শনিবার, ০২ জুন ২০১২
মারা গেলেন একই পরিবারের ৭ সদস্য
চকরিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক
দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত
নিজস্ব সংবাদদাতা, চকরিয়া-পেকুয়া : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহি শ্যামলী বাস ও অপর একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের ৭ জন। অপরজন মাইক্রোবাস চালক। এসময় আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসের আরও অন্তত ৫জন যাত্রী। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও দুলাহাজারার মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট ছগির শাহকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার এবং দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি আটক করেছে। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শেখ গোলাম মর্তুজা (৭৫), তার ছোট ভাই শেখ ইত্তেজা হোসেন (৬০), তার স্ত্রী শেফায়েতুর রেনু (৫০), শেখ শাহীন মর্তুজা (৩৮), হোসনে আরা বেগম (৪৫), সাবরিনা সুলতানা (২২), আভা মণি (৬), মাইক্রোবাস মালিক ও চালক বাহারছড়ার মো. আলীর পুত্র মো. শাহজাহান (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুইজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন আইরিন (৩৬) ও মোকাররমা বেগম (৪৭)। জানা যায়, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মর্তুজা হোসেন তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ফেনী শহরে যাচ্ছিলেন। মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারমুখি শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহি একটি বাসের সাথে (ঢাকামেট্টো-ব-১৪-৪৭৯৩) মালুমঘাট ছগির শাহকাটা এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বিপরীত দিক থেকে আসা ফেনীগামী অপর একটি মাইক্রোবাসের (চট্টমেট্টো-১১-৪৮৩৭)। এতে ঘটনাস্থলে দুই জনের এবং অন্যদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। তারা কক্সবাজার থেকে ফেনী যাচ্ছিলেন একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। নিহতদের পরিবারসূত্র জানায়, নিহত শেখ ইত্তেজা হোসেনের একমাত্র ছেলে শেখ আশিক হোসেনের বিয়ে সম্পন্ন হয় একমাস আগে। আশিকের শ্বশুরের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়। শ্বশুর বাড়ির পক্ষ থেকে দাওয়াত পেয়ে ইত্তেজার পরিবারের সদস্যরা গতকাল শুক্রবার সকালে ফেনীর উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তারা মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হন। মহাসড়কের মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ (আইসি) সার্জেন্ট নিজাম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর পরই ঘাতক শ্যামলী বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি আটক করেছে। সকাল ১০টায় তাদের লাশ কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। শহরের বাহারছড়া ও টেকপাড়ায় তাদের বাড়ি-ঘরে শোকের মাতম চলছে। শুক্রবার বিকেলে সকলকে এক সঙ্গে ষ্টেডিয়াম মাঠে জানাজার জন্য নিয়ে আসা হলে উপস্থিত অনেকে চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি।
| < Prev | Next > |
|---|



