শনিবার, ০২ জুন ২০১২
কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম ও দেশজ
উৎপাদন বৃদ্ধির আহবান বিএসএম
গ্রুপ চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরীর
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন বাজেটে কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম এবং দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। দেশের বৃহত্তর গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য জনকল্যাণমূখী বাজেটের কোন বিকল্প নেই। এই অভিমত চিটাগাং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরীর। আগামী বাজেট নিয়ে গতকাল দৈনিক পুর্বকোণ প্রতিনিধির সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেন, আগামী দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। সার, বীজ, কীটনাশক, যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম কমিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাস করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দর নিশ্চিত করা। ধান, আলু, পেঁয়াজ, হলুদ, আদাসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এবারে প্রান্তিক কৃষকের দুর্গতির শেষ ছিল না। অনেক এলাকায় উৎপাদন খরচও কৃষক তুলতে পারেনি। বাজার দর এবং কৃষকের পণ্যের দরের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে নীতিমালা প্রনয়ণ করতে হবে। আবুল বশর চৌধুরী বলেন, দেশের বৃহত্তর গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি জনকল্যাণমূখী বাজেটের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে শিক্ষা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থানসহ উৎপাদন ও সেবাখাতকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ ও বন্দরের উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ সহ দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাস্তব ভিত্তিক বাজেট প্রনয়ন প্রয়োজন। একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক এবং একজন ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে অবশ্য প্রত্যাশা একটু বেশি। যদিও কথায় আছে সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। এই সাধ্যের মধ্যে ব্যবসায়ী হিসেবে এমন একটি দুরদৃষ্টিসম্পন্ন বাজেট চাই যে বাজেট ব্যবসা বাণিজ্যে গতিশীলতা আনবে এবং শিল্প বিকাশে সহায়ক হবে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সার্বিক জনকল্যাণ নিশ্চিত করবে। কালো টাকা সাদা করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিভিন্ন দেশে মাথা ব্যথার কারণ। একদিকে কালো টাকা সুষ্ঠু অর্থনীতির ধারাকে বাধাগ্রস্ত করছে, পাশাপাশি সৎ ব্যবসায়ীদেরকে অসম প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে, এই কালো টাকা অনেকাংশে অর্থনীতিতে পরোক্ষ সহায়ক ভুমিকা পালন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত শক্তিশালী অর্থনীতির দেশেও বিরাট অংকের কালো টাকা সেদেশের অর্থনীতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি বিচার বিশ্লেষণ করে বাস্তবতার নিরিখে বাজেটে এমনভাবে উপস্থাপিত হওয়া উচিত যাতে এই টাকার যথেচ্ছ ব্যবহারের সুযোগ না থাকে। বরং নীতিমালার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রসমূহে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই টাকা ব্যবহারের সুযোগ দিলে এটি অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করবে। পদ্মা সেতুর ন্যায় সেতু, রাস্তাঘাট নির্মানে, বিদ্যুৎ খাতে, অবকাঠামো উন্নয়নে, আমদানী বিকল্প পণ্যের শিল্প স্থাপনে এবং পুঁজি বাজারে এই টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সুযোগের অভাবে যদি কালো টাকা বছরের পর বছর কালোই থেকে যায়, তা অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না বলে মনে করেন তিনি। আবুল বশর চৌধুরী আরও বলেন, যে কোন উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আমরা তা থেকে অনেক পশ্চাৎপদ। ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানী রফতানিসহ শিল্পায়নে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ডসহ আরও অনেক দেশের মত পি পি পি’র আওতায় পরিকল্পনা নেয়া হলে দেশের অবকাঠামোসহ বিশেষ খাতগুলির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে তিরি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মেট্রোপলিটন পরিচালক মনে করেন যে সাম্প্রতিককালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, অচিরে যদি তা পরিবর্তন প্রয়োজন। নতুবা বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে বৈকি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতৈক্য ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল সাধিত হয়েছে এমন নজির বিরল। এই প্রেক্ষাপটে শুধু বাজেটের বাস্তবায়ন নয়, একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুশাসন ও আইনি প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নসহ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জন্য তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহনশীলতা তৈরি করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দেয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত। এ সমস্যা থেকে উত্তরনে দীর্ঘ মেয়াদী, বাস্তব ভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্তজরুরী। দেশের কয়লানীতির সঠিক বাস্তবায়নসহ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জলবিদ্যুৎ, প্রয়োজনবোধে দেশি-বিদেশি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রনয়ণের মত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই সমস্যার সমাধান সুদূর পরাহত বলে মনে করেন বিএসএম গ্রুপ চেয়ারম্যান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার প্রশংসা করলেন আবুল বশর চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দেশে অনেক আইন আছে যেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হয় না। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা স্বচ্ছতার সাথে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সে ধরণের কোন বিষয় যেন না হয়, বিশেষত রাজস্ব আদায়কারী ও রাজস্ব প্রদানকারী বিরোধ নিষ্পত্তিতে যিনি দায়িত্বপালনকারী হবেন তিনি স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করলে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে অনেক দিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং এতে ব্যবসায়ীরাও ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।
অত্যধিক সুদের হার উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের অন্তরায় যা মূল্যষ্ফীতি বৃদ্ধি করা সহ শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত অধিক সুদের হার বাংলাদেশসহ দু একটি দেশ ছাড়া অন্য কোথাও নেই। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে অবশ্যই সুদের হার কমানো উচিত। তিনি বলেন, এটা অনস্বীকার্য যে আমাদের দেশে ট্যাক্স প্রদানকারীর সংখ্যা কম। কিন্তু কর্পোরেট ট্যাক্সের হার অন্য উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের চেয়ে বেশী। এতে করে যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন তাদের উপর অত্যাধিক চাপ সৃষ্টি হয়। তাই ট্যাক্সের হার না বাড়িয়ে কর আদায়ের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা প্রয়োজন । আবুল বশর চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের সিংহভাগ রাজ্স্ব চট্টগ্রাম বন্দর অবলম্বন করে আসে। ভৌগলিক এবং প্রাকৃতিক এই শ্রেষ্ঠ অবদানকে আরো আধুনিক ও সম্প্রসারিত করে এবং তার উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে যে আয় বাড়বে তা দিয়ে আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশ উন্নত দেশে পরিণত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি ব্যক্তি পর্যায়ের করসীমা বিদ্যমান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার স্থলে আড়াই লাখ করার সুপারিশ করেন।
| < Prev | Next > |
|---|



