চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯

সর্বশেষ:

৩ জুন, ২০১৯ | ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন হ সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

রমজানের বিদায়কালীন ভাবনা

পবিত্র রমজান মাস বিদায়ের পথে। রুদ্ধ হতে চলেছে রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাড়তি সুযোগের দুয়ার। রমজানের বিদায় লগ্নে পূর্বসূরী আলিমগণকে ভীষণ চিন্তামগ্ন দেখা যেত যে, তারা রমজানের যথাযথ হক আদায় করে ইবাদত করতে পেরেছেন কি না? ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি রমজানের শেষ রজনীতে বলতেন, হায় আফসোস! আমি জানি না এ রমজানে আমার আমল কবুল হয়েছে কি না? আমাদের মধ্যে যার আমল কবুল হয়েছে তার জন্য অভিনন্দন, আর যার আমল কবুল হয়নি তার জন্য সমবেদনা। অতএব রমজানের শেষ প্রান্তে এসে কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখা ও আত্মসমালোচনার প্রয়োজন। দরকার রমজানের পুরো মাস জুড়ে আমরা কী আমল করেছি তা পর্যালোচনার। এ প্রসংগে যে বিষয়গুলো আমাদের চিন্তার খোরাক যোগাতে পারে তা হলো:
যেভাবে গভীর আগ্রহ ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে রমজানকে বরণ করেছিলাম, সে অনুযায়ী কি আমরা সম্পূর্ণ মাস জুড়ে ইবাদাত বন্দেগী করেছি নাকি অবহেলা করে অবারিত পূণ্য অর্জনের সে সুযোগ হাতছাড়া করেছি? আমরা ঐ ব্যক্তির মত হয়নি তো যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “তোমরা সে নারীর মত হয়ো না, যে তার সূতা মজবুত করে পাকাবার পর তার পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।” (সূরা আন-নাহল: ৯২)
রমজানে যেভাবে ইবাদত করার মানসিকতা লালন করেছি, সারা বছর সেভাবে করার জন্য প্রস্তুত তো? নাকি আমরা মৌসুমী ইবাদতকারী? আল্লাহর ওপর আমাদের আস্থা ও দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে তো নাকি আমরা কি ঐ দলভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধার সাথে; যদি তার মঙ্গল হয় তবে চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং কোন বিপর্যয় ঘটলে সে তার পূর্বের চেহারায় ফিরে যায়। সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুনিয়ায় ও আখিরাতে।” (সূরা আল-হাজ্জ: ১১)
রোজা অন্যায়, অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে ঢাল স্বরূপ ছিল। রমজানে শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল বিধায় এটি সম্ভবপর হয়েছিল। বছরের বাকি মাসগুলোতে রোজার শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে শয়তানের ওয়াসওয়াসার বিরুদ্ধে সাধনা করতে আমরা প্রস্তুত তো?
এ মাসে আমরা কুরআন তিলাওয়াত, নফল সালাত, তাসবীহ-তাহলীল, দরুদসহ যেসব ভাল কাজে অভ্যস্ত হয়েছি সেগুলো বছরের পরবর্তী সময়েও আদায়ের দৃঢ় সংকল্প করেছি তো?
এ মাসে বিশেষ করে দিনের বেলায় আমরা যেসব বদ কাজ থেকে বিরত ছিলাম এরই ধারাবাহিকতায় সারা বছর আমরা অন্যায় ও আল্লাহর নির্দেশ বিরোধী কাজকর্ম থেকে বিরত থাকব তো?
রমজানের এই বিদায় বেলায় তাই এসব নিয়ে আমাদের চিন্তা করা দরকার, দরকার আত্মসমালোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার।

The Post Viewed By: 226 People

সম্পর্কিত পোস্ট