চট্টগ্রাম, শুক্রুবার,২৪ মে ১৩ । ১০ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ১৩ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Friday,24 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

বুধবার, ০১ অগাষ্ট ২০১২

দাদনদারের কাছে জিম্মি জেলেরা
সীতাকুন্ড উপকূলে পূর্ণিমার জো’তে ইলিশ ধরা পড়ছে


নিজস্ব সংবাদদাতা সীতাকুন্ড : দীর্ঘ সময় পর সীতাকুন্ড উপকূলে আবারো রুপালী ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। পূর্ণিমার জো’তে ইলিশের ঝাঁক বঙ্গোপসাগরের এই উপকূলে ঘুরতে এসে জালে আটকা পড়ায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না জেলেদের। আর একসাথে খুব বেশি মাছ ধরা না পড়লেও যা পড়ছে তাতেই খুশি মৎস্যজীবীরা। তবে মাছ কূলে নিয়ে আসার পর দাদনদারের কাছে জিম্মি হয়ে ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত হচ্ছে জেলেরা। এতে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের সীতাকুন্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেলে দীর্ঘদিন  পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মিলছিলো না। এমনকি ইলিশের ঘোর মৌসুম বলে পরিচিত জুন-জুলাইতেও গভীর সমুদ্রে জাল ফেলে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছিল জেলেদের। এতে জেলেদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিলো। তবে হাল ছেড়ে দেননি তারা। জীবন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন গেছেন গভীর সমুদ্রে। কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে। ব্যতিক্রম হয়নি এক্ষেত্রেও। জেলেদের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি সেই ইলিশ নামক সোনার হরিণটির দেখা মিলছে। বিশেষত গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে পূর্ণিমার জোঁ’তে জালে উঠে আসছে রুপালী ইলিশ। আর এতেই খুশি নেমে এসেছে জেলে পল্লীতে।সরেজমিন গতকাল দুপুরে সীতাকুন্ডের কুমিরা ঘাটঘর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য জেলে মাছ ধরা শেষে একসাথে নৌকা নিয়ে সাগর থেকে ফিরছেন। তাদের প্রত্যেকের সাথেই আছে ঝাঁকা ভর্তি ইলিশ। দেখা যায়, ছোট, বড়, মাঝারি ৩ রকমের মাছই ধরা পড়েছে। কুমিরা জেলে পল্লীর বাসিন্দা চিন্তাহরণ জলদাশ ও ধ্রুব জলদাশ জানান, বেশ কিছুদিন সাগরে মাছ পাওয়া যায়নি। কিন্তু পূর্ণিমার জোঁ হওয়ায় এখন ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। একটি নৌকাতে ৫/৭টি জাল নিয়ে যাওয়া হয়। একটি জালে সর্বনিম্ম ৫/১০টি ইলিশ ধরা পড়ছে। ক্ষেত্র বিশেষে এর চেয়ে বেশিও ধরা পড়ে। সব মিলিয়ে প্রতিবার সাগরে গেলে ১০/১৫ হাজার টাকার মাছ ধরা যায়। ঘোর মৌসুম হিসেবে এই মাছের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও যা পাওয়া যাচ্ছে তাতেই খুশি তারা। সাগরপাড়ে ঘুরে দেখা যায়, অসংখ্য জেলে একসাথে মাছ ধরে এনে জড়ো করে রেখেছেন। তরতাজা মাছ দেখে সীতাকুন্ড-সন্দ্বীপ ঘাটের যাত্রীসহ অনেকেই দেখে দরদাম করে মাছ কিনে নিচ্ছেন। একটি বড় সাইজের ইলিশ ৫ থেকে ৭/৮’শ টাকাও বিক্রি হচ্ছে। জেলেরা জানান, এভাবে কোন ব্যক্তি কিনলে তারা কিছুটা লাভবান হন। নচেৎ আশানুরুপ দাম পান না দাদনদার ও মধ্যসত্বাভোগিদের জন্য। ধ্রুব জলদাশ জানান, কুমিরা জেলে পল্লীর শতকরা ৯৫ জনই দাদন গ্রহীতা। কারো না কারো কাছ থেকে দাদন নিয়ে অভাবের সময় সংসার চালানোয় এ মৌসুমে বহু কষ্টের মাছগুলো দাদনদারের ধার্য্যকৃত নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে হয়। দাদনদাররা প্রতি কেজি গড়ে মাত্র ৮০/১শ টাকায় কিনে নেন। অথচ তারা বাজারে নিয়ে এই মাছ প্রতিকেজি (সাইজ অনুযায়ী) ২ থেকে ৫/৬’শ টাকায় বিক্রি করেন! কিন্তু আগেই দাদন নিয়ে জিম্মি হয়ে থাকায় কিছুই করার থাকে না তাদের। তবে তাদেরকে ন্যায্য মূল্য বঞ্চিত করায় জেলেদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করেন। সীতাকুন্ডের সলিমপুর জেলে সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলে সর্দার হরিলাল জলদাশও পূর্ণিমা জোঁ’তে ইলিশ ধরার পড়ায় জেলেরা খুশি বলে জানান। সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি মাছ পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড