সংবাদ: সম্পাদকীয়

প্রসঙ্গ : রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতি

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রদত্ত মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির ভাষণে আশাবাদী হওয়ার মতো তেমন কিছুই নেই। রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার প্রেক্ষাপটে মানবতাবাদী বিশ্বসম্প্রদায় আশা করেছিল মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে পাঁচ লাখেরও বেশি অসহায় মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য দায়ীদের সমালোচনা ও নিন্দা জ্ঞাপন করবেন। শাস্তির উদ্যোগ নেবেন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে যুক্তদের শণাক্ত করে। ঘোষণা করবেন রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও গণহত্যা বন্ধ করে নাগরিক হিসেবে তাদের সম্মানজনক পুনর্বাসনের পথরেখা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাঁর ভাষণে বিশ্বসম্প্রদায়ের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। নির্যাতনকারী সেনাবাহিনীর সুরেই কথা বললেন তিনি। শুধু তাই নয়, জাতি হিসেবে ‘রোহিঙ্গা’দের অস্তিত্বকেও অস্বীকার করেছেন তিনি। এক সময় যিনি ‘শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বিশ্বের জন্যে মানবিকবন্ধনের বিকল্প নেই’ বলে প্রচার করতেন, তাঁর কাছ থেকে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত। রাখাইন সঙ্কট নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মিয়ানমারের নেত্রী প্রকৃত সত্য লুকিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন বলে মনে হয়। ভাষণে তিনি

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান কোন পথে

রোহিঙ্গারা মুসলমান। ৭০০/৮০০ বছর ধরে তারা মায়ানমারে বসবাস করছে। বিভিন্ন সময়ে ১৭ জন রোহিঙ্গা মায়ানমারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হয়েছিলেন। তবুও এখনো নাগরিকত্ব পায়নি তারা। ১৯৮২ সালে সামরিক জান্তা আইন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাবার পথ রোধ করেন। ২১৪টি গ্রাম ধ্বংশ করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ, যাদের কাউকে গুলি

তোমার মৃত্যু নেই!

হাই স্কুলের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বইতে একটি ভাবসম্প্রসারণ আছে কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। ভাবসম্প্রসারণটি এমনি এমনি আসেনি। আসার অনেকগুলো কারণ আছে। মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে, বয়সের জন্য নয়। কত কোটি কোটি মানুষ এ পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু মৃত্যুর পর কেউ তাদের মনে রাখেনি। তারা ভেসে গিয়েছে কাল¯্রােতে। কিন্তু কীর্তিমান ব্যক্তিবর্গ

মানবাধিকার বঞ্চিত ও নিপীড়িত নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায়…

১৯৭০ সাল হতে মিয়ানমার সরকারের গৃহীত চরম বৈষম্যমূলক নীতিমালা বাস্তবায়ন ফলে হাজার হাজার মুসলমান রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি নিজ আবাসস্থল ও বেঁচে থাকার সবধরনের অবলম্বন পেছনে ফেলে ভাসমান উদ্বাস্তু শরণার্থী হয়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে এবং হচ্ছে। পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক নারী পুরুষ ও শিশু পাড়ি জমিয়েছে বাংলাদেশে। বাকি

মায়ানমারে গণহত্যা : মানবাধিকার রক্ষায় দরকার…

নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী অং সান সুচির দেশ মায়ানমারে সাম্প্রতিক সময়ের জঘন্যতম গণহত্যা চলছে তারই নেতৃত্বাধীন সরকারের তত্ত্বাবধানে। সে দেশের আরকান প্রদেশে বা রাখাইন অঞ্চলে প্রায় চারশত বছর পূর্ব থেকে বসাবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর গত চল্লিশ বছর ধরে হত্যা নির্যাতন চললেও বিশ^ সম্প্রদায় বিষয়টিকে মায়ানমার এর সামরিক জান্তা শাসকদের অপশাসন

পাথর পর্বতের শহর কেপটাউন

(পূর্ব প্রকাশিতের পর) হঠাৎ করে বৃষ্টি এসে যায়। অবশ্য বেশীক্ষণ থাকে না। আবার রোদ উঠে যায়। অনেকটা কড়া রোদ। এদিকটায় লোকজন তেমন বেশী আসে না। হোটেলের লোকেরা বেশীর ভাগ সন্ধ্যার আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে। অফ সীজন না হলে সী এলাকায় হোটেলে সিট পাওয়া যেত না। সীজনে এসব হোটেল তিন মাস

স্বাগত হিজরি নববর্ষ ১৪৩৯

১৪৩৮ হিজরি সনের বিদায়ের সাথে সাথে কালপরিক্রমায় এলো আরেকটি নতুন বছর। স্বাগত হিজরি নববর্ষ ১৪৩৯। বিশ্বের কোটি মুসলমানদের মাঝে আজ বয়ে যাচ্ছে খুশির আনন্দধারা। বছর

চলতি পথের বিপদ ও ট্রেনযাত্রীর নিরাপত্তা

বাংলাদেশে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে মানুষ মারার ঘটনা বহুদিনের পুরনো। এ বিষয়ে যাত্রীকে সচেতন করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দায়ীদের বিচার ও ট্রেনের যাত্রীদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানের নাগরিক দাবিও বহু পুরনো। রেল মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পর্যাপ্ত না হলেও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং গণমাধ্যমও চলন্ত

হিজরি নববর্ষে আমাদের প্রত্যাশা

সময়ের পরিক্রময়া আমাদের মাঝে উপস্থিত হিজরি বর্ষ ১৪৩৯। হৃদয়ের সকল ভালোবাসা আর উষ্ণতা দিয়ে স্বাগত জানাই হিজরি সনের নতুন বছরকে। নিজেদের অস্তিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশ্বমুসলিমকে নবচেতনায় উদ্দীপ্ত করতে হিজরি নববর্ষ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সকল আচার অনুষ্ঠান ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধি–বিধান এবং ইবাদত হিজরি তারিখের

মানবতার কান্না রোহিঙ্গা সমস্যা

১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন মিয়ানমারের গণতন্ত্রের নেত্রী কারাবন্দী অং সান সু চি। ২০১২ সালে সু চি পুরস্কার আনতে নিউইয়র্কে পৌঁছলে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর প্রদত্ত ভাষণে সেদিন তিনি বলেছিলেন, “চূড়ান্তভাবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বাস্তুচ্যুত, গৃহহীন ও আশাহীন মানুষমুক্ত একটি পৃথিবী নির্মাণ। তা