বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১২
চট্টগ্রামে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে
শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস

খোরশেদুল আলম শামীম : চট্টগ্রামসহ দেশের সবগুলো শিক্ষাবোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। এইচএসসিতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পাসের হার ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতবারের চেয়ে যা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১৪৫ জন।
এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৫৫৮, ছাত্রী ১ হাজার ৫৮৭ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮০২ জন। এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৩৪৩ জন। গতবারের মতো এবারও ছাত্রী পাসের হার বেশি। বিশেষ করে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা গতবারের চেয়ে এবার দেড়গুণ বেড়ে যাওয়ায় সেরাদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন অভিভাবক আর শিক্ষকরা। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে পাসের হার বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ৫৪৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৫৩ হাজার ৯৬৮ জন। পাস করেছে ৩৯ হাজার ১১ জন। গতকাল দুপুর ১টায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী ফলাফল জানতে পেরেছে। এ ছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষার ফলাফল পাঠিয়ে দেয়া হয়। শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফলাফল জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে কোন প্রকার ভুল ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা অবশ্যই ফল প্রকাশের দিন থেকে পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বরাবর লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। সকল শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ১ এপ্রিল থেকে ২২ মে পর্যন্ত তত্ত্বীয় এবং ২৩ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ হওয়ার পর গতকাল ১৮ জুলাই সারা দেশে এক যোগে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।পরিসংখ্যানে জানা যায়, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৫৩ হাজার ৯৬৮ জনের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৯১৭, ছাত্রী ১৯ হাজার ৯৪ জন। পাস করা ৩৯ হাজার ১১ জনের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৯১৭, ছাত্রী ১৯ হাজার ৯৪ জন। বিজ্ঞান বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১০ হাজার ৩২৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৩৯৩, ছাত্রী ৩ হাজার ৯৩০ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৩২৯, ছাত্রী ৩ হাজার ৮৯৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার, ছাত্রী ৯২৮ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ২ হাজার ৬০১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৪৪৯, ছাত্রী ১ হাজার ১৫২ জন। জিপিএ ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ১ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭৮৫, ছাত্রী ৫৩৫ জন। জিপিএ ৩ থেকে ৩ দশমিক ৪৯ পেয়েছে ১ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬৪৪, ছাত্রী ৩৮০ জন। জিপিএ ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ৮৭০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬২২, ছাত্রী ২৪৮ জন। জিপিএ ১ থেকে ১ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ২২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৭, ছাত্রী ৫ জন।মানবিক বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৭ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৩৬৭, ছাত্রী ১০ হাজার ৭২৬ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৬ হাজার ৮৩৫ জন। মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৯, ছাত্রী ৫৩ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ১ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪২৭, ছাত্রী ৮৬৬ জন। জিপিএ ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ১ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫৫৬, ছাত্রী ১ হাজার ৩৩ জন। জিপিএ ৩ থেকে ৩ দমমিক ৪৯ পেয়েছে ২ হাজার ১৩২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭৫০, ছাত্রী ১ হাজার ৩৮২ জন। জিপিএ ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ৪ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৫১৬, ছাত্রী ২ হাজার ৫২২ জন। জিপিএ ১ থেকে ১ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ১ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৫৮, ছাত্রী ৫৮৫ জন।ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৭ হাজার ১৩৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ৫০৩, ছাত্রী ১১ হাজার ৬৩০ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৬ হাজার ৯০৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪১৮, ছাত্রী ৬০৬ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ৫ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৩৭৯, ছাত্রী ২ হাজার ৬৫১ জন। জিপিএ ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৬৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৬৩, ছাত্রী ১ হাজার ৮০৬ জন। জিপিএ ৩ থেকে ৩ দমমিক ৪৯ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৭৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ২৮৮, ছাত্রী ১ হাজার ৬৮৬ জন। জিপিএ ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ৫ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৬৬৩, ছাত্রী ২ হাজার ৩০৭ জন। জিপিএ ১ থেকে ১ দশমিক ৯৯ পেয়েছে ১ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭৪২, ছাত্রী ৩৪৯ জন।চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এবার ৮৮ কেন্দ্রে ১৯১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। গতবার ৮৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী। এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮১ জন অনুপস্থিত ছিল। গতবার অনুপস্থিত ছিল ৪০৪ জন। ফলাফল স্থগিত রাখা হয় ২ জন পরীক্ষার্থীর। গতবারও স্থগিত ছিল ২ জন পরীক্ষার্থীর। এবার বহিস্কৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৬ জন। গতবার বহিস্কৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৭ জন। এবার ছাত্র পাসের হার ৭১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গতবার ছিল ছাত্র পাসের হার ৬৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এবার ছাত্রী পাসের হার ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। গতবার ছাত্রী পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৩২ শতাংশ। এবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গতবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার মানবিক বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ৫১ শতাংশ। গতবার মানবিক বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গতবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এবার চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১ দশমিক ৬১ শতাংশ। গতবার চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৮১ দশমিক ১৫ শতাংশ। মহানগর ছাড়া চট্টগ্রাম জেলার এবার পাসের হার ৬৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গতবার চট্টগ্রাম জেলার পাসের ৬৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। মহানগরসহ এবার চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭৪ দশমিক ০২ শতাংশ। গতবার মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার ৭৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। এবার কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গতবার কক্সবাজার জেলার পাসের হার ৭০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এবার রাঙ্গামাটি জেলার পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গতবার রাঙ্গামাটি জেলার পাসের হার ৫০ দশমিক ৮২ শতাংশ। এবার খাগড়াছড়ি জেলার পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। গতবার খাগড়াছড়ি জেলার পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এবার বান্দরবান জেলার পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। গতবার বান্দরবান জেলার পাসের হার ৫৯ দশমিক ০২ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও পাসের হার শূন্য এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। পাসের শতভাগ এবার এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫টি। গতবার শতভাগ পাসের হার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭টি।এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পীযূষ দত্ত বলেন, গতবারের তুলনায় এবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সার্বিক বিবেচনায় ভাল। পাসের হার এবং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা গতবারের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যা গতবারের তুলনায় দেড়গুণ। তাছাড়া সব চেয়ে বড় কথা এবার পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উপজেলা পর্যায়ে পাসের হার এগিয়েছে। অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের সাথে তুলনা না করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের গতবারের ফলাফলের সাথে তুলনা করলে এবারের ফলাফল সার্বিকভাবে অগ্রগামী। যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে, তার ইতিবাচক দিক এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।এদিকে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিভিন্ন উপজেলা ও কলেজ সাফল্যের সাক্ষর রেখেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।পটিয়া সংবাদদাতা জানান, চলতি ২০১২ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে পটিয়ায় ৭৭.৮২ শতাংশ পাশ করেছে। উপজেলার ১০ টি কলেজে এক হাজার ৯৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক হাজার ৫২৮ জন পাশ করেছে। ৫২ জন জিপিএ-৫ পেয়ে ফলাফল শীর্ষে রয়েছে পটিয়া সরকারি কলেজ। পটিয়া সরকারি কলেজে ৯১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৭৭৫ জন। পাশের হার ৮৫%। কলেজটিতে ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ২৭ জন, বিজ্ঞান থেকে ২৩ জন এবং মানবিক থেকে ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলার হুলাইন ছালেহ নুর কলেজ থেকে ৩৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৮ জন, পাশের হার ৫৫.৯৩%, খলিলুর রহমান মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে ২১৯ জনের মধ্যে ১৭৩ জন, পাশের হার ৭৯%, এজে চৌধুরী কলেজ থেকে ১৮০ জনের মধ্যে ১২৩ জন, পাশের হার ৬৮.৩৩%, খলিল মীর ডিগ্রী কলেজ থেকে ৯৭ জনের মধ্যে ৮১ জন, পাশের হার ৮৩.৫১%, শোভনদন্ডী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৭১ জনের মধ্যে ৫২ জন, পাশের হার ৭৩.২৪%, মনসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৬৭ জনের মধ্যে ৬১ জন, পাশের হার ৯১.০৪%, তদ্মধ্যে জিপিএ-৫ একজন, মুজাফরাবাদ কলেজ থেকে ৩২ জনের মধ্যে ২৩ জন, পাশের হার ৭১.৮৮%, যশোদা নগেন্দ্র নন্দী মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে ২৯ জনের মধ্যে ২১ জন, পাশের হার ৭২.৪১% ও ধলঘাট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২৮ জনের মধ্যে ২১ জন পাশ করেছে, পাশের হার ৭৫%।অন্যদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রী কলেজ শাখায় ৫৮ জনে ৫০ জন ও এজে চৌধুরী কলেজ শাখায় ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন পাশ করেছে।লোহাগাড়া সংবাদদাতা জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজে সর্বমোট ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২০১ জন। তন্মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৮ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ১৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১০৪ জন এবং মানবিক বিভাগে ১৬৭ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৮৯ জন। আলহাজ্ব মোসত্মফিজুর রহমান ডিগ্রী কলেজে সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৮৯ জন এবং পাশ করেছে ২২৩ জন। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ- পেয়েছে ১ জন। তন্মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২৫ জনে মধ্যে পাশ করেছে ৮ জন, মানবিক বিভাগে ১৮৪ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৮২ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ২৫৭ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১১৩ জন এবং বিএমএ ২৩ জনের মধ্যে পাশ করেছে ২০ জন।চুনতি মহিলা ডিগ্রী কলেজে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ জন। তন্মধ্যে পাশ করেছে ২৮ জন এবং মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। এ বিভাগে সর্বমোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ১৯ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১১ জন।মিরসরাইয়ে পাশের হার কমেছে : নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, এবারের এইচএসসির ফলাফলে মিরসরাইয়ের ছয়টি কলেজে পাশের হার গড়ে ৬০ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ জন শিক্ষার্থী। আগের বছর পাশের হার ছিল ৭২% এবং জিপিএ-৫ ছিল ১৮ জন। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বাড়লেও পাশের হার কমে যাওয়ায় সর্বস্তরে তীব্র অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজে পাশের হার ৭৯ %, জিপিএ-৫ ১২ জন; নিজামপুর কলেজে পাশের হার ৭১%, জিপিএ-৫ পাঁচজন; মিরসরাই কলেজে পাশের হার ৬৮%, জিপিএ-৫ দুইজন; বারইয়াহাট কলেজে পাশের হার ৪৭%, জিপিএ-৫ পাঁচজন; জোরারগঞ্জ মহিলা কলেজে পাশের হার ৩৮.৫%; মহাজনহাট ফজলুর রহমান কলেজে পাশের হার ৭২%, জিপিএ-৫ একজন। ফলাফল বিপর্যয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে ফলাফলে এমন ধ্বস নেমেছে। উপজেলা প্রশাসন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু কলেজগুলো এই আওতার বাইরে। কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অবশ্যই সংশিষ্ট অধ্যক্ষদেরকে সজাগ থাকা উচিত।ছয়টি কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তাদের মধ্যে অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। তবে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে সবাই সৃজনশীল পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন। এ পদ্ধতি ভাল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হলেও দুর্বলদের জন্য অনেক কঠিন বলে দাবি তাদের।পেকুয়ায় মাদ্রাসা এগিয়ে : পেকুয়া সংবাদদাতা জানান, পেকুয়ায় উপজেলায় এইচ এস.এস.সি ও সমমানের ফলাফলে কলেজের চেয়ে মাদ্রাসা এগিয়ে রয়েছে। উপজেলার ৬ টি মাদরাসার ১৬২ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে ৭ জন জিপিএ-৫ সহ ১৫৬ জন পাশ করে। যার গড় পাশের হার ৯৬.২৯%। এদিকে, পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ ও পেকুয়া শহীদ জিয়া বিএমআই কলেজ থেকে ২২৭ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ১জন জিপিএ ৫ সহ ২০৬ জন কৃতকার্য হয়েছে। যার গড় পাশের হার ৯০.৭৪%। মাদরাসার ফলাফলে পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম আলিম মাদরাসা থেকে ৩৪ জনের মধ্যে সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। উজানটিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া সিনিয়র মাদরাসার ১২ জনের সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। মৌলভীবাজার ফারুকীয়া সিনিয়র মাদরাসার ২৮ জনের মধ্যে ১ জন জিপিএ-৫ সহ সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে। ফাশিয়াখালী ফাজিল মাদরাসার ৩০ জনের মধ্যে ২ জন জিপিএ-৫ সহ ২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। রাজাখালী বেশারাতুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসার ৩৩ জনের মধ্যে ১ জন জিপিএ-৫ সহ ৩২ জন কৃতকার্য হয়েছে। মগনামা শাহ রশিদিয়া সিনিয়র মাদরাসার ২৩ জনের মধ্যে ২০ জন কৃতকার্য হয়েছে। এদিকে পেকুয়া শহীদ জিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনষ্টিটিউট থেকে ৪৬ জনের মধ্যে সকলই উত্তীর্ন হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ থেকে ১৮১ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ ৫ একজনসহ ১৬০ জন উত্তীর্ন হয়েছে। টেকনাফ সংবাদদাতা জানান, এবারের এইচএসসি পরিক্ষায় টেকনাফ ডিগ্রী কলেজ চমক দেখিয়েছে। একজনও জিপিএ ৫ না পেলেও মোটামুটিভাবে শিক্ষার্থীরা পাস করে কলেজটির মান-সম্মান রক্ষা করেছে। ১৮ জুলাই ঘোষিত ফলাফলে টেকনাফের একমাত্র ডিগ্রী কলেজের ১৩০ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৮১ জনই পাস করেছে। পাসের হার ৬২.৩০%। জানা যায়- ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৭ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯জন পাস ১৮ জন ফেল, বিজ্ঞান বিভাগে ১৩ জনের মধ্যে ৭ জন পাস ৬ জন ফেল, মানবিক বিভাগে ৬০ জনের মধ্যে ৩৫ জন পাস ২৫ জন ফেল হয়েছে। রঙ্গীখালী দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে উক্ত মাদ্রাসাসহ নাইক্ষংখালী জমিরিয়া ও শাহ মজিদিয়া মোট ৩টি মাদ্রাসা অংশ গ্রহণ করেছিল। তম্মধ্যে রঙ্গীখালী মাদ্রাসায় ৩০ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ২৭ জন পাস ৩ জন ফেল হয়েছে। পাশের হার ৯০%, ১জন এ প্লাস পেয়েছে। হ্নীলা শাহ্ মজিদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় ২৭ জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন পাস ১ জন ফেল হয়েছে। পাশের হার ৯৮%, ২ জন এ প্লাস পেয়েছে। রামু সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের রামু উপজেলার একমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রামু ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাধারণ ও কারিগরি বিভাগ মিলে ৭৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এ কলেজে মোট পরিক্ষার্থী ছিলো ৪৮২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে, ৩৫৬ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জনের মধ্যে ১২ জন, ব্যবসায় বিভাগে ২১৪ জনের মধ্যে ১৭৫ জন এবং মানবিক বিভাগে ১৫৮ জনের মধ্যে ৯২ জন পাস করেছে। এছাড়াও কারিগরি শাখায় ৮৫ জন শিক্ষার্থীর ৭৮ জন পাস করেছে। কারিগরি শাখায় পাসের হার ৯১ দশমিক ২৭। পরিক্ষার্থী ছিল ১৫৮জন পাশ করেছে ৯২ জন ,ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২১৬ জন পাশ করেছে ১৭৫ জন , বিজ্ঞান বিভাগে ১৯ জন পাশ করেছে ১২ জন কারিগরি বিভাগে ৮৫ জন পাশ করেছে ৭৭ জন।চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ: এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় এ কলেজ থেকে ২২২ জন পরক্ষিার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। এর মধ্যে ২০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। পাসের হার ৯৬%।