বুধবার, ০১ অগাষ্ট ২০১২
পাঁচ লাখ টাকার জন্য এক কিশোর অপহরণ ৩১ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র ১১ বছরের এক কিশোরকে অপহরণের ৩১ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে এক অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বায়েজিদ থানা পুলিশ ও র্যাব। অপহৃত শিশু সজিব আমিন জুট মিল ড্রাইভার কলোনির স্থায়ী বাসিন্দা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র। ধৃত অপহরণকারী নুরুল ইসলাম (১৭) ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরের বেতুয়া গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুকুল ইসলাম জানান, গত ২৯ জুলাই সকাল ১১ টায় আমিন জুট মিল এলাকার মুরাদ নগর ড্রাইভার কলোনির নিজস্ব বাড়ি থেকে সজিব বের হওয়ার পর আমির জুট মিল ৪ নং গেটের আর এস টেলিকমের কর্মচারী নুরুল ইসলাম তাকে একজন লোক ডাকছে এই কথা বলে আর এস টেলিকমে নিয়ে যায়। এরপর ছেলেটির হাত পা বেঁধে মুখে টেপ লাগিয়ে দোকানের পিছনের একটি রুমে ফেলে রাখে। এরপর দোকান মালিক রাশেদ দোকান বন্ধ করে দিয়ে সজিবের পিতা জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলে ফোন করে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তার ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদান করে। অপহরণের ব্যাপারে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অভিযোগ দায়ের ও র্যাব-৭কে অবহিত করে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। র্যাব ও পুলিশ জাহাঙ্গীর আলমকে অপহরণকারীদের টাকা দেয়ার কথা জানিয়ে আলাপ অব্যাহত রাখার জন্য নিদের্শ দেয়। জাহাঙ্গীর আলম সোমবার ৩০ জুলাই বিকেলে অপহরণকারীদের টাকা জোগাড় করার কথা জানায়। এরই মধ্যে র্যাব ও পুলিশ অপহরণকারীরা কোন স্থান থেকে কথা বলছে তা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করে সন্ধ্যায় আর এস টেলিকমে অভিযান চালিয়ে সজীবকে বন্দী অবস্থায় উদ্ধার করে অপহরণকারী নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল হোতা রাশেদ পালিয়ে যায়। সজীবের পিতা জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন বিদেশে চাকুরী করে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি রাশেদ জানার পর এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ জানয়েছে। ধৃত নুরুল ইসলামকে স্বীকারোক্তি প্রদানের জন্য মহানগর হাকিমের আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিকেল ২টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। বায়েজিদ বোস্তামী থানার এসআই জাকির হোসেন জানান, স্বীকারোক্তিতে নুরুল ইসলাম বলেছে সে আর এস টেলিকমের কর্মচারী। দোকানের মালিক রাশেদের নির্দেশে সে সজিবকে ডেকে নিয়ে গেছে। জবানবন্দী রেকর্ডের পর আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।