকে অবহিত করেন।তিনি বলেন, ‘‘যেহেতু আদালতের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তাই বিষয়টি হাইকোর্টে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চার্জ শুনানি মুলতবি রাখা হোক। এ বিষয়ে আইনজীবীর সনদপত্র দাখিল করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের আবেদন সংক্রান্ত আইনজীবী সনদের আদালতে দাখিল করা হয়েছে। সাধারণত এমতাবস্থায় সময় মঞ্জুর করার বিধান রয়েছে।’’তিনি চার্জ শুনানি সাত অথবা দশদিন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আলম তালুকদার ও রেজাউল করিম চার্জ শুনানি স্থগিত রাখার বিরোধিতা করেন।আব্দুলস্নাহ আবু বলেন, ‘‘যেহেতু হাইকোর্টে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়নি এবং চার্জ শুনানির বিষয়ে হাইকোর্টের কোনো স্থগিতাদেশ নেই, সুতরাং চার্জ শুনানি করতে কোনো বাধা নেই।’’শুনানি শেষে বিচারক আসামিপক্ষের চার্জ শুনানি স্থগিতের আবেদন নাকচ করে দেন এবং চার্জ শুনানি করার নির্দেশ দেন। বিচারকের এ আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে যাবেন, মর্মে চার্জ শুনানি স্থগিত রাখার জন্য ফের আবেদন করেন। বিচারক তাও নাকচ করে দেন।এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন এবং তার আদালতে মামলার শুনানি করবেন না মর্মে জানান। এমন পরিস্থিতিতে বিচারক এরফান উলস্নাহ সোয়া ১১টায় মামলা নথি মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) বিকাশ কুমার সাহার কাছে পাঠিয়ে দেন। সিএমএম মামলাটির শুনানি ও বিচারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দ্রম্নত বিচার আদালত-৫ এর বিচারক হারম্নন-অর রশিদের কাছে প্রেরণ করেন। হারম্নন- অর রশিদের আদালতে পৌনে একটায় মামলার শুনানি শুরম্ন হয়। একই ভাবে তারা আদালতে সময়ের আবেদন করেন। বিচারক তাদের আবেদন নাকচ করে দিয়ে চার্জ শুনানি করতে বলেন। কিন্তু আসামিপক্ষ চার্জ শুনানি না করে বারবার সময়ের আবেদন করলে বিচারক রেকর্ড অনুযায়ী সকল আসামির বিরম্নদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দেন। চার্জ শুনানি উপলক্ষে সকাল ১০টা নাগাদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আববাসসহ প্রায় সব আসামি আদালতে উপস্থিত হন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, সানাউলস্নাহ মিয়া, বোরহান উদ্দিন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ আলম, মোহসীন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ওমর ফারম্নক ফারম্নকী প্রমুখ আইনজীবী। এছাড়া জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানসহ বিএনপিপন্থী শতাধিক আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।এ মামলার ৪৬ আসামির মধ্যে মির্জা ফখরম্নলসহ ৩৯ জন আসামিই জামিনে আছেন। চারজন পলাতক ও তিনজন কারাগারে আটক আছেন। মঙ্গলবার মির্জা ফখরম্নলসহ জামিনে থাকা ৩৬ জন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।মির্জা ফখরম্নল ছাড়া এ মামলার উলেস্নখযোগ্য আসামিরা হচ্ছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, সাবেক মেয়র বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খোন্দকার মোশারফ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী, ছাত্রদলের সাবেক নেতা কামরম্নজ্জামান রতন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উলস্নাহ আমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আববাস, স্বনির্ভর সম্পাদক রম্নহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম ফজলুল হক মিলন, আমত্মর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংসদ সদস্য ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুন-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমীরম্নল ইসলাম খান আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ঢাকা মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজনু, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আহবায়ক ইয়াসিন আলী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক আঃ মতিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ লিটু, বিএনপি নেতা ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাসার, বিএনপি নেতা ও ৪০ নং ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ারম্নজ্জামান আনোয়ার, লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান ওরফে এল রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান, খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক কমিশনার ইউনুস মৃধা, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাইল খান শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল মোহাম্মাদপুর থানা শাখার সভাপতি মান্নান হোসেন শাহীন, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার যুগ্ম-সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির।জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল হোসেন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরম্নল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবিরের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও সেক্রেটারি আব্দুল জববার জসিম মামলার শুরম্ন থেকেই পলাতক। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর ‘সন্ধান’ দাবিতে বিএনপির ডাকে হরতালের সময় গত ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানো হয়। ওই রাতেই তেজগাঁও থানায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ৪৪ নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করে পুলিশ। গত ১০ মে মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীরসহ ৪৫ জনের বিরম্নদ্ধে মামলাটিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ২৭ মে ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জববারকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়।