চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার,২১ মে ১৩ । ৭ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২০ বঙ্গাব্দ । ১০ রজব ১৪৩৪ হিজরি। Tuesday,21 May 13

 

Banner
Banner
Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

Bangla Font  

কাগজে যেমন ওয়েবেও  

Banner

বিজ্ঞাপন  

Banner

অনলাইন জরিপ  

বৃহস্পতিবার, ০৫ জুলাই ২০১২

এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে মণ প্রতি ৪শ’ টাকা
ছোলার বাজার অস্থির

রতন কান্তি দেবাশীষ : ছোলা। রমজান মাসে একটি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য পণ্য। এমন কোন ঘর বা ব্যক্তি নেই যারা ইফতারির উপকরণ হিসেবে ছোলা ব্যবহার করেন না। ইফতারির  প্রতিটি দোকানেই থাকে ছোলা। বছরের ১১ মাস মিলে যে পরিমাণ ছোলার চাহিদা থাকে, রমজানের এক মাসেই ওই পরিমাণ ছোলা বিকিকিনি হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগায় কতিপয় মুনাফা লোভি ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক। তারা সারা বছরের মুনাফা এ এক মাসেই তুলে নেয়ার চেষ্টা করে।

প্রতি বছরই রমজানকে সামনে রেখে দাম বাড়ে ছোলার। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। রমজান শুরুর এক মাস আগে থেকেই ছোলার দাম বাড়াতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। সিন্ডিকেট করেই দাম বাড়াতে থাকেন তারা। এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে মণ প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। খুচরা মার্কেটে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। দাম আরো বাড়তে পারে বলে দোকানিরা আশংকা করেছেন। দাম বৃদ্ধিতে সরকার বা ট্যারিফ কমিশনের কোন নিয়ম কানুন মানা হচ্ছে না। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও মিয়ানমারে দাঙ্গাকে দাম বাড়ার কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ বর্তমানে যেসব ছোলা রয়েছে তা অনেক আগে আমদানিকৃত। তখন দাম কম ছিল। জানা যায়, ইফতারির অন্যতম উপকরণ ছোলার দাম বেড়েই চলেছে। গত এক সপ্তাহে তিন দফা বেড়েছে দাম। বর্তমানে ভালো মানের ছোলা প্রতি মণ ২৭৫০ থেকে ২৮০০ টাকা, এবং মাঝারি ধরনের ছোলা ২৬০০ থেকে ২৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইাকারি বাজারে এ দরে ছোলা বিকিকিনি চলছে। যার কেজি প্রতি দাম পড়ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। ক্ষেত্র বিশেষে আরো বেশি দামেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ এক মাস আগে ভালো মানের ছোলা ২৩০০ থেকে ২৪০০ টাকা এবং মাঝারি মানের ছোলা ২১৪০ থেকে ২২০০ টাকায় বিকিকিনি হয়। জানা যায়, ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ১০ ভাগ মুনাফা লাভের বিষয়টি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ ভাগ পাইকারি ও ৯ ভাগ খুচরা ব্যবসায়ীরা মুনাফা করবেন। সে অনুযায়ী ভালো মানের ছোলা খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৭৪ টাকা ও মাঝারি মানের ছোলা ৬৫ টাকা বিক্রি করার কথা। কিন্তু এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বর্তমানে এ দরে পাইকারি বাজারেও ছোলা বিক্রি হচ্ছে না।ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তান থেকে ছোলা আমদানি করা হয়। রমজান ছাড়া বছরের ১১ মাস মিলে ছোলার চাহিদা ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টন। কিন্তু শুধু রমজান মাসে চাহিদা ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন। গত এপ্রিল ও মে মাসে আমদানি হয়েছে ৬০ হাজার টন। এলসি খোলা হয়েছে আরো ৩০ হাজার টনের। কয়েকদিনের মধ্যে এসব ছোলা এসে পৌঁছবে। ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় এদেশেও দাম বেড়েছে। ইচ্ছে করে দাম বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। তারা জানান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানে এবার উৎপাদন কম হয়েছে। এ কারণে সেসব দেশ রপ্তানি করেছে কম পরিমাণ। আর মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গার কারণে ছোলা আসা বন্ধ রয়েছে। জানা যায়, যেসব ছোলা আমদানি করা হয়েছে সেগুলো দাম বাড়ার আগের এলসি করা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পর থেকে কোন ব্যবসায়ী ছোলা আমদানি করেননি বলে কাস্টম সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, ছোলা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও তারা দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশংকা করছেন দোকানি ও ক্রেতারা। এক ছোলা আমদানিকারক জানান, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। বেশি দামে ক্রয় করেছেন বিধায় দাম বেড়েছে। এতে তাদের করার কিছু নেই। ছোলা ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মিয়ানমারে দাঙ্গার কারনে ছোলা আসছে না। অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশেও উৎপাদন কম হওয়াতে রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেছে। এর ফলে আমাদের দেশেও দাম বাড়ছে। মোমিন রোডের ব্যবসায়ী মো. আকবর জানান, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে রমজানে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে বিপরীত। এ মাসকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অধিক মুনাফা করতে চায় অনেক ব্যবসায়ী।

© 2013 - The Purbokone Limited
সম্পাদক: স্হপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী
দি পূর্বকোণ লিমিটেড এর পক্ষে পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দীন চৌধুরী কর্তৃক প্রকাশিত ও নিউজ মিডিয়া সার্ভিসেস,
৯৭১/এ, সিডিএ এভিনিউ, পূর্ব নাসিরাবাদ, চট্টগ্রাম হতে মুদ্রিত। ফোনঃ পিএবিএক্স ০৩১-৬৫০৯০৯, ০৩১-৬৫১৯৬৮, ০৩১-৬৫১৯০৬ ফ্যাক্সঃ ০৩১-৬৫৪০১১
ঢাকা কার্যালয়ঃ ১/এ, পুরানা পল্টন লেইন, ঢাকা, বাংলাদেশ। ফোনঃ ০২-৯৩৩২৬৫৭, ০২৮৩৫৯৩৮২
অনলাইন সংস্করনের দায়িত্বে নিয়োজিতঃ সাউথ বে আইটি সলিউশন লিমিটেড