বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১২
মহাসড়কের সীতাকুন্ড থেকে লাশ উদ্ধার
পরকীয়া প্রেমের বলি হল খুলশীর ইব্রাহিম
সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুন্ড থেকে : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড এলাকা থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম ইব্রাহিম সুমন (৩০)। তিনি চট্টগ্রামের খুলশী বিশ্বকলোনী ফিরোজশাহ এলাকার আবুল কাসেমের পুত্র। গতকাল (বুধবার) বেলা সাড়ে ১১টায় কে বা কারা তাকে খুন করে সীতাকুন্ডের শেখপাড়া এলাকার মহাসড়কে ফেলে যায়। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বুধবার) বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টায় শেখপাড়া পৌর কসাইখানার সামনের,
রাস্তার পাশে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে যুবকটির লাশ ছুঁড়ে ফেলে গাড়িটি দ্রুত পালিয়ে যায়। কৌতহূলী এলাকাবাসী গাড়ি থেকে কিছু ফেলতে দেখে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে সীতাকুন্ড থানার এস.আই খাদেমুল বাহার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।এস.আই খাদেমুল বাহার জানান, নিহত যুবকের পায়ের রগ কেটে, গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া তার দুই চোখ থেকে রক্ত ঝরছিলো। তবে মুখে কাদা মাখানো থাকায় চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে কিনা বোঝা যাচ্ছিল না। পরে পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয় পত্র ও একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তাকে খুলশীর আবুল কাসেমের পুত্র ইব্রাহিম সুমন বলে সনাক্ত করে পরিবারবর্গকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ইব্রাহিমের স্ত্রী রেহানা বেগম থানায় ছুটে আসেন। রেহানা বেগম জানান, তার স্বামীর সাথে খুলশীর মনি নামক এক মহিলার পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। তার স্বামী বিভিন্ন সময়ে মনিকে ২লাখ টাকা ধার দেন। এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা ও পরে আপোষ মীমাংসা হয়। কিন্তু তার স্বামী কিছুতেই মনির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছিলেন না। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মনি তার স্বামীকে ঐ টাকা দেবার কথা বলে ডেকে পাঠায়। তার সাথে দেখা করতে গিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। মনি-ই তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে স্ত্রী রেহানার অভিযোগ। ইব্রাহিমের সংসারে ২ কন্যা সন্তান রয়েছে। এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা খাদেমুল বাহার বলেন, নিহত ইব্রাহিমের স্বভাব ভালো ছিলো না। নারীর প্রতি আসক্তি ছাড়াও সে নানা অপকর্ম করে বেড়াত। সীতাকুন্ডের বানুরবাজারে গনপিটুনিতে এক নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। এছাড়া ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে সে ঢাকায় গ্রেফতার হয়। তাই সে ঠিক কি কারণে খুন হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্ত্রী ঘটনাটি পরকীয়া সংক্রান্ত বলে দাবি করছেন। এ বিষয়ে মামলার প্রস্ত্ততি চলছে বলে জানান তিনি।