নীড়পাতা » প্রথম পাতা » মঙ্গল শোভাযাত্রায় ‘বিপন্ন কর্ণফুলী’

মঙ্গল শোভাযাত্রায় ‘বিপন্ন কর্ণফুলী’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাদ আছে এক রাজকন্যা নদীতে ¯œানকালে তার একটি কানফুল পানিতে পড়ে হারিয়ে যায়। তখন থেকে নদীটির নামকরণ হয়ে যায় কর্ণফুলী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রায় উপজিব্য করা হয় ঐতিহাসিক সেই ঘটনাকে। শোভাযাত্রায় দেখা যায় এক নারীর এক কানে দুল, অন্যটি খালি। চোখে ঝরছে জল। মূলত বিপন্ন কর্ণফুলীকে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন। দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত কর্ণফুলী নদী। হারিয়ে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। তাই কর্ণফুলী কাঁদছে। নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচানোর এমন আকুতি। ‘নন্দিত স্বদেশ নন্দিত বৈশাখ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রায় যোগ দিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। পহেলা বৈশাখের দিন নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন শুরু হয় ২০০৬ সাল (১৪১৩ সন) থেকে। উদ্যোক্তা ছিল চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম চারুশিল্পী সম্মিলন’। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে বাঙালির মঙ্গল শোভাযাত্রা। সময়ের পরিক্রমায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় বর্ষবরণের আয়োজনে এ শোভাযাত্রা অনন্য মাত্রা পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের শোভাযাত্রা বর্তমানে এখানকার প্রধান মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ১৪২৬ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানিয়ে বের করা হয়েছে শোভাযাত্রা।
গত রোববার পহেলা বৈশাখ সকাল ১০টায় নগরীর সার্সন রোডে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এটি কাজীর দেউড়ি, প্রেসক্লাব, সার্সন রোড প্রদক্ষিণ করে।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় বড় আকারের মাছ, নৌকা-সাম্পান, হরেক রঙের মুখোশসহ নানান প্রতিকৃতি নিয়ে চারুকলার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
এ আয়োজন ঘিরে গত একমাস ধরে ব্যস্ত সময় কেটেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের। নানা রঙ ও উপাদান দিয়ে হরেক রকম প্রতিকৃতি তৈরি করেন তারা।

Share