বুধবার, ০১ অগাষ্ট ২০১২
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা
বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা বেড়েছে
কুদ্দুস আফ্রাদ, ঢাকা অফিস : সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে গত বছরে (২০১১) দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে; এমন তথ্য ও মূল্যায়ন ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে প্রকাশ করেছে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুয়সী প্রশংসাও করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘‘উত্তরাধিকার আইনকে নারীদের প্রতি আরো ন্যায্য করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত দেশে নারী অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।
’’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘এছাড়া সরকার ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মাধ্যে আইন-শৃংখলা রক্ষার ক্ষেত্রে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার অপব্যাবহারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি এবং যখন কোনো সংঘাত ঘটেছে তখন পুলিশ যথাসময়ে বিশৃংখল পরিস্থিতি সামাল দিতে ও আইন শৃংখলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।’’ ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ হিসেবে বলা হয়, ‘‘সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সরকারের শীর্ষ পদগুলোতে বসানো হয়েছে এবং সংখ্যালঘু ধর্মীয় তহবিলে অবদান রেখেছে।’’ এছাড়া ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে যায় বা নিপীড়নমূলক- এমন ফতোয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং নারী অধিকার রক্ষায় সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার অধিকাংশ ঘটনাই ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতপার্থক্যগত কারণের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ ভূমিকার রাখে।’’ গত সোমবার এই ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন ২০১১’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশকালে সরকারি মুখপাত্র জানান, প্রতি বছর বিশ্বের সব দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। দেশটির ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন, ১৯৯৮’ অনুযায়ী এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনগত দায়িত্ব। গেল বছরে বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের পরিস্থিতির বিবরণ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। বাংলাদেশ বরাবরই ‘সংবিধান, আইন এবং সরকারের অন্যান্য নীতি দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনে অধিকার সংরক্ষণ করে। সরকারও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি গুরুত্ব দেয়’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ‘এবছর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সরকারের প্রতিরক্ষা মূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে’। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘‘সংসদে ২০১১ সালে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০১১ (সংশোধিত) পাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তহবিলের জন্য নির্ধারিত টাকা এক কোটি থেকে বাড়িয়ে চার কোটি করা হয়েছে। এই পরিমানটি নির্ধারন করা হয়েছে গত ২৭ বছরের জন্য। কারণ এই ট্রাস্টটি গঠন করা হয়েছে ১৯৮৩ সালে এবং ২০০৯ সালে আগে এর জন্য কোনো বোর্ড গঠন করা হয়নি। সরকার বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ তিন কোটি থেকে পাঁচ কোটিতে উন্নিত করার উদ্যোগও হাতে নিয়েছে।’’ বলা হয়, ‘‘এছাড়াও সরকার আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নীতি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে হচ্ছে, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ইসলাম ধর্মীয় ফতোয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যে, কোনো প্রকার ফতোয়ার মাধ্যমে কোনো ধরণের দন্ড দেয়া যাবে না এবং চলমান ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বিরোধী কোনো আদেশও এর মাধ্যমে দেয়া যাবেনা।’’প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানে আনা এক সংশোধনীতে ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম উল্লেখ করা হলে দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ‘আহমদিয়াদের ওপর হয়রানি এখনও চলছে’ বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে এবং বিবৃতিতে ঢাকাস্থ অমেরিকান দূতাবাস সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে সরকারকে তাগিদ দিচ্ছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা দেশে প্রকাশ্যে ও লোকচক্ষুর আড়ালে সংগঠিত ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার নিন্দা জানিয়েছে। সরকারকে নাগরিকের যথাযথ অধিকার সংরক্ষণে আহবান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘দেশটিতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বৃদ্ধির ক্ষেতে আমেরিকা সরকারের অনেক কর্মসূচি চলমান আছে।’’| < Prev | Next > |
|---|



