নিজস্ব সংবাদদাতা হ ফটিকছড়ি

গত ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে ফটিকছড়ির ভুজপুর থানাধীন হারুয়ালছড়িতে এক গৃহবধূকে ঘরে ঢুকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গৃহবধূকে রক্ষা করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় গৃহবধূর শ্বশুরও গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে উক্ত ব্যক্তির নাড়িভুড়ি বের করে ফেলেছে। তিনি বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে ঘটনাটি ডাকাতি না অন্য কোনো বিষয়- তা এখনো পরিষ্কার নয়।
স্থানীয় ও ভুজপুর থানা পুলিশ সূত্র এবং সরজমিনে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল রাত প্রায় ১টার দিকে হারুয়ালছড়ি ইউপির মহানগর এলাকার ভুবন মহাজন বাড়ির মিলন কান্তি দে’র (৫৫) ঘরের পেছনের দেয়াল টপকে ছাদের উপর দিয়ে দুর্বৃত্ত দল তাদের ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় প্রবাসী রূপন কান্তি দে’র স্ত্রী গৃহবধূ মামনি বালা দে (২৫) তার শোয়ার ঘরে একাই ঘুমাচ্ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তলপেটে ছুরিকাঘাত করে মামনি বালাকে জবাই করে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। এসময় মামনির চিৎকারে পাশের কক্ষ থেকে শ্বশুর মিলন কান্তি দে বের হয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তার নাড়িভুড়ি বের করে ফেলে। এসময় অবস্থা বুঝে গৃহবধূর শাশুড়ি তার এক বছর বয়সী নাতনিকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় পাশের বাড়ির সানি (১৯) নামের এক দুর্বৃত্তকে চিনে ফেলেন। তিনি ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলেও দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ভুজপুর থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা গুরুতর আহত মিলন দে’কে উদ্ধার করে দ্রুত চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ মামনি বালার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তশেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে পরিবারের লোকজন রবিবার রাতে পারিবারিক শ্মশানে তার লাশ সৎকার করেন বলে জানা গেছে। এদিকে দৃর্বৃত্তরা ঘর থেকে যাবার সময় দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি টর্চ লাইট নিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভুজপুর থানার ওসি শেখ মো.আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনার পর পরই উক্ত এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে শাশুড়ি রত্না রাণী দে’র শনাক্ত করা পাশের বাড়ির অমর দাশের ছেলে সানি দাশ (১৯) ও শ্যামল দে’র ছেলে তয়ন দে’কে (২২) রাতেই গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে পুলিশ হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরিসহ বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে ভুজপুর থানার ওসি শেখ আব্দুল্লাহ্ জানিয়েছেন।
নিহত গহবধূর স্বামী রূপন চন্দ্র দে ১৪ এপ্রিল বিকেলে দুবাই থেকে দেশে এসে পৌঁছেছেন। জানতে চাইলে মামলার বাদি রুপন কান্তি জানান- আমি আমার দেড় বছরের অবুঝ শিশুর কান্না সইতে না পেরে দেশে চলে এসেছি। এলাকার কারো সাথে আমাদের কোন প্রকারের বিরোধ বা শত্রুতা নেই। কেন, কি কারণে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা বুঝছি না। তিনি উক্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন।
রুপন কান্তি দে বাদি হয়ে ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় উল্লেখিত দুইজনকে আসামি করে ভুজপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-৩, ধারা-৩২৬/৩০২/৩৪দ.বি.)। ভুজপুর থানার ওসি শেখ মো.আব্দুল্লাহ্র নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার মূল আসামি দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। তাদের গতকাল ১৫ এপ্রিল আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি এ ঘটনার পেছনে আরো কারা আছে কিনা বা কোন গড ফাদার আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

Share