শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২
রহমতের রমজান
রায়হান আজাদ : ঈমান আনার পর একজন মুসলমানের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নামাজ কায়েম করা। পুরুষদের জন্য নামাজ সর্বাবস্থায় ফরজ। আর মহিলারা কয়েকটি বিশেষ অবস্থা ছাড়া অন্য সবসময় নামাজ আদায় করে। নামাজ ছাড়া মুসলমানের ঈমানের দাবি করা অবান্তর। নামাজ সবসময় বান্দাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নামাজ ছাড়া শুধু রোজা কেন কোন ইবাদতই গ্রহণযোগ্য হবে না। তাকওয়া বা খোদাভীতির ভিত্তিমূল হল নামাজ।
আর রোজা মুমিনদের অন্তরে তাকওয়া পয়দা করে। রোজা সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ ফরমায়েছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারো।রাসুলে আকরাম (সাঃ) হাদীস শরীফে বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির উপর স্থাপিত। প্রথম - সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া কোন মাবুদ নাই, মুহাম্মদ (সাঃ) তার বান্দা ও রাসুল। দ্বিতীয়-নামাজ কায়েম করা, তৃতীয়-রোজা রাখা, চতুর্থ- যাকাত আদায় করা, আর পঞ্চমত: হজ্জ করা।নামাজ ইসলাম ধর্মের মৌলিক ইবাদাত। নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। কোন মুসলমান নামাজ আদায় না করে রোজা ও হজ - যাকাত পালন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ পাক ছুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা আল কুরআনে ফরমায়েছেন, - ‘নিশ্চয় নামাজ মু মিনদের উপর ওয়াক্ত মোতাবেক ফরজ করা হয়েছে’।এ বাধ্যতামূলক ইবাদাত-নামাজ আদায় না করে সিয়াম সাধনা করা উপবাসের নামান্তর। রোজা একটি বিশেষ মাস রমজানুল মোবারকে ফরজ। আর পানজাগানা নামাজ স্থায়ীভাবে সকল মু’মিনের ওপর সমানভাবে ফরজ। শরীয়তের অন্যান্য আরকান-আহকাম পালন না করে নিছক সামাজিকতা রক্ষা ও আনুষ্ঠানিকতা দেখানোর জন্য রোজা রাখা সমীচীন নয়। রোজাকে আল্লাহ তা’য়ালা ফরজ করেছেন মু’মিনদের অন্তরে তাকওয়া সৃষ্টির জন্য। তাকওয়া শব্দের অর্থ খোদাভীতি। ঈমান ও আমলী জিন্দেগীর প্রত্যেক ক্ষেত্রে বান্দা আল্লাহর বিধি-নিষেধ স্মরণ রেখে কাজ আনজাম দেওয়াই তাকওয়া। রমজানুল মোবারক তাকওয়া হাছিলের মাস। মিথ্যা, কুকর্ম ও অসামাজিক কাজ থেকে নিজেকে আত্নরক্ষা করে তাকওয়া অর্জনই সিয়াম সাধনার লক্ষ্য। কুরআন শরীফে এরশাদ হয়েছে ‘নামাজ সকল অশ্লীলতা, অন্যায় ও অসামাজিক কাজ থেকে বান্দাকে বিরত রাখে’। যাবতীয় শরীয়তবিরোধী কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হলে রোজা রাখা দিনব্যাপী উপবাসের নামান্তর। রাসুলে (সাঃ) বুখারী শরীফে ফরমায়েছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বা কুকর্ম ত্যাগ করে না সে পানাহার পরিত্যাগ করেছে কি করে নি, উপবাস থেকেছে কি থাকে নি আল্লাহ পাক তার খবর রাখার প্রয়োজন মনে করেন না।’অতএব, আজ এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দৈনন্দিন নামাজ আমাদেরকে অবশ্যই পড়তে হবে। নামাজবিহীন শরীয়তের কোন আমলই কবুল হয় না। তাই নামাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে - ‘নামাজ দ্বীন ইসলামের ভিত্তি স্বরুপ’। এ ভিত্তি ঠিক রেখেই আমাদেরকে রোজাসহ অন্যান্য সৎকাজ করতে হবে। যেহেতু রোজা পালনের প্রকৃত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তাকওয়া হাছিল সেহেতু অন্যায়, গর্হিত ও অসৎ কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। আর তাই হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানদারীর সঙ্গে ছাওয়াবের আশায় রমজান মাসে নামাজ আদায় করে তার অতীত পাপ মার্জনা করা হয়’।আল্লাহ আমাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায়ের গুরুত্ব অনুধাবন এবং তাকওয়াভিত্তিক আমলের মাধ্যমে রমজানের রোজা রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।