নিজস্ব সংবাদদাতা , বাঁশখালী

বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা, সরকারি জায়গা জমি ও চরদখল, লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ সরল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার পশ্চিমে গতকাল সোমবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে আবুল কালাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি ডাকাতের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পরে দু’ডাকাত গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ৮/১০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আবুল কালাম দক্ষিণ সরল গ্রামের আব্দুল ছালাম মিয়াজী বাড়ীর কবির আহমদের ছেলে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সকাল ১০ টার দিকে বাঁশখালী থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
বাঁশখালী থানায় কর্মরত এস.আই মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানায় খুনের মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দু’গ্রুপের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ খুনের ঘটনার পর এলাকার থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দুই ডাকাত গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে ইয়াবা ব্যবসা, লবণ মাঠ, জেগে উঠা চর, চিংড়ি ঘের দখল ও ফিশিং বোটে ডাকাতির মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গতকাল সোমবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ডাকাত দলের সদস্যরা ২নং ওয়ার্ডে আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার পশ্চিম পার্শ্বে (ফকিরা মাদ্রাসা) হোসাইন সড়কের উপর আবুল কালামকে লক্ষ্য করে গুলি করে। বুকে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। স্বজনরা তাঁকে বাঁশখালী হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুনের ঘটনার খবর পেয়ে জাফর আহমদ মেম্বার ও মোহাম্মদ মোনাফ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়ে গুলি বিনিময় করেন। এতে দু’জনই আহত হন।
কিছুদিন পূর্বে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তৈয়ব উল্লার মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। একে কেন্দ্র করে মোনাফ ও জাফরের মধ্যে অস্ত্রের মহড়া শুরু হয়। এই মহড়া থেকেই খুনের ঘটনা ঘটে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ডাকাত জাফরের পোশাক পরে আবুল কালাম নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। আবার স্থানীয়ভাবে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে আবুল কালাম খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্রে জানায়।
নিহতের বড়ভাই আবুল হাছান মিয়াজী বলেন, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বাজারে ঔষধ আনতে গিয়ে পথের মধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন গুলি করে আবুল কালামকে হত্যা করেছে। খুনের ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বের মামলা ছিল। নিহত আবুল কালাম ঐ মামলার বাদি ছিল। এ কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে। তার দু’টি সন্তান রয়েছে।
সরল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ সরলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি মারা গেছে। ঐ এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক পক্ষের হামলায় আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি পাঁজরে ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে দুটি মামলা রয়েছে। সে জাফর মেম্বারের লোক বলে পরিচিত ছিল। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

Share