চট্টগ্রাম, সোমবার,২০ মে ১৩ । ৬ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ০৯ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Monday,20 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে খালেদা জিয়ার সেল তৎপর

কুদ্দুস আফ্রাদ, ঢাকা অফিস : নানা কারণে বহিঃবিশ্বে শেখ হাসিনার সরকার অনেকটাই মিত্রহীন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে বিরোধী দল বিএনপি। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসকে অপসারণ ও পদ্মা সেতুর ইস্যু নিয়ে সরকারের ভূমিকায় শুধু দাতা সংস্থাগুলি-ই নয়, কয়েকটি প্রভাবশালী দেশও সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট। এই নাজুক অবস্থায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কেবল মাত্র ভারত-ব্রিটেন ছাড়া বেশির ভাগ দেশ সরকারের আহবানে জোরালোভাবে সাড়াও দিচ্ছে না।

যার ফলে, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু গড়ার হুমকি দিয়েও পিছু হটতে হয়েছে সরকারকে। মূলত, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. ইউনূসকে একতরফাভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরেই দেশের বাইরে মিত্রহীন হতে থাকে সরকার। যদিও সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে তারা বেআইনি কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। কেননা ড. ইউনূস উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরে সরকারের সিদ্ধান্তকেই বৈধ বলে রায় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বহিঃবিশ্বে সরকারের এ নৈতিক অবস্থানকে গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাদের কাছে ড. ইউনূসকে অসম্মান করার বার্তাকে-ই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের এই কোনাঠাসা পরিস্থিতির মুখে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া সম্প্রতি তার বিদেশ বিষয়ক সেলকে সক্রিয় করেছেন। ভারত ও ব্রিটেনের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী, প্রাক্তন সচিব-কুটনীতিক সাবিহ উদ্দিন আহমদ, প্রাক্তন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলেছেন। তার বাইরে দলের সঙ্গে প্রকাশ্যে সক্রিয় নন, অন্তত এমন আরও ৫ জনকে আন্তর্জাতিক বিষয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া। দলের বিশেষ এক সূত্র আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন- এমন এক নেতাকেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কন্নোয়নের কাজে জড়িত করা হয়েছে। সরকারের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্যই নাকি ওই নেতাকে বহিস্কার করা হয়। অবশ্য, এর আগে আরও কয়েকবার বিএনপি থেকে ওই বিশেষ নেতা বহিস্কৃত হয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার দফতরের ঘনিষ্ঠ সুত্র জানায়, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতা অনেক আগেই চুকে গেছে। ব্রিটেনের সঙ্গেও আগের মত সম্পর্ক নেই। ভারত-ই কেবল সরকারের পাশে রয়েছে। সূত্র মতে, দিল্লির সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর জন্য গত দেড় বছর ধরে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ জন্য কংগ্রেসের দুজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তার বাইরে দিল্লিতে লবিস্টও নিয়োগ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বিজেপি সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রী লবিস্ট হিসাবে দিল্লির প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কাজ করছেন। বিএনপি সূত্রে আরও জানা গেছে, সবুজ সঙ্কেত পেলে আগামী সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে বেগম খালেদা জিয়া ভারত সফরে যেতে পারেন। সূত্র জানিয়েছে, এই লক্ষ্যে সম্প্রতি বেগম জিয়ার গুলশানের দফতরের দু’জন কর্মকর্তা ভারত সফর করেছেন। এ দু’জন নেতা বেগম জিয়ার খুব ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করছে সূত্র। সূত্র আরও জানিয়েছে, এই দু’জন নেতা প্রায় সব সময়ই খালেদা জিয়ার বিদেশ সফরসঙ্গী হন। এদের একজন খুলনা অঞ্চলের। আরেকজন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীরকে তেমন একটা পাত্তা দেয়ার প্রয়োজনবোধ করেন না। সূত্র দাবি করেছে, দিল্লি বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে নিজে থেকেই আগ্রহ ব্যক্ত করেছে? গত বছর প্রণব মুখার্জি (সদ্য রাষ্ট্রপতি ও প্রাক্তন অর্থ মন্ত্রী) বাংলাদেশ সফরকালে  বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন, কোনও দলের সঙ্গে নয়, আমরা (ভারত) বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে চাই।  জানা গেছে, তিনি দিল্লি ফিরে গিয়ে খালেদা জিয়ার জন্য উপহার সামগ্রীও পাঠিয়েছিলেন। বিএনপির নীতি-নির্ধারক মহল মনে করেন, প্রণব মুখার্জি এখন ভারতের রাষ্ট্রপতি। এ সময়ে খালেদা জিয়া ভারত সফরে গেলে নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও পোক্ত হবে। তাছাড়া, ভারতের সঙ্গে আগের মত বৈরী সম্পর্ক রাখা হলে, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক তৈরি করা যাবে না। বিএনপি ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক মহলও মনে করেন, ভারতের পরামর্শেই দক্ষিণ এশিয়ার নীতি প্রণয়ন করে থাকে আমেরিকা।এদিকে, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে বেগম জিয়ার মক্কা যাওয়ার কথা রয়েছে। রমজানের শেষ দশ দিন পবিত্র হেরেম শরীফে ইবাদত বন্দেগিতে কাটানোই উদ্দেশ্যেই তিনি মক্কায় যাচ্ছেন।

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড