শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২
তালসরায় টাকা লুটের চার্জশিট : ৬ জনকে অব্যাহতি
জুলফিকারসহ অভিযুক্ত ৭
মোস্তফা মোহাম্মদ এমরান, আদালত প্রতিবেদক : আনোয়ারা তালসরায় পীরের আস্তানা থেকে দুই কোটি টাকা লুটের মামলায় র্যাব-৭ সাবেক অধিনায়ক লে.কর্নেল (বরখাস্ত) জুলফিকার আলী মজুমদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট্ দাখিল করেছে পুলিশ। অন্যান্য আসামিরা হলেন- র্যাব কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেনেন্ট শেখ মাহামুদুল হাসান, ডিএডি আবুল বাসার, এসআই তরুণ কুমার বসু, র্যাব সোর্স আনোয়ার মিয়া দিদারুল আলম ও মানত বড়ুয়া। এদের মধ্যে র্যাবের সোর্স আনোয়ার ও মানত বড়ুয়া পলাতক আছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬ জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে সুপারিশ করা হয়। জুলফিকার আলী মজমুদার গ্রেপ্তারের দেড় মাস পর গত ২১ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির পুলিশ ডেসপাচে গতকাল বৃহস্তপতিবার ১২ পৃষ্ঠার ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, র্যাব সোর্স দিদারুল আলম ও তরুণ কুমারকে ৭ লাখ টাকা করে এবং আবুল বাসারকে লুটের ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়। মাহমুদুল হাসানকে ১৫ লাখ টাকা এবং বাদ বাকি টাকা জুলফিকার আলী মজুমদার নিয়ে নেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার ওসি আবদুস সামাদ আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন, এএসআই হাসানুজ্জামান, নায়েক জাহাঙ্গীর আলম, নায়েক সুমন চন্দদ্রে, আনসার মো: লিটন, সৈনিক জসীম উদ্দীন ও আশরাফ উদ্দীন । জানতে চাইলে ওসি আবদুস সামাদ পূর্বকোণকে বলেন, আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, বিভাগীয় তদন্ত রিপোর্ট ও সাক্ষ্যপ্রমাণে র্যাব-৭ এর সাবেক পরিচালক জুলফিকার আলী মজুমদারসহ সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তের সত্যতা না পাওয়ায় ছয় জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ৪২ জনকে চার্জশিটে সাক্ষী রাখা হয়েছে।জেলা কোর্ট পরিদর্শক অনু মং বলেন, ‘আনোয়ারা থানা থেকে চার্জশিট পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো কোর্টহিলে এসে পৌঁছুয়নি। চার্জশিটটি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা হবে।’তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তে জুলফিকারের নেতৃত্বে দরবারের টাকা লুট হওয়ার প্রমাণ মেলে। জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থ উদ্ধারের কথা বলে দরবারে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন জুলফিকার। পরে ঘটনা ফাঁস হলে অভিযানে অংশ নেওয়া সব কর্মকর্তা সিপাহীদের কাছ থেকে দরবারের কোন টাকা জব্দ করা হয়নি বলে অঙ্গিকারনামা নিয়েছিলেন জুলফিকার। অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই তরুন কুমার বসু ও ডিএডি বাশার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা স্বীকার করেন। এছাড়া আরো কয়েকজন আসামি তাদের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দরবারের টাকা লুটের বর্ণনা দেন। পুলিশ ও র্যাবের তদন্তেও বিষয়টির সত্যতা মেলে। পরে জুলফিকারকে র্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে নেয়া হলেও পরবর্তীতে সেখান থেকেও তিনি বরখাস্ত হন। তদন্তে উঠে আসে তিনটি গাড়ি নিয়ে জুলফিকারের নেতৃত্বে তালসরা দরবারের আস্তানায় পৌঁছান ফ্লাইট সার্জেন্ট মাহমুদ। এ সময় একটি কক্ষের আলমিরায় টাকা পান মাহমুদ। পরে ওই কক্ষের দুটি দরজা বন্ধ করে দেন। মোবাইল ফোনে জুলফিকারকে জানানো হয়। পরে সেখানে পৌঁছেন জুলফিকার। অভিযানে পাঁচ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। অভিযান শেষে তিনটি ব্যাগে করে দুই কোটি সাত লাখ টাকা নিয়ে যান জুলফিকার। মামলা হতে অব্যাহতি প্রাপ্ত ৬ জন সুবিধাভোগী নয়। তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযানে অংশ নিয়েছেন। টাকা লুটের ঘটনা সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না। এ জন্য তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। টাকা বন্টনের মধ্যে র্যাবের সোর্স দিদারুল আলম ৭ লক্ষ, তরুণ কুমার ৭ লক্ষ, বাসার ৩ লক্ষ করে পান। মাহমুদুল হাসান ১৫ লক্ষ টাকা ও বাদ বাকি টাকা লে: ক: জুলফিকার আলী মজুমদার নেন। এছাড়া মামলার চার্জশিটে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ ও চুরির অভিযোগও আনা হয়।প্রসঙ্গত, গত বছর ৩ নভেম্বর আনোয়ারার তালসরা দরবার শরীফের দুই কোটি টাকা লুটের ঘটনায় দরবারের গাড়ি চালক মো. ইদ্রিস বাদী হয়ে জুলফিকারসহ ১০ র্যাব সদস্য এবং দুই সোর্সের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। গত ৩ মে ভোররাতে ঢাকার মগবাজারের ডাক্তার গলি এলাকায় একটি বাসা থেকে আনোয়ারা ও রমনা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে জুলফিকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২১ জুন তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান।