চট্টগ্রাম বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯

সর্বশেষ:

১১ জুলাই, ২০১৯ | ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

ষোলশহর ২ নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর সড়কে জলাবদ্ধতা

এক কিলোমিটার খালের প্রশস্ততা বাড়ালেই কমবে দুর্ভোগ

নগরীর অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক সিডিএ এভিনিউ। বৃষ্টি নামলে পানি ওঠে সড়কে। বন্ধ হয়ে যায় ষোলশহর ২নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত যানবাহন চলাচল। এটি সাময়িক কোনো চিত্র নয়, ভারি বর্ষণ হলেই নগরবাসীর চিরচেনা এক ভোগান্তি। বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার এ অসহনীয় ভোগান্তি চলে আসলেও মূলত কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সমস্যা দূর করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ভুক্তভোগী লোকজনের সাথে কথা জানা গেছে, মাত্র এক কিলোমিটার সরু একটি খালের কারণে জলাবদ্ধতার এ ভোগান্তি দূর করা যাচ্ছে না। নগরীর পানি নিষ্কাশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চশমা খালের নিচের অংশ এটি। আলফালাহ গলির বাসিন্দা দিদারুল আলম সিকদার বলেন, ‘ষোলশহর ২ নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর হয়ে শুলকবহর মেহমান কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত সড়কের বাম পাশে আনুমানিক এক কিলোমিটার চশমা খালের নিচের অংশ বর্তমান অবস্থার দ্বিগুণ প্রশস্ত করে খনন ও গভীর না করলে এ দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়। সরকারের নীতি
নির্ধারণী মহল এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় জলাবদ্ধতা কমবে না।’
ভুক্তভোগীরা জানায়, ষোলশহর ২নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর হয়ে শুলকবহর মেহমান কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত খালের বাম পাশের খালটি অনেকটা সরু। এ কারণে নগরীর বিশাল এলাকা খুলশী আবাসিক, নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজ, নাসিরাবাদ সরকারি মহিলা স্কুল, আল ফালাহ গলি আবাসিক, তুলাতুলি, টেক্সটাইল, নাসিরাবাদ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, নাসিরাবাদ শিল্পাঞ্চল, হিলভিউ আবাসিক, কসমোপলিটন আবাসিক, রুবি গেট, শেরশাহ আবাসিক, মোজাফ্ফর নগর, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, মেয়রগলি, চশমাহিল, ষোলশহর ২নম্বর গেট, ষোলশহর রেলস্টেশন, মুরাদপুর, শুলকবহরের বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না।


বৃষ্টি হলে ষোলশহর ২নম্বর গেট, সিডিএ এভিনিউ, মুরাদপুর, শুলকবহর এলাকা ছাড়াও নগরীর বিশাল এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগে পড়ছে জনগণ। ষোলশহর ২নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা অহিদুল আলম করিম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘চশমা খালের উপরের দিকে প্রস্থ কোথাও ৫০ থেকে ৬০ ফুট থাকলেও নিচের দিকে রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ২০ ফুট। এর মধ্যে অবৈধ দখলও হয়েছে কোথাও কোথাও। খালের উপর নির্মিত ব্রিজগুলো অনেকটা নিচের দিকে। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এ কারণে বৃষ্টি হলে পানিতে তলিয়ে যায় ষোলশহর ২নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত সড়ক। পানিতে আটকে পড়ে যানবাহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে এই ভোগান্তি নগরীর একটি চিরচেনা চিত্র হয়ে ওঠেছে।’
এ প্রসঙ্গে ৮নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘অবৈধ দখলের কারণে খালটি অনেকটা সরু হয়ে গেছে। খালের উপর নির্মিত ব্রিজগুলো তুলনামূলক অনেকটা ছোট। এ কারণে বৃষ্টির পানি সরে যেতে পারে না। ষোলশহর ২নম্বর গেট থেকে মুরাদপুর ও শুলকবহর এলাকা পর্যন্ত খালটি একেবারেই সরু। প্রতি পদে পদে পানি বাধা পাচ্ছে। এটিকে আরো বড় করে সংস্কার করলে পানির দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে জনগণ।’

The Post Viewed By: 210 People

সম্পর্কিত পোস্ট