বৃহস্পতিবার, ০৫ জুলাই ২০১২
বন্দর কর্মী এবং সিএন্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশের
অভিযোগ। ৩ জন সাময়িক বরখাস্ত। তদন্ত কমিটি
দুই কন্টেইনার মাল পাচার বন্দর থেকে
কামরুল ইসলাম : চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দুই কন্টেইনার মাল পাচার করে দেয়া হয়েছে। সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং বন্দর কর্মচারীদের যোগসাজশে তা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত রবিবার পাচারের এই রহস্যজনক ঘটনা ঘটে। বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, ট্রাফিক শাখার ৩ কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। যোগাযোগ করা হলে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ ফরহাদউদ্দিন আহমেদ গতকাল বুধবার জানান,
বন্দর জেটি থেকে চোরাপথে নিয়ে যাওয়া হলেও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের মাল বুঝে পেয়েছে। বন্দরের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং চার্জ পরিশোধ না করে ডেলিভারি নিয়ে গেছে ঐ দুই কন্টেইনার পণ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচ্য আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার দু’টি এসেছিল এমভি এইচ রিকমারস জাহাজে (রোটেশন নম্বর ০০৮৯/১২, লাইন নম্বর এইচজে ৫০৬)। কন্টেইনার দু’টির নম্বর এইচজেসিইউ-১৩০৬৮৬ এবং এসইএসইউ-৫০৪৬৮৫-১। আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স নেপচুন ট্রেডিং কোম্পানি গত শনিবার মাল ডেলিভারি নেয়ার জন্য বন্দরের এফসিএল শাখায় ইনডেন্ট প্রদান করে। পরদিনই পণ্য ডেলিভারি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু শিপিং কোম্পানির ডেলিভারি অর্ডার নেয়া হয়নি, বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন চার্জও পরিশোধ করা হয়নি। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালন না করেই দুই কন্টেইনারের মাল চোরাপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্দর কর্মকর্তারা জানান, পরবর্তীতে ঐ কন্টেইনারগুলো খালি পড়ে থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য শিপিং এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করা হলে ঐ ঘটনা ধরা পড়ে। এজেন্ট মেসার্স হ্যানজিন বাংলাদেশ লিমিটেড সাফ জানিয়ে দেয় যে তারা এই পণ্যের কোন ডেলিভারি অর্ডার ইস্যু করেনি। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হয় বন্দর প্রশাসনে। কর্মকর্তারা খোঁজ করে জানতে পারেন যে বন্দর কর্মীরা পোর্ট চার্জ পরিশোধ না হওয়া সত্ত্বেও ভুয়া ডকুমেন্ট ইস্যু করে পণ্য রিলিজ করেছেন সিএন্ডএফ এজেন্টের অনুকূলে। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মীরা ডেলিভারি ডকুমেন্টস জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এক্ষেত্রে। এর প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আলোচ্য চালানের সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স নেপচুন ট্রেডিং কোম্পানির কার্যক্রম স্থগিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া, উপ পরিচালক (নিরাপত্তা ) মেজর বখতিয়ার ফাহমীকে আহবায়ক এবং সহকারী টার্মিনাল ম্যানেজার কুদরত-ই-খুদা ও সিনিয়র অডিট অফিসার মোহাম্মদ আবদুস শাকুরকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য চালানের কাস্টম আনুষ্ঠানিকতা এবং শুল্ক পরিশোধ নিয়ম মাফিক হয়েছে । আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের পণ্য যথারীতি ডেলিভারি পেয়েছে বলে বন্দরকে অবহিত করেছে। ডকুমেন্ট জালিয়াতিতে তারা জড়িত নয় এবং সিএন্ডএফ এজেন্টই তা করেছে বলে বন্দর কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেছে আমদানিকারক। তবে তথ্যাভিজ্ঞ মহল পুরো ঘটনাকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। চালানের বিরাট অংকের শুল্ক পরিশোধ করে শিপিং এজেন্ট এবং বন্দরের স্বল্প পরিমান চার্জ ফাঁকি দেয়ার জন্য ট্রাফিক শাখার কর্মীদের যোগসাজশে ডকুমেন্টস জালিয়াতি ও বন্দর গেইটে নিয়োজিত নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের উদাসীনতার কারণ কি তা উদঘাটন প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। সেই সঙ্গে দরকার আমদানিকারক প্রকৃত পক্ষে কি পণ্য আমদানি করেছে এবং কি পণ্য ডেলিভারি নিয়ে গেছে সেটা তদন্ত করে সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থার নিশ্চিত হওয়া।