চট্টগ্রাম, রবিবার,১৯ মে ১৩ । ৫ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ০৮ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Sunday,19 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

বৃহস্পতিবার, ০৫ জুলাই ২০১২

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি প্রসঙ্গে সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বব্যাংক ভুয়া কোম্পানিকে কাজ দিতে চাপ দিয়েছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটা বিশেষ কোম্পানিকে পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগের জন্য বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে পরপর তিনবার চিঠি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় দেখা যায় সেই কোম্পানিটা ভুয়া  যে কোম্পানির জন্য বিশ্বব্যাংক বারবার চিঠি দিয়েছে এবং চাপ দিয়েছে।

সেই কোম্পানি তাদের সঙ্গে কোনো একটি বিদেশি কোম্পানির যোগসূত্র ছিল, সেই কোম্পানি থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই কোম্পানির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।  আমাদের  অধ্যাপক জামিলুর রেজার বিশেষ কমিটি ওই কোম্পানির কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে তারা (বিশ্বব্যাংক) এক পয়সাও ছাড় দেয়নি, সেখানেই তারা দুর্নীতির কথা নিয়ে এল। এর পেছনে কে আছে, কারা আছে, কী উদ্দেশ্য আছে, তা একটু খতিয়ে দেখা দরকার বলে আমি মনে করি।’ স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিমের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নাল এবং ফোর্বসের যে নিউজ বেরিয়েছে, তা সবাইকে পড়ার জন্য একটু অনুরোধ করেন। এই দুটো নিউজ পড়লে জানতে পারবেন আসল দুর্নীতিটা কোথায় আছে। প্রয়োজনে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা দরিদ্র থাকতে পারি, বিশ্ব মন্দা থাকা সত্ত্বেও যদি আমরা আমাদের অর্থনীতিকে ধরে রাখতে পারি, তবে আমরা পদ্মা সেতুও করতে পারব। দরকার হলে পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে হবে। বিদেশি অর্থ যেটুকু লাগবে, এখন আমাদের যে রিজার্ভ আছে সেই রিজার্ভ থেকে প্রতিবছর এক বিলিয়ন, দুই বিলিয়ন খরচ করা আমাদের জন্য মোটেই কষ্টকর নয়। আমরা তা-ও করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘পদ্মা সেতুতে সহায়তা করতে বিশ্বব্যাংক নিজেই এগিয়ে এসেছিলো। হঠাৎ তারাই আবার দুর্নীতির অভিযোগ তুললো। যেখানে এখন পর্যন্ত একটা টাকাও ছাড় হয়নি। সেখানে কিভাবে দুর্নীতি হলো?’’ তিনি বলেন, ‘‘পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে এর পেছনে কে বা কারা, কোন উদ্দেশ্যে আছে তা খতিয়ে দেখা উচিত।’’ সংসদে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘‘তাহলে দুর্নীতি কোথায়?’’তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসাবেলা আমার কাছে এসেছিলো। দু’টি চিঠি দেখিয়েছিলো, আমি সেগুলো দেখেছি। সেগুলো বিএনপির সময়ের দুর্নীতির চিঠি। আমি তাদেরকে বলেছি ওখানে বিএনপির সময়ের যোগাযোগ মন্ত্রীর নাম ছিলো। তারিখ পর্যন্ত দেখিয়েছি। তারা বলেছে তাদের কাছে আরও তথ্য আছে। আমরা সেগুলো চেয়েছি।’’এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি দেশবাসীসহ সকল সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলবো- কেউ যদি আমার পরিবারের নাম ভাঙিয়ে কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন।’’এরপর তিনি তার পরিবার বিষয়ে ব্যাখা দেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার পরিবার মানে আমরা দুইবোন ও আমাদের ৫ সন্তান। এর বাইরে আমার পরিবার বলে কিছু নেই।’’ এসময় প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত ই-মেইল This e-mail address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it এবং ০১৭১১৫২০০০০ ও ০১৮১৯২৬০৩৭১ নম্বর দুটি জানান। শেখ হাসিনা এসময় তার পরিবারের কারো নামে দুর্নীতির অভিযোগ পেলে মেইল ও এসএমএস দিয়ে জানানোর জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘‘যদি কোনো মন্ত্রী জড়িত থাকে তবে প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে যাবে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অপবাদ দিয়েছে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।’’ এর আগে তিনি বলেন, ‘‘চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ-জ্বালানি-যোগাযোগ খাতে দুর্নীতি হওয়ায় বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করেছিলো। এবিষয়ে অর্থমন্ত্রী বিস্তারিত বলেছেন। কোন ৭টি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছিলো তিনি তাও বলেছেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংক যখনই দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে তখনই মন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়েছি। সচিব ও প্রকল্প পরিচালককে সরিয়ে দিয়েছি। এর চেয়ে বেশি কোন সরকার করেছে? বিএনপির আমলে জ্বালানি উপদেষ্টা কে ছিলো? সেই সময় দুর্নীতি করে এখন পত্রিকা বের করে বড় বড় কথা বলে!’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকার সময়ে জাপান সফরে ওই দেশের সরকার দু’টি সেতুর বিষয়ে আশ্বস্ত করে। একটি রূপসা আর একটি পদ্মা। রূপসা ছোট ব্রিজ সেটি হয়ে গেছে। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে পদ্মার কাজ বন্ধ করে দিলো। বিএনপির দুর্নীতির কারণেই বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এবার ক্ষমতায় আসার পরে বিশ্বব্যাংকই এগিয়ে আসে।’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভূমি অধিগ্রহণের কাজে ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের লোকজন সেখানে গিয়েছিলো। সেখানেই যেহেতু দুর্নীতি হয়নি, তাহলে কোথায় দুর্নীতি হলো?’’পদ্মাসেতু আমরা নির্মাণ করবোই : প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক চলে গেছে, অন্যান্য সহযোগীরাও চলে যেতে পারে। মালয়েশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে। পিপিপি বা অন্য যে কোনোভাবেই হতে পারে। তবে যেই প্রস্তাব দিক তা আমার দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। জনগণের স্বার্থে হতে হবে। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু আমরা নির্মাণ করবোই। ক্ষমতায় এসে বিশ্বমন্দার মধ্যেও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি করতে পেরেছি, পদ্মাসেতুও করতে পারবো। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ আরো যারা আছে তারাও ঋণ দেওয়া বন্ধ করলে করতে পারে। করুক। পদ্মা সেতু করার জন্য ১৬ কোটি মানুষ আছে। দেশের বাইরে ৮০ লাখ প্রবাসী বাঙালি আছে। তিনি বলেন, ‘‘গতকালও বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর, ইআরডি সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমি খোঁজ নিয়েছি, ব্যাংকে রির্জাভ আছে। ১/২ বিলিয়ন ডলার খরচ করার মতো ক্ষমতা আমাদের আছে।’’ পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আগামী ৮ জুলাই অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি বিস্তারিত বলবেন বলেও জানান।এদিকে গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পরেই জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ৬৮ বিধিতে নোটিশ দিয়ে পদ্মাসেতু নিয়ে সংসদে সাধারণ আলোচনার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘‘পদ্মাসেতু নিয়ে জনগণ এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। জনগণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে চায়। সেতু নির্মাণের মাধ্যমে সামনের দিকে এগুতে চায়।’’ তিনি বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণে ঋণ চুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। আমরা সংসদ সদস্যরা ১৬ কোটি জনগণের প্রতিনিধি। জনগণ এ বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তা দিনের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে ইনু বলেন, কিভাবে বিষয়টি নিয়ে এগুনো যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য বিষয়টি দিনের কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদে সাধারণ আলোচনা করা হোক। তবে তার এ দাবি নাকচ করে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আপনি অনেক দেরি করে ফেলেছেন। এটা ৬৮ বিধিতে নিতে পারছি না বলে দুঃখিত। আগামী ৮ জুলাই এ অধিবেশন শেষ হতে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে আর সাধারণ আলোচনার সময় পাওয়া যাবে না। শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী সমাপনী ভাষণ দেবেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতু নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সমাপনী দিনে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে আর সাধারণ আলোচনার প্রয়োজন নেই।

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড