শনিবার, ০৯ জুন ২০১২
প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না
রাঙ্গুনিয়ায় বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা!
ইটভাটা আর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ লুটপাটের জন্য রাতারাতি গজে উঠে এসব সন্ত্রাসীরা। যারা বাহিনী গড়ে তোলে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তবে ২০০৪ সালে যৌথবাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ও কুখ্যাত সদস্যরা অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর অন্য সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দেয়। ফলে সন্ত্রাসী ততপরতা কমে আসে ওই এলাকায়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাসীরা ধীরে ধীরে এলাকায় ফিরে আসে। এমনকি যৌথবাহিনীর অভিযানে ধরা পড়া কারারুদ্ধ সন্ত্রাসীরাও আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় বিচরণ শুরু করে। যারা পুনরায় খাসজমি দখল, ইটভাটা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজিসহ নানারকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সক্রিয় হয়ে উঠে। ইটভাটা মালিকরা জানান, ইসলামপুর ইউনিয়নের কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু সাহেদ ও উমর ফারুখ বাহিনী গত দু‘বছর ধরে ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ-শতাধিক ইটভাটা থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছে। দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তারা ইটভাটা মালিকদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করে। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দাবিকৃত চাঁদা নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের হুকুম দেয় । সম্প্রতি চাঁদা না পেয়ে ইউনিয়নের গাবতল এলাকায় ইটভাটার মালিক এমরান চৌধুরী(২২)কে কুপিয়ে আহত করেছে। ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী সেকান্দর বাহিনীর সদস্যরাও একইভাবে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি, বনজ সম্পদ পাচারসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউনিয়নের গাবতল এলাকায় হযরত কাতাল শাহ(র:) মাজারের ফটক সম্মুখে খাস জমি দখল করতে গিয়ে বাঁধা পায় সে। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে সে এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালায়। এতে বাবলা চৌধুরী (৩২), মো. সফি (৩৪), জাহাঙ্গীর আলম(৪০), রাশেদ পরাভেজ (২৭) সহ প্রায় ১৫-১৬ জন গ্রামবাসী আহত হয়। এ ব্যাপারেও থানায় অভিযোগ করেছে আহতরা।
আহতরা জানান, কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু সাহেদ ইউনিয়নের ইসমাইল ও ফরিদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ১৯৯৪ সালে পৃথকভাবে সে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। তার বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় চাঁদাবাজি ও অস্ত্রসহ ৪টি মামলা রয়েছে। ওমর ফারুখ ইউনিয়নের ছালেহ আহমদ হত্যা মামলার আসমি। ২০০৩ সালে সে এ হত্যাকান্ড ঘটায়। এছাড়া ২০০২ সালে ডাকাতি করার সময় সে রাঙামাটি সড়কের ঘাগড়া এলাকায় এক মাইক্রো বাসচালককে গুলি করে হত্যা করে। ওই মামলার অন্যতম আসামিও সে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় আরও ৮টি মামলা রয়েছে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী সেকান্দরের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মারামারির একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে এসব সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাসীন দলের জনৈক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।
রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এম এম মোর্শেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। হত্যা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত বহু আসামি রয়েছে এ ইউনিয়নে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারামারির ঘটনায় থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সন্ত্রাসীদের ধরা কঠিন ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। তবু পুলিশ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের রক্ষায় রাজনৈতিক চাপ থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।
| < Prev | Next > |
|---|



