শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১২
হুমায়ূনের সম্পত্তি নিয়ে ট্রাস্ট গঠনে আইনি জটিলতা অনেক
হুমায়ূন আহমেদের সম্পত্তি নিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্ট গঠন করার ব্যাপারে জটিলতা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে সংশিস্নষ্ট মহলের ধারণা। এ পর্যমত্ম ট্রাস্ট গঠন বিষয়ে আইন এবং লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত।-বাংলানিউজনিউইয়র্ক থেকে ফিরে গণমাধ্যমের কাছে শাওন জানান, মৃত্যুর আগ পর্যমত্ম হুমায়ূন আহমেদ তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দেখভালের জন্য একটি বোর্ড অব ট্রাস্টি গঠনের কথা বলে গেছেন।
তিনি লেখকের স্বপ্ন পূরণ করবেন বলেও জানান।এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, ‘‘মৃত্যুর আগে বড় ভাই ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের বিষয়ে কথা বলে গেছেন। তার ইচ্ছা ছিল এমন একটি বোর্ড করার। কিন্তু তিনি তা করে যেতে পারলেন না।’’তিনি আরও বলেন, ‘‘তার সম্পত্তির যারা উত্তরাধিকার তারা এ বিষয়ে কথা বলতে পারবেন। আমি তো আর উত্তরাধিকার না। এছাড়া আপনি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন।’’ট্রাস্ট গঠন বিষয়ে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, ‘‘হুমায়ূন আহমেদের সম্পত্তির যারা ওয়ারিশ, তারা চাইলে ট্রাস্ট হতে পারে। তবে সবাই না চাইলে এটা হবে না। সেক্ষেত্রে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিতে হবে।’’ ব্যারিস্টার রফিকের মতে, ‘‘মেহের আফরোজ শাওনের একার সিদ্ধান্তে ট্রাস্ট গঠন সম্ভব না। তবে শাওন যদি তার ভাগে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে ট্রাস্ট করেন, তা হবে।’’তিনি জানান, হুমায়ূনের অপর পক্ষের চার ছেলেমেয়ে তার উত্তরাধিকারী হবেন। বিচ্ছেদ হওয়ায় গুলতেকিন কোনো অংশ পাবেন না। এছাড়া শাওন ও তার দুই ছোট ছেলেও সম্পত্তির ওয়ারিশ।বোর্ড অব ট্রাস্টি বিষয়ে জানতে চাইলে এড. আহসানুল করিমও বলেন, ‘‘মৃত্যুর আগে হুমায়ূন আহমেদ ট্রাস্ট গঠন না করে গেলে, তার সব সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।’’তিনি বলেন, ‘‘লেখক যদি কারো নামে সম্পত্তি গিফট করে যান, সেই সম্পত্তির নামে ট্রাস্ট হতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা যতদূর জানি, হুমায়ূন আহমেদ কাউকে কোনো সম্পত্তি গিফট করে যাননি। সেকারণে মেহের আফরোজ শাওন তার একার সিদ্ধামেত্ম ট্রাস্ট গঠন করলে তা আইনসিদ্ধ হবে না।’’এদিকে, মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ একজন জানান, হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন পূরণের অংশ হিসেবে ট্রাস্ট গঠন করা হবে। হুমায়ূনের স্বপ্ন পূরণ করতে যা কিছু করা দরকার তা শাওন করবেন।শাওনের মা তহুরা আলী এমপি বলেন, ‘‘এ মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা অত্যমত্ম কষ্টকর। তবুও শাওন সংবাদ মাধ্যমের কাছে অনেক কথাই বলেছেন। সেটা আপনারাও শুনেছেন। তবে হুমায়ূনের চিমত্মা ছিল ট্রাস্ট গঠন করার ব্যাপারে।’’তিনি আরও বলেন, ‘‘আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’’সংশিস্নষ্ট মহলের ধারণা, হুমায়ূনের লেখা বই এবং চলচ্চিত্র ইত্যাদি নিয়ে ব্যবসা করার অভিসন্ধি নিয়েই বোর্ড অব ট্রাস্টি গঠন করার কথা বলা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে প্রায় ৩২২টি বই লিখে গেছেন হুমায়ূন। এছাড়া তার পরিচালিত সাতটি চলচ্চিত্র রয়েছে।এর আগে হুমায়ূন আহমেদের নিজের হাতে গড়া নুহাশপলস্নীকে ট্রাস্টে পরিণত করবেন বলে জানান মেহের আফরোজ শাওন। গত মঙ্গলবার দুপুরে নুহাশপলস্নীর লিচুতলায় দাফন শেষে শাওন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এই নুহাশ পলস্নীকে একটি ট্রাস্ট করতে চেয়েছিলেন হুমায়ূন। কিন্তু তিনি তা করে যেতে পারলেন না।’’‘‘আমার যদি কোনো সুযোগ থাকে তাহলে তার ইচ্ছা পূরণে আমি চেষ্টা করব।’’ নুহাশপলস্নীকে হুমায়ূন একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন বলেও জানান শাওন। ১৯৯৭ সালে ৪০ বিঘা জমির ওপর নুহাশপলস্নী নামের এই বাগান বাড়ি গড়ে তোলেন হুমায়ূন। প্রায় ৩০০ প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ভেষজ গাছের এই বাগান।গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে মারা যান ক্যান্সারে আক্রামত্ম হুমায়ূন আহমেদ।| < Prev | Next > |
|---|



