শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২
রাঙামাটিতে অপহৃত সাত গ্রামবাসী উদ্ধার হয়নি
স্বজনদের উৎকন্ঠা :পুলিশ ও সেনা অভিযান চলছে
পূর্বকোণ প্রতিনিধি, রাঙামাটি অফিস : গত বুধবার রাঙামাটিতে অস্ত্রের মুখে অপহৃত ৭ গ্রামবাসীর ভাগ্যে কি ঘটেছে তা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যমত্ম কোন সূত্রে জানা যায়নি। সূত্রে জানা গেছে, অপহৃতদের আত্মীয়স্বজন বর্তমানে চরম উৎকন্ঠার মধ্যে আছেন, অপহৃতদের ভাগ্যে কি ঘটেছে। এলাকার কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে কোন প্রকার মমত্মব্য করা থেকে বিরত থেকেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্রামবাসী পূর্বকোণকে জানান, এখানে প্রত্যন্ত পল্লীতে আমরা আছি উভয় সংকটে। দু’টি সশস্ত্র পক্ষের মধ্যে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে। আর এতে যে কোন সাধারণ নিরীহ গ্রামবাসীর জীবনহানি হতে পারে। এলাকায় যখন যে পক্ষ অবস্থান নেয়, তখন গ্রামবাসীদের সেই পক্ষের হয়ে থাকতে হয়। আবার কোন সময় কোন এক পক্ষের দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষের লোক সন্দেহে সাধারণ গ্রামবাসীকে নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে অপহৃত এবং মৃত্যু দন্ডে দন্ডিত করা হয়। বর্তমানে পাহাড়ে অনেকেই তাদের পিতাকে, ভাইকে এবং স্বামীকে হারিয়েছেন।এদিকে, অপহৃত গ্রামবাসীদের উদ্ধারের বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মাসুদ উল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি পূর্বকোণকে জানান, বৃহস্পতিবার পর্যমত্ম অপহৃদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বা তাদের কোন প্রকার সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। তিনি জানান, অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ৫টি পেট্রোল টিম যৌথভাবে জোর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তাছাড়া এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমেও অপহৃতদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এ পর্যমত্ম অপহৃতদের কোন স্বজন লিখিতভাবে থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। আমরা নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছি।উলেস্নখ্য, গত বুধবার রাঙামাটিতে সাপ্তাহিক বুধবারের বাজারে বিকিকিনির উদ্দেশ্যে উক্ত গ্রামবাসীরা কান্ট্রি-বোটে আসছিল। আসার পথে তারা যখন বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের লরিছড়া মুখ এলাকায় পৌঁছে, তখন অপর একটি কান্ট্রি-বোটে অপেক্ষমান ১৭/১৮ সদস্য বিশিষ্ট সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র একটি দল তাদেরকে থামায়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা উক্ত ৯ গ্রামবাসীকে অপহরণ করে এবং মাস্যাপাড়া এলাকার দিকে নিয়ে যায়। অপহৃতরা হলেন বিজয় চাকমা (৩৮)পিতা রাজকধন চাকমা, গ্রাম- করল্যামুড়া পাড়া, চন্দ্র শেখর চাকমা (২৫)পিতা কুরকুত্যা চাকমা, গ্রাম- ঐ, তরম্নণ চাকমা (২৯) পিতা কোগিল চগা চাকমা, গ্রাম- ঐ,অরম্নণ চাকমা (৪২) পিতা কোগিল চগা চাকমা, গ্রাম- ঐ,সাধন মিত্র চাকমা (৩০) পিতা আনন্দ মোহন চাকমা, গ্রাম- ঐ,মিন্টু চাকমা (৩৩) পিতা কিনাধন চাকমা, গ্রাম- পলাদ-আদাম, সুমন চাকমা (৩০)পিতা সতীশ চাকমা, গ্রাম- পলাদ-আদাম, জ্ঞানরতন চাকমা (৩৩) পিতা সূর্যধন চাকমা, গ্রাম সাহসবান্দা, ইন্দ্র রঞ্জন চাকমা (৩৫) পিতা বুদ্ধমনি চাকমা, গ্রাম- সাহসবান্দা।পরে সন্ত্রাসীরা অপহৃত ৯ গ্রামবাসীর মধ্য থেকে ২ জনকে (জ্ঞান রতন চাকমা (৩৩) পিতা সূর্যধন চাকমা, গ্রাম- সাহসবান্দা ও ইন্দ্র রঞ্জন চাকমা (৩৫) পিতা বুদ্ধমনি চাকমা, গ্রাম- সাহসবান্দা) পরে মাস্যাপাড়া এলাকায় মুক্তি দেয়।| < Prev | Next > |
|---|



