বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১২
সমালোচনার মুখে চিনির দাম কমালো সরকার

কামরুল ইসলাম : প্রচন্ড সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত চিনির দাম কমালো শিল্প মন্ত্রণালয় । কিন্তু এর মধ্যে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। বাজারেও দাম বেড়েছে, সরকারি মিলের চিনিও বিক্রি হয়নি। হঠাৎ করে শিল্প মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা (বিএসএফআইসি) র নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানার চিনির খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে বাজার দরের চেয়ে বেশি। বাজার মূল্যের চেয়ে কেজি প্রতি ১১ টাকা দাম বৃদ্ধি করা হয়। রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টিসিবি’র চিনির দর ডিলার পর্যায়ে ৪৭ টাকা।
ব্যবসায়ীরা তা খোলাবাজারে বিক্রি করেন ৪৯ টাকা থেকে ৫০ টাকায়। রিফাইনারিগুলোর চিনির পাইকারি দর ছিল ৪৭ টাকা। ঠিক এ রকম অবস্থায় শিল্প মন্ত্রণালয় সরকারি কারখানার চিনির খুচরা দর নির্ধারণ করে ৬০ টাকা। রমজানের আগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকারের জন্য চরম আত্মঘাতি । নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারে। পাইকারি দর বেড়ে যায়। রিফাইনারিগুলোর চিনির দর বেড়ে যায় সাথে সাথে। অভিযোগ উঠে যে, এই রিফাইনারিগুলো যাতে দাম বাড়াতে পারে তার সুবিধার জন্য মন্ত্রণালয় ঐ সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার ও শিল্প মন্ত্রণালয়। অপরদিকে, সরকারি কারখানার ডিলাররা পণ্য উত্তোলন থেকে বিরত থাকে। বাড়তি দামে তারা চিনি নিতে রাজি হয়নি। ফলে এক গ্রাম চিনিও বিক্রি সম্ভব হয়নি সেখান থেকে। ডিলাররা সাফ জানিয়ে দেয়, বর্ধিত দামে তাদের পক্ষে উত্তোলন সম্ভব নয়। দাম হ্রাস করা না হলে তারা সরকারি কারখানার পণ্য বেচবেন না বলে জানান। এসব প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়। পাইকারি মূল্য ৫০ টাকা এবং খুচরা মূল্য ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পবিত্র রমজান মাসে ভোক্তা সাধারণ যাতে সহনীয় মূল্যে চিনি পান সেই লক্ষ্যে মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন যে, এ দাম শুধুমাত্র রমজান মাসের জন্য। রমজানের পর আবার আগের দামে বিক্রি করা হবে। যা-ই হোক শেষ পর্যন্ত সরকারি কারখানায় উৎপাদিত এবং শিল্প মন্ত্রণালয় আমদানিকৃত চিনির দাম হ্রাস করা হয়েছে। তাতে তেমন সুফল আসবে এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তথ্যাভিজ্ঞমহল। রমজানের বাজারের জন্য চিনি ইতিমধ্যে মোকাম থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বর্তমান বাড়তি দামেই ভোক্তাসাধারণকে সেই চিনি কিনতে হবে।প্রতিবছর রমজান মাসে চিনির চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। রমজানের আগেই শুরু হয় বাড়তি চাহিদা। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে যে, রমজানে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কোন কাজ হয় না, মানুষকে চড়া দামেই চিনি কিনতে হয়। সুগার সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় রমজানের বাজার থেকে। গত বছর রমজানেও চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখার সরকারি প্রচেষ্টা শোচণীয় ব্যর্থ হয়।মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গতকাল সাংবাদিকদেরকে জানান, আমদানিকৃত সাদা চিনির দাম প্রতি কেজি গুদাম পর্যন্ত ৬৩ টাকা ৮০ পয়সা। আর অপরিশোধিত চিনির কস্টিং প্রতি কেজি ৫৭ টাকা ১০ পয়সা। এই তথ্য বিশ্লেষণে আলোচ্য দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার কাছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন চিনি মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে চিনিকলগুলোর কাছে ৬৭ হাজার ৯৯৯ টন এবং আমদানি করা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৯৬ টন। ইতিপূর্বে তিনি বলেন যে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কারখানা ধ্বংসের জন্য রিফাইনারিগুলো আমদানি মূল্যের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রি করছেন।এদিকে, খোলাবাজারের চেয়ে দাম বেশি বেশি হওয়ায় ডিলাররা চিনি উত্তোলন বন্ধ রাখায় সংকটে পড়েছে কারখানাগুলো। অর্থাভাবে ১৫টি কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা দু’ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার কর্মচারী-কর্মকর্তারা জুন মাসের বেতন সময় মতো পাননি। বিএসএফআইসি’র দাবি অনুযায়ী, প্রতি কেজি চিনির উৎপাদন খরচ ৮৩ টাকা। পরিশোধনের পুরাতন যন্ত্রপাতি, লোকবলের অভাবসহ আরও বেশকিছু সমস্যাকেই উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেন। অন্যদিকে সংস্থার বিভিন্ন সূত্র খরচ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন।