চট্টগ্রাম, রবিবার,১৯ মে ১৩ । ৫ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ০৮ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Sunday,19 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

বুধবার, ০১ অগাষ্ট ২০১২

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে চালের দাম কমলেও কমেনি খুচরা বাজারে

মোহাম্মদ আলী : পাইকারি বাজারে চালের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বোরো ফসল উঠার তিন মাসেও চাক্তাইয়ে পাইকারী বাজারে চালের দাম বাড়েনি। বরং রমজানের শুরুতে প্রত্যেক শ্রেণীর চালের দাম প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ১০ থেকে ১৫ টাকা করে কমেছে। চাক্তাই ঘুরে জানা যায়, এবার বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হওয়ায় দেশে স্থানীয় মোকামগুলো থেকে চালের সরবরাহ বেড়ে যায়। সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাইকাররাও প্রচুর পরিমাণ চালের মজুদ করে।

কিন্তু বাজারে সে তুলনায় বিক্রি বাড়েনি। ফলে পাইকারি বাজারে মন্দা চলছেই। কিন্তু খুচরা বাজারে চালের দাম খুব একটা কমেনি। গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে কেজি প্রতি সর্বনিম্ন ৩২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪১ টাকা করে চাল বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম আতপ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩২ টাকা এবং জিরাশাইল হচ্ছে ৪১ টাকা করে। পারি সিদ্ধ, দেশি বেতী, মিনিকেট সিদ্ধ, মিনিকেট আতপ, পাইজাম সিদ্ধসহ অন্যান্য চালও খুচরা বাজারে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়। বাজারের কোথাও পাইকারি বাজারের চালের কম মূল্যের প্রভাব পড়ছে না।চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম চালের বাজারে অব্যাহত মন্দার কারণে আগামী বছর থেকে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, ‘ফলন ভাল হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত খরচের কারণে এবার বোরো চাষ করে কৃষকরা লোকসান দিয়েছেন। তার ধারাবাহিকতায় পর্যাপ্ত মজুদ করে লোকসান গুণছেন পাইকাররা। কৃষক যদি চাষ করে লোকসানে পড়েন তাহলে তারা চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে ধান চাষ থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন। এর প্রভাবে পরবর্তী ১/২ বছরের মধ্যে দেশীয় মোকামে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। দেশ হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর। তখন দামও চলে যায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এ জন্য সরকারের উচিত ভাল ফলনের জন্য উপযুক্ত দাম দিয়ে কৃষককে উৎসাহিত করা। যাতে তারা ভাল চাষের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখেন।’  ওমর আজম জানান, ‘বোরো চাষ উঠার পর থেকে গত তিনমাস ধরে চালের বাজারে মন্দা অব্যাহত আছে। সাম্প্রতিক  বন্যার পর গ্রামাঞ্চলে সরকারি সাহায্য হিসেবে চাল প্রদান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি কর্তৃক ন্যায্য মূল্যে বিক্রিসহ বিনামূল্যে বিতরণের কারণে চালের বাজার মন্দা হয়েছে। তাছাড়া রমজানে অন্য সময়ের তুলনায় চালের চাহিদা কমে। এ সময় ইফতারি পণ্যের চাহিদা বাড়ে। সে কারণে মানুষের মধ্যে ভাত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। পাইকারী বাজারে খবর নিয়ে জানা যায়, রমজান শুরুর আগে চালের দাম প্রতি বসত্মায় ১০/১৫ টাকা করে কমলেও গত ১০ দিন ধরে স্থিতিশীল আছে। চাক্তাইয়ের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনসা স্টোরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রতি ৫০ কেজি বসত্মা পারি সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ১৪০৭ টাকা, মিনিকেট আতপ ১৩৭৩ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ১৫০৭ টাকা, দেশী বেতী ১১৭০ টাকা, দেশি মোটা আতপ ১০৪০ টাকা, পাইজার আতপ ১৭০০ টাকা, পাইজাম সিদ্ধ ২১৪০ টাকা, জিরাশাইল ১৬৭৫ টাকা, নাজিরশাইল সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ১৬৪০ টাকায়। তিনি জানান, সাধারণ মানের চালের বাজারে দুরবস্থা চললেও রমজানের শুরুতে চাহিদা বেড়েছে চিনিগুড়াসহ সব ধরণের সুগন্ধি চালের। ইফতার সামগ্রিতে ব্যবহারের কারণে এ চালের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে উন্নত মানের ৫০ কেজি বসত্মার চিনিগুড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০৮০ টাকা এবং মধ্যমানের চিনিগুড়ার দাম ২৮৮০ টাকা। এখানকার কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বোরো চাষে অতিরিক্ত খরচ হওয়ার পরও বাজারে ধানের দাম না বাড়লেও খুচরা বাজারে চালের মূল্য তেমন একটা কমেনি।

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড